কলকাতা 

বিকাশের বিরুদ্ধে ‘ নির্দল’ দিনেশ , বাংলার রাজনীতিতে বিজেপির উত্থানের জন্যই কী এমন সিদ্ধান্ত মমতার ?

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক :  রাজ্যসভায় নির্দল প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী দিনেশ বাজাজ । আগে কংগ্রেস করতেন । পরে তৃণমূলে যোগ দেন । বেশ কয়েকবার বড়বাজার থেকে বিধায়কও হয়েছেন । তিনি এখন পঞ্চম আসনে প্রার্থী হয়েছেন । অর্থাৎ সিপিএম ও কংগ্রেস প্রার্থী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যকে হারানোর চেষ্টা করবেন দিনেশ ।

কিন্ত কেন এমন সিদ্ধান্ত নিলেন তৃণমূল নেত্রী ? তাঁর সংখ্যা নেই এটা জেনেও বাম প্রার্থীকে হারানোর লক্ষ্যে এই কাজ কী করা উচিত হয়েছে ? কারণ একটাই তৃণমূল দল ভেঙে যেসব বিধায়ক বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন তাদেরকে ঐক্যবদ্ধ করা । একই সঙ্গে সেই সব বিধায়কদের ভোট যাতে দিনেশ বাজাজ পায় সেদিকে লক্ষ্য রাখা ।

বিধানসভায় দলীয় শক্তির বিচারে চার প্রার্থীর জয় নিশ্চিত করতে পারবে তৃণমূল। তার পরে তাদের হাতে থাকবে অতিরিক্ত ১১ বিধায়কের ভোট। রাজ্যসভায় জয়ের জন্য প্রার্থী পিছু প্রয়োজন ৪৯টি ভোট। তৃণমূলের অতিরিক্ত ১১, জোটসঙ্গী গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার দুই, বাম ও কংগ্রেস থেকে তৃণমূলে যাওয়া ১৭ জনকে ধরলে দীনেশের ভোট দাঁড়াবে ৩০। বিজেপিতে চলে যাওয়া তৃণমূলের ৭ জনের ভোট হিসেবে আনলেও দীনেশের হচ্ছে ৩৭ ভোট। তর্কের খাতিরে, বাম ও কংগ্রেসের ৫১ থেকে যদি গোটাসাতেক ভোট দীনেশের পক্ষে ভাঙানো হয়, তখন জোটের প্রার্থী বিকাশ ভট্টাচার্য ও নির্দল প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট সমান হতে পারে। এবং তখন দ্বিতীয় পছন্দের ভোটের জেরে দীনেশ বেরিয়ে যেতে পারেন।

এই পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে বিজেপির ভূমিকাও। আগের দিন মনোনয়নপত্র তুলে রাখলেও বিজেপি শেষ পর্যন্ত কোনও প্রার্থী দেয়নি। দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, ‘‘যে দিন আমাদের শক্তি হবে, সে দিন প্রার্থী দেব।’’ কোনও দলকেই তাঁরা সমর্থন করছেন না বলে জানিয়েছেন দিলীপবাবু। তবে রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসুর মন্তব্য, ‘‘আমরা তৃণমূল, বাম বা কংগ্রেসকে সমর্থন করব না। কিন্তু নির্দলকে সমর্থন করতে তো বাধা নেই! সংসদীয় বোর্ডের মত জেনে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’’ বিজেপির প্রতীকে নির্বাচিত বিধায়ক এখন ৬ জন। এ ছাড়াও ১০ জন আছেন, যাঁরা অন্য দল থেকে বিজেপিতে গিয়েছেন। দীনেশের হার-জিতের অঙ্ক অনেকটাই নির্ভর করবে বিজেপির বিধায়কদের ভূমিকার উপরে।

ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিকে মজবুত করার যে আহ্বান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার করছিলেন তা কী মেকি ? নাকি রাজনীতির স্বার্থেই মমতাকে উল্টো পথে হাঁটতে হল । ২০১৪ সালে বাম-কংগ্রেস প্রার্থী আহমদ সায়ীদ মালিয়াবাদীকেও এভাবে হারানো হয়েছিল । নিশ্চিত জয়কে হারিয়ে দিয়ে আসলে মমতার কী বিজেপির হাতকেই শক্ত করতে চাইছেন ? এটাই এখন বাংলার মানুষের প্রশ্ন ।

 


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment