দেশ 

কমলনাথের আত্মবিশ্বাসে ‘সিঁদুরে মেঘ দেখছে বিজেপি ‘‘‘চিন্তা নেই, দশ বছর মুখ্যমন্ত্রী থাকছিই’’ দাবি মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : মধ্যপ্রদেশের কংগ্রেস সরকার কী পতনের মুখে ? কিন্ত কেন নেই কোনো উচ্ছ্বাস বিজেপি শিবিরে ? নাকি কমলনাথের চালে বিজেপি-ই ভাঙতে চলেছে । গতকালই রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে বেরিয়ে এসে সাংবাদিকদের কমলনাথ বলেছিলেন , ‘‘চিন্তা নেই, দশ বছর মুখ্যমন্ত্রী থাকছিই।’’

মধ্যপ্রদেশের শাসক শিবিরের ২২ বিধায়ক ইস্তফা দিয়েছেন। জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। তবু ব্যক্তিটি যে হেতু কমল নাথ, নিজেদের উপর বিজেপিরও ষোলো আনা ভরসা নেই। বিজেপির অনেকেই বলছেন, ‘‘বলতে পারেন মধ্যপ্রদেশে সরকার ফেলার সম্ভাবনা ৮০ ভাগ। ২০ ভাগ পথ পেরোনো এখনও বাকি। সব নির্ভর করছে ইস্তফা দেওয়া বিধায়কদের উপর, আর কমল নাথ কী করেন!’’

কমল নাথ-দিগ্বিজয় সিংহরা গোড়ার দিন থেকে বলছেন, এ ভাবে ইস্তফা দিলে তা গ্রহণ হয় না। সশরীর এসে বিধানসভার স্পিকারের হাতে তুলে দিতে হবে। রাজ্যপাল লালজি টন্ডনের কাছে শুক্রবার কমল নাথ তিন পাতার চিঠি দিয়েছেন। অভিযোগ করেছেন, ঘোড়া কেনাবেচা হচ্ছে। চার্টার্ড বিমানে বিধায়কদের নিয়ে গিয়ে জোর করে আটকে রেখেছে বিজেপি। পরিবারের লোকদের সঙ্গেও দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। এ ভাবে আটক থেকে কি ভাবে সদিচ্ছায় ইস্তফা দিতে পারেন?

কংগ্রেসের এক নেতা বললেন, ‘‘রাশ স্পিকারের হাতেই। স্পিকার যত ক্ষণ ইস্তফা নিয়ে সন্তুষ্ট না হচ্ছেন, তা গৃহীত হবে না। আর সেটা না হলে আস্থা ভোটই বা কী করে হবে?’’

প্রতিবেশী রাজ্য কংগ্রেস শাসিত রাজস্থানে করোনা-আতঙ্কে বিধানসভা মুলতুবি করে দেওয়া হয়েছে ২৬ মার্চ পর্যন্ত। মধ্যপ্রদেশও সে পথে হাঁটবে, কংগ্রেস থেকে জানানো হল সকাল থেকে। প্রশ্ন করা হল কমল নাথকেও। স্পষ্ট জবাব এড়িয়ে বললেন, ‘‘ভাইরাস তো রাজ্য-রাজনীতিতে। আস্থা ভোট তো হবে, রাজ্যপালের বক্তৃতায়, বাজেটে। কিন্তু তখনই হবে, যখন ইস্তফা দেওয়া বিধায়কেরা আসবেন।’’ কংগ্রেস জানাচ্ছে, কমল নাথই জানেন, কী ভাবে সময় বাড়ানো যায়! তিনিই জানেন, ইস্তফা দেওয়া বিধায়কদের মন বদলাতে। তিনিই জানেন, বিজেপিকেও কী করে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষে ভাঙিয়ে আনা যায়!

রাজ্যের আর্থিক অপরাধ শাখা শুক্রবারই সিন্ধিয়ার বিরুদ্ধে জমি কেলেঙ্কারির অভিযোগে ফের তদন্ত শুরু করেছে। ১০ হাজার কোটি টাকার জমি কেলেঙ্কারি মামলায় অভিযোগ, একই জমি বার বার বেচা হয়েছে। সরকারি জমিও বেচে দেওয়া হয়েছে। ঘুঁটি সাজাচ্ছেন কমল। ‘অপারেশন কমল’ ভেস্তে দিতে। গত কাল দলে স্বাগত জানিয়ে সিন্ধিয়াকে ‘বিভীষণ’ বলেছিলেন শিবরাজ সিংহ চৌহান। মুচকি হেসে কমল বলেন, ‘‘শিবরাজ ঠিক বলেছেন। সিন্ধিয়া কেন দল ছাড়লেন, তিনিই জানেন।’’

গতকালই রাজ্যপালকে চিঠি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী কমলনাথ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি আস্থা ভোট নিতে চলেছেন । তার আগে সব বিধায়ককে ভোপালে হাজির করাতে হবে । বিধানসভার ভেতরে তিনি আস্থা ভোট নেবেন । একই সঙ্গে আস্থা ভোটে জিতবেন বলেও জানিয়ে দিয়েছেন । আর কমলনাথের আস্থা ভোট চাওয়ার দাবি সামনে আসার পরেই বিজেপি চুপসে গেল । বিজেপি কোনো নেতা এখন আর সেই দাবিতে গলা ফাটাচ্ছেন না । কারণ আস্থা ভোটেই কী ভাঙন ধরবে বিজেপিতে ? কংগ্রেস ভাঙতে গিয়ে শেষে ভেঙে যাবে না তো বিজেপি । সেই প্রশ্নই এখন অমিত শাহদের মাথা-ব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ।

 


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment