পঞ্চায়েত সংবাদ 

দল যা দায়িত্ব দেবে, তাই পালন করব, জয়ের পর বললেন ফারহাদ

শেয়ার করুন
  • 14
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শেখ মিজানুর রহমানঃ

দল আস্থা রেখেছিল তাঁর উপর। সেই আস্থার যথাযথ মর্যাদা রাখলেন শিক্ষক নেতা একেএম ফারহাদ। দীর্ঘ চল্লিশ বছরের বাম দুর্গ চূর্ণ করে উত্তর ২৪ পরগনার ৩৬ নম্বর জেলা পরিষদ আসনে ঘাসফুল ফোটালেন তিনি। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সিপিএমের ইমতিয়াজ হোসেনকে ৩০,৪৮৪ বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। এই জয়ে মোটেও উচ্ছ্বসিত নন তৃণমূল কংগ্রেসের এই দাপুটে নেতা। তিনি বলেন, ‘এই জয় আমার দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিলো। জনগণের জন্য আরও অনেক বেশি কাজ করতে হবে আমাকে।’  তবে জয়ের কৃতিত্ব তাঁর নন বলে অকপটে স্বীকার করলেন তিনি। পুরো কৃতিত্বই দিতে চান দল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দলের উত্তর ২৪ পরগনা জেলা সভাপতি তথা রাজ্যের খাদ্য ও খাদ্য সরবরাহ মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক,  তাঁর রাজনৈতিক ‘গুরু’ তথা পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ও স্থানীয় মানুষকে। এই এই জয়ের পর তাঁর প্রতিক্রিয়া, ‘আমি দলের অনুগত সৈনিক হয়েই কাজ করতে চাই। তাই দল যে দায়িত্ব দেবে আমি তা পালন করতে রাজি আছি।’

দেগঙ্গায় ৩৬ নম্বর জেলা পরিষদ আসনে ৪০ বছরের বাম দুর্গ সহজে চূর্ণ হয়ে কিভাবে ঘাসফুল ফুটল?- সেই রহস্য সম্পর্কে জানাতে গিয়ে ফারহাদ বলেন, কন্যাশ্রী, রূপশ্রী সবুজ সাথী, খাদ্যসাথী সহ নানান সরকারি প্রকল্পের সুবিধা  ও রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে যে উন্নয়ন হয়েছে, সেই বার্তা প্রত্যেকটি বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছি। সেই সঙ্গে এলাকায় উন্নয়নের আগামিদিনের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানিয়েছি। মানুষ আমাদের কথা বিশ্বাস করেছেন। সেই বিশ্বাস থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতীক ‘জোড়া ফুলে’ ভোট দিয়েছেন।

এলাকার জনপ্রতিনিধি হিসাবে সুখ, দুঃখে সবসময় দেগঙ্গার মানুষের পাশে তিনি থাকবেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষক নেতা। সেইসঙ্গে তিনি বলেন, এই জেলাপরিষদ অাসনটিতে দীর্ঘদিন ধরে বামেরা ক্ষমতায় ছিল। কিন্তু উন্নয়নমূলক কোন কাজই করেনি তারা। তাই এলাকার রাস্তাঘাট, পানীয়জল, শিক্ষা, স্বাস্থ্য থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত করে তা দ্রুত সমাধান করাই তাঁর মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুযোগ সুবিধা থেকে যাতে এলাকার উপযুক্ত কোনও মানুষ বঞ্চিত না হন, সেদিকেও তিনি নজর দেবেন বলে জানিয়েছেন। রাজনৈতিক দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, দলের একজন অনুগত সৈনিক হিসেবে সারা জীবন কাজ করতে চান তিনি। তাই দল তাঁকে যে দায়িত্ব দিক না কেন, তা যথাযথভাবে পালন করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন শিক্ষক নেতা একেএম ফারহাদ।

দীর্ঘদিন ধরে রাজ্য হাজ কমিটি ও মাদ্রাসা শিক্ষা পর্ষদের সদস্য হিসেবে সুনামের সঙ্গে কাজ করেছেন শিক্ষক নেতা একেএম ফারহাদ। তৃণমূল কংগ্রেস প্রভাবিত মাদ্রাসা শিক্ষকদের সংগঠনের রাজ্য সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি। তবে জনপ্রতিনিধি হিসেবে এবারই প্রথম কাজ করার সুযোগ হয়েছে ফারহাদের। তাই দল তাঁকে অন্য কোনও দায়িত্ব দেয় কিনা, কিংবা ফারহাদ সাহেব  একজন জনপ্রতিনিধি হিসাবে নিজের দায়িত্ব কতটা পালন করতে পারেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

 


শেয়ার করুন
  • 14
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment