কলকাতা 

জান-মালের নিরাপত্তার কারণে বামেদের সমর্থন করেছিল সংখ্যালঘুরা ; মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার সংখ্যালঘু উন্নয়নে খানিকটা কাজ করেছে ; লোকসভা ভোটেও সংখ্যালঘুদের সমর্থন পাবে তৃণমূল : মাসুম আখতার

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মাসুম আখতার  যাদবপুর এলাকার এক উচ্চ-মাধমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক । প্রধান শিক্ষক হিসাবে তাঁর সাফল্য নজর কাড়া । তাঁর অসাধারন সাফল্যের স্বীকৃতি স্বরূপ রাজ্য সরকার তাঁকে শিক্ষারত্ন সম্মান দিয়ে সম্মানিত করেছে । কলকাতা থেকে প্রকাশিত এক বহুল প্রচারিত সংবাদ মাধ্যমও তাঁকে সেরা প্রধান শিক্ষকের সম্মান দিয়েছে । তিনি শুধু প্রধান শিক্ষক হিসাবেই নন , তিনি সমাজ দেশ ও তাঁর সমাজের উন্নয়নের জন্য বাস্তবমুখী চিন্তাভাবনা করে থাকেন । একই সঙ্গে তিনি একজন সমাজ সচেতন লেখক । কলকাতার বিভিন্ন নামকরা সংবাদপত্রে তিনি কলাম লেখেন । এহেন একজন সমাজ সচেতন সংখ্যালঘু দরদী বুদ্ধিজীবী শেষ দফার ভোটের আগে বাংলার জনরবের মুখোমুখি হয়েছেন

 

প্রশ্ন : শেষ দফার ভোটে রাজ্যের সংখ্যালঘুরা কোন দলকে সমর্থন করবে বলে আপনি মনে করেন ?

মাসুম : শেষ দফায় ৯টি কেন্দ্রে ভোট হবে । কলকাতার দুটি কেন্দ্রে উর্দুভাষী মুসলমানরা তৃণমূলকেই ভোট দেবে । আর বাকী ৭টি কেন্দ্রে বাংলাভাষী মুসলমানরাও তৃণমূলকেই সমর্থন দেবে । কারণ এখনও রাজ্যে তৃণমূলের বিকল্প কোনো ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক দল নেই । সিপিএম সংখ্যালঘুদের জানমালের নিরাপত্তা দিতে পারবে না । কংগ্রেসও পারবে না । যেভাবে বিজেপি এই রাজ্যে দ্রূত উঠে আসছে তাতে অবশ্যই মুসলমানরা বেশি করে তৃণমূলের দিকে ঝুঁকবে বলে আমার বিশ্বাস ।

প্রশ্ন : ৩৪ বছর বামেদেরকে এই রাজ্যের মুসলমানরা সমর্থন করেছিল । কিন্ত কিছুই পায়নি । তৃণমূলকে সমর্থন করে রাজ্যের মুসলিমদের লাভ হচ্ছে কি ?

মাসুম : দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এই রাজ্যের মুসলিমরা নিজেদের জান-মালের হেফাজত করতে ব্যস্ত ছিল । সবচেয়ে বেশি দাঙ্গা হয়েছে কংগ্রেস আমলে । এই সময় রাজ্যের মুসলিমরা প্রতিনিয়ত নিজেদের অস্তিত্ব নিয়ে চিন্তায় থাকত। আর বামেরা এই সুযোগ নিয়েছিল । তাদের আমলে রাজ্যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়নি বললেই চলে । তাই মুসলমানরা নিজেদের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে সিপিএমকে ৩৪ বছর ধরে সমর্থন করে গেছে । কিন্ত চাকরি –বাকরি থেকে সামাজিক উন্নয়ন তাদের এই সময় হয়নি বললেই চলে । তারপর মুসলিমদের সমর্থন চলে গেল মমতার দিকে । মমতা ক্ষমতায় আসার পর থেকে মুসলিমদের উন্নয়নে খানিকটা কাজ করেছে এটা স্বীকার করতেই হবে ।

প্রশ্ন : রাজ্যের ১২৫ টি বিধানসভা কেন্দ্রের জয়-পরাজয় নির্ভর করে মুসলিম ভোটের উপরে তাহলে মুসলিমরা কেন নিজেদের উন্নয়নের দাবিতে সরব হচ্ছে না ?

মাসুম : কে সরব হবে ? মুসলিমদের সমাজ দরদী নেতা কোথায় ? যারা আছেন তারা নিজেদের স্বার্থকে বড় করে দেখেন ফলে সুযোগ থাকা সত্ত্বে তা নিতে পারছে না মুসলিমরা । যেসব নেতা আছেন তাদের বেশিরভাগই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কাছে বিকিয়ে যায় । আর সত্যিকার অর্থে যারা সমাজের জন্য ভাবছেন তাদেরকে নানাভাবে পিছিয়ে দেওয়া হয় । আর ধান্দাবাজদের হাত থেকে মুসলিম সমাজ বেরিয়ে আসতে না পারলে এই সমাজের উন্নয়ন সম্ভব নয় । এরা প্রতিটি রাজনৈতিক দলের কাছে প্রতারিত হতে থাকবে । অথচ  রাজ্যের ১২৫টি বিধানসভা কেন্দ্রকে নিয়ন্ত্রণ করে মুসলিমরা ।

প্রশ্ন : ৩৪ বছরের বাম শাসন আপনি দেখেছেন ; আট বছরের তৃণমূল শাসন আপনি দেখছেন । কোন শাসনে মুসলিমদের সার্বিক উন্নয়ন হয়েছে বলে আপনি মনে করেন ?

মাসুম : সার্বিক উন্নয়ন বলতে যা বোঝায় তা হয়নি । তবে একথা স্বীকার করতে হবে বামেদের তুলনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে উন্নয়ন অনেকটা হয়েছে । বিশেষ করে মুসলিম এলাকায় উন্নয়ন দেখতে পাওয়া যাচ্ছে । আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আন্তরিকভাবে উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন । এনিয়ে কোনো সন্দেহ নেই । একইসঙ্গে তিনি একাই বিজেপি ও মোদীর বিরুদ্ধে লড়ে যাচ্ছেন যা দেশের ইতিহাসে বিরল । এই কারণেই হয়তো তাঁর জনপ্রিয়তা বিন্দুমাত্র এখনও কমেনি ।


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment