কলকাতা 

কসবার আইন কলেজে ধর্ষণ কান্ডের তদন্তে খুশি নির্যাতিতার পরিবার!

শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিনিধি : কসবার আইন কলেজের অভ্যন্তরে এক ছাত্রীর ধর্ষণ কাণ্ডে কলকাতা পুলিশের তদন্তে সন্তোষ প্রকাশ করেছে নির্যাতিতার পরিবার। কলকাতা হাইকোর্টে পরিবারের পক্ষ থেকে হলফনামা দিয়ে বলা হয়েছে, পুলিশি তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে তাঁদের কোনও অসন্তোষ নেই। এই অবস্থায় জনস্বার্থ মামলা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নির্যাতিতার পরিবারের আইনজীবীরা।

বৃহস্পতিবার বিচারপতি সৌমেন সেন ও বিচারপতি মিতা দাস দে-র ডিভিশন বেঞ্চে এই সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে রাজ্যের পক্ষে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, আদালতে সিল করা খামে তদন্ত সংক্রান্ত রিপোর্ট ও ১৬৪ ধারায় নির্যাতিতার গোপন জবানবন্দি পেশ করা হয়েছে।

Advertisement

নির্যাতিতার পরিবারপক্ষের আইনজীবী অরিন্দম জানা বলেন, “এখনও পর্যন্ত সিট-এর বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ নেই। তবে আদালত অনুমতি দিলে আমরা তদন্তের অগ্রগতির প্রতিবেদন দেখতে চাই।”

এই প্রসঙ্গে বিচারপতি স্পষ্ট জানান, তদন্ত সংক্রান্ত তথ্য শুধুমাত্র নির্যাতিতার পরিবারকে জানাতে পারবে রাজ্য সরকার। ওই রিপোর্ট সংবাদমাধ্যম বা অন্য কোনও সংস্থাকে দেওয়া যাবে না। তদন্তের তথ্য আদালতের হেফাজতে রাখা হবে এবং রাজ্যকে চার সপ্তাহ পর তদন্তের অগ্রগতির রিপোর্ট জমা দিতে হবে।

এদিনই আদালতে কসবা থানার ওসি মনোজিৎ মিশ্রর বিরুদ্ধে অতীতে থানায় দায়ের হওয়া অভিযোগ সংক্রান্ত রিপোর্ট পেশ করেন। জনস্বার্থ মামলাকারী আইনজীবী সৌম্য শুভ্রা রায়ের পিআইএল-এ অভিযোগের বিষয়ে ওসি কসবা থানা পুলিশের রিপোর্ট জমা দেয়।।কলেজ প্রশাসন সৌম্য শুভ্রা রায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে হলফনামাও দাখিল করেনি। কলেজ ও রাজ্য সরকার-সহ অন্যান্য পক্ষকে আগামী ১৭ জুলাইয়ের মধ্যে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, মামলার আর এক আবেদনকারী আইনজীবী ফিরোজ এডুজি আদালতে বলেন, “আসামিদের কোমরে দড়ি বেঁধে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যা মানবাধিকার লঙ্ঘনের সামিল। তদন্তে একাধিক ত্রুটি রয়েছে, তাই এটি সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়া হোক।”

এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বিচারপতি সৌমেন সেন বলেন, “যদি অভিযুক্তরা মনে করেন তাঁদের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে, তবে তাঁরা নিজে আইনজীবী নিযুক্ত করে আদালতে বলতে পারেন। এর জন্য আলাদা করে আদালতের অনুমতির প্রয়োজন নেই।”এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী ১৭ জুলাই।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ