প্রচ্ছদ 

নিট-বিক্ষোভ নিয়ে সমস্ত মামলা প্রত্যাহার, মুক্তি দেওয়া হবে ধৃতদের! বিহারের পর সিদ্ধান্ত বিজেপি শাসিত অসমেও

শেয়ার করুন

বিহারের পর এ বার অসম সরকারও ধৃত আন্দোলনকারীদের মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। তাঁদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সব মামলাও প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। সোমবার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এমনটাই জানাল হিমন্ত বিশ্বশর্মার সরকার।

নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে সাম্প্রতিক বিক্ষোভের ঘটনায় বিভিন্ন রাজ্যে আন্দোলনকারীদের ধরপাকড় করা হয়। তা নিয়ে সোমবারই কেন্দ্রকে হুঁশিয়ারি দেয় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। তাদের বক্তব্য, নিট-কাণ্ডের প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে ধৃত প়ড়ুয়াদের মুক্তি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল কেন্দ্র। বলা হয়েছিল, তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর খারিজ করা হবে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ, বিহার এবং অসমে সোমবার পর্যন্ত ‘ধরপাকড়’ চলেছে বলে অভিযোগ করে সিজেপি। নতুন করে আন্দোলনেরও হুঁশিয়ারি দেয় তারা।

ঘটনাচক্রে, সিজেপি-র ওই হুঁশিয়ারির কয়েক ঘণ্টা পরেই বিহার সরকারের একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ্যে আসে। জানানো হয়, বিহারে ধৃত নিট-আন্দোলনকারীকে মুক্তি দেওয়া হবে। তার কিছু পরে অসম সরকারেরও একটি বিবৃতি প্রকাশ্যে আসে। সেখানে বলা হয়, রবিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত নিট-কাণ্ডের প্রতিবাদে বিক্ষোভের জেরে অসমে মোট পাঁচটি মামলা রুজু হয়েছে। তাতে ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ কথা উল্লেখ করে চার দফা সিদ্ধান্তের কথা জানায় অসম সরকার।

হিমন্তের সরকার জানিয়েছে, নিট-বিক্ষোভের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে অসম পুলিশ বা সে রাজ্যের অন্য তদন্তকারী সংস্থা কোনও আইনি পদক্ষেপ করবে না। রুজু হওয়া ওই মামলাগুলি যে পর্যায়েই থাকুক না কেন— তা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া অবিলম্বে শুরু হবে। যাঁদের পাকড়াও করা হয়েছে, তাঁদের গ্রেফতারির বিষয়টি পর্যালোচনা করে মুক্তির প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হবে। বিক্ষোভে জড়িতদের বিরুদ্ধে আর কোনও পদক্ষেপ করা হবে না বলেও আশ্বস্ত করেছে অসম সরকার।

সিজেপি সোমবার বিজেপিশাসিত যে তিন রাজ্যে ‘ধরপাকড়ের’ অভিযোগ তুলেছিল, তার মধ্যে দুই রাজ্য ইতিমধ্যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নিজেদের অবস্থান জানিয়ে দিয়েছে। ধৃতদের মুক্তি দেওয়া এবং তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এমন কোনও সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসেনি।

প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে গত শুক্রবার কলকাতার ধর্মতলায় এক মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল। তাতে বিশৃঙ্খলার অভিযোগ ওঠে। মিছিলে যোগদাতাদের একাংশ মারমুখী হয়ে ওঠেন। আক্রান্ত হন সংবাদকর্মীরাও। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই জানিয়েছেন, ধর্মতলার মিছিলে ইচ্ছাকৃত ভাবে অশান্তি পাকানো হয়েছে। পুলিশ অন্তত ৭০ জনকে চিহ্নিত করেছে, যাঁরা ছাত্র বা ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সদস্য নন। নিট-আন্দোলনের সঙ্গেও তাঁদের কোনও সম্পর্ক নেই। ওই অশান্তির ঘটনায় সোমবার পর্যন্ত ১৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ঘটনাচক্রে, সোমবারই জলপাইগুড়ি থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন,“দেশবিরোধী টুকরে টুকরে গ্যাং, সেকু আর মাকুরা জেগে উঠেছে।” তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে রাষ্ট্রবাদীদের একজোট হওয়ার বার্তা দেন তিনি।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ