কলকাতা 

অভিষেকের বাড়ির সামনে নতুন করে উত্তেজনা! মমতা বেরিয়ে এসে ইস্তফা চাইলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দের!

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে নতুন করে শুরু হল উত্তেজনা। আর তখনই বাড়ির ভিতর থেকে বেরিয়ে এলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ঘটনা নিয়ে আবার আঙুল তুললেন পুলিশের দিকে। ইস্তফা দাবি করলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দের। জানিয়ে দিলেন, তাঁদের কাজ করতে দেওয়া না হলে মামলা করবেন।

শুক্রবার রাতের ঘটনার পরে অভিষেকের বাড়ির সামনে ১৬৩ ধারা জারি করা হয়। তার মাঝে শনিবার দুপুরে আবার ওই এলাকায় চাপানউতর শুরু হয়। রাস্তা দখল করে অভিষেকের জন্মদিন পালন করা হচ্ছে, এই অভিযোগ তুলে শনিবার কালীঘাটের পটুয়া পাড়ায় বিক্ষোভ দেখান কয়েক জন। তাঁরা দাবি করেন, সাংসদের বাড়ির সামনে রাখা ব্যারিকেড সরিয়ে দিতে হবে। মমতাপন্থী তৃণমূলের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা বিজেপির কর্মী। সে সময়ই অভিষেকের বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন মমতা। শুক্রবার রাতে হামলার পরে শনিবার দুপুরে সেখানে গিয়েছিলেন তিনি। বাড়ি থেকে বেরিয়ে একটি চেয়ারের উপরে উঠে দাঁড়িয়ে মাইক হাতে তুলে নেন। একের পর এক তোপ দাগেন পুলিশের দিকে।

প্রথমেই মমতা জানান, কালীঘাটের পটুয়াপাড়ায় বহু মানুষ প্রতিমা কিনতে আসেন। তাই ব্যবসার যাতে কোনও ক্ষতি না হয়, সে দিকে নজর রাখতে হবে। তাঁর আশ্বাস, ‘‘আপনারা নিশ্চিন্তে ব্যবসা করুন।’’ মমতা জানান, অভিষেকের সঙ্গে যাঁরা দেখা করতে যাবেন, তাঁরা রাস্তার বাঁ দিক ধরে চলবেন। ডান দিক গাড়ি চলাচলের জন্য খুলে রাখা হবে। তার পরেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, ‘‘আমি থাকছি।’’ তাঁর কথায়, কেউ অভিষেককে শুভেচ্ছা জানালে অবশ্যই স্বাগত জানানো হবে। কিন্তু কিছু মানুষকে ‘প্রলোভন’ দেখিয়ে পাঠানো হচ্ছে। মনে করা হচ্ছে, নাম না করে বিজেপি-কেই নিশানা করেন মমতা।

তার পরেই মমতা আবার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কালীঘাট থানার পুলিশকে। তাঁর কথায়, ‘‘কালীঘাট থানার ওসি, বাড়ি, পরিবার, থানার টেক কেয়ার করুন। কালীঘাট মন্দির রয়েছে। কোটি কোটি মানুষ যায় সেখানে। খেয়াল রাখুন।’’ সেখানেই থামেননি তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘বিজেপির হাতে পুতুল হয়ে চেয়ার হারাতে পারেন!’’ তাঁদের কাজে বাধা দেওয়া হলে কোর্টের দ্বারস্থ হবেন বলেও জানিয়েছেন মমতা। তাঁর কথায়, ‘‘মাঝরাত থেকে অ্যাট্রোসিটি করছে (পুলিশ)। বৈশ্বানর (চট্টোপাধ্যায়) পুলিশের বিরুদ্ধে কেস করো, যাতে প্রমোশন না পায়।’’

শনিবার অভিষেকের বাড়ির প্রবেশের সময় কালীঘাটের ঘটনায় মমতা সরাসরি কাঠগড়ায় দাঁড় করান থানার ওসি বলাই বাগকে। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘ কয়েকটি থানা যা করে বেড়াচ্ছে! এখানে (কালীঘাট থানা) নতুন এক জনকে আনা হয়েছে। সব জানি বলাইবাবু! আপনার কী ক্ষমতা, কত প্রোমোশন পাবেন!’’ এর পরেই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘‘আপনি পান। আপনার পরিবার ভাল থাকুক। আপনাকে শুভ দীপাবলি। মনে রাখবেন, জনরোষের যদি বিস্ফোরণ ঘটে!’’ পরে আবার সেখানে উত্তেজনা ছড়ালে একই হুঁশিয়ারি দেন মমতা। কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয়কেও নিশানা করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘অজয় নন্দজি, বিনীতকে (গোয়ল) ইস্তফা দিতে হয়েছিল। কারণ তিনি মনে করেছিলেন। মরাল ডিউটি। আপনি করেননি।’’ তার পরে অজয়ের ইস্তফা দাবি করেন মমতা।

মমতা দাবি করেন, তাঁর বাড়ির সামনে ‘বেআইনি ভাবে’ পুজো করা হচ্ছে। যারা নিজেদের ‘সনাতনী’ বলে দাবি করে, তারা পুজোর আগেও হামলা চালাচ্ছে। তাঁর কথায়, ‘‘হিন্দু ধর্মকে আঘাত করবেন না। এ সব খেলা খেলবেন না।’’ মমতার মতে, যে দিন থেকে তাঁরা বিরোধীদের জোট ‘ইন্ডিয়া’-তে যোগ দিয়েছেন, সে দিন থেকেই নিশানা করা হচ্ছে। তাঁর দল যাঁরা করছেন, তাঁদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। ‘ধর্ষণ, খুন, পকসো’ মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ