দুধের নামে চলছিল ভেজালের কারবার! ডায়মন্ড হারবারে পর্দাফাঁস, গ্রেফতার ৩
এস রোজলিন:কলকাতা:দুধের নামে চলছিল ভেজালের কারবার! সাদা পাউডার ও জলের মিশ্রণে তৈরি করা হতো তরল পদার্থ। পরে সেই তরল পৌঁছে যেত শহরতলির বিভিন্ন এলাকার খাটালে। সেখানে আসল দুধের সঙ্গে মিশিয়ে তা সরবরাহ করা হতো বিভিন্ন জায়গায়। এমনই এক ভেজাল দুধ তৈরির চক্রের পর্দাফাঁস করল ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশের কালীতলা আশুতি থানার পুলিশ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে একটি মালবাহী গাড়ি-সহ বিপুল পরিমাণ ভেজাল দুধ তৈরির উপকরণ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে তিনজনকে। পুলিশের এই অভিযানে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোরে গোপন সূত্রে খবর আসে, কালীতলা আশুতি থানা এলাকার কলাগাছিয়া খালের ধারে একটি ফাঁকা জায়গায় ভেজাল দুধ তৈরির কাজ চলছে। সেই খবরের ভিত্তিতে কালীতলা আশুতি থানার এসআই মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ দল সেখানে অভিযান চালায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছতেই হাতেনাতে তিনজনকে আটক করে। এরপর ওই এলাকা থেকে উদ্ধার হয় ভেজাল দুধ তৈরির কাজে ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ সামগ্রী। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে একটি মালবাহী গাড়ি, ৩৪টি নীল রঙের প্লাস্টিকের জার এবং ৩২ প্যাকেট সাদা পাউডার। প্রতিটি জারের ধারণক্ষমতা ৪০ লিটার। উদ্ধার হওয়া সাদা পাউডারের মোট ওজন প্রায় ৬৫ কেজি। পাশাপাশি বেশ কিছু ছোট প্লাস্টিকের প্যাকেট এবং ভেজাল দুধ তৈরির অন্যান্য সরঞ্জামও উদ্ধার করেছে পুলিশ।
এই ঘটনার পর বৃহস্পতিবার রাতে কালীতলা আশুতি থানায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মহেশতলা ইন্ডাস্ট্রিয়াল এসডিপিও ধীমান মিত্র। তিনি উদ্ধার হওয়া সামগ্রী এবং পুলিশের প্রাথমিক তদন্তের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানান।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, উদ্ধার হওয়া সাদা পাউডার জলের সঙ্গে মিশিয়ে প্রথমে একটি তরল পদার্থ তৈরি করা হতো। এরপর সেই তরল শহরতলির বিভিন্ন এলাকার খাটালে পৌঁছে দেওয়া হতো। অভিযোগ, সেখানে আসল দুধের সঙ্গে ওই তরল মিশিয়ে দুধের পরিমাণ বাড়ানো হতো। পরে সেই মিশ্রিত দুধ বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করা হতো। যদিও উদ্ধার হওয়া পাউডারের প্রকৃত রাসায়নিক উপাদান এবং তার ব্যবহার সম্পর্কে নিশ্চিত হতে তদন্তের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরীক্ষার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ধৃত তিনজনের নাম কার্তিক ঘোষ, আমানুদ্দিন ঢালী এবং রামিজ জমাদার।
তবে এই ভেজাল দুধ তৈরির কারবারের পিছনে আরও বড় কোনও চক্র কাজ করছে কি না, তা নিয়েই এখন তদন্তকারীদের নজর। শহরতলির কোন কোন খাটালে এই উপকরণ পৌঁছে দেওয়া হতো, কোথায় কোথায় ভেজাল দুধ সরবরাহ করা হয়েছে এবং এই কারবারের সঙ্গে আরও কারা জড়িত, তা জানার চেষ্টা চালাচ্ছে কালীতলা আশুতি থানার পুলিশ। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর উৎস এবং সরবরাহের গোটা নেটওয়ার্কের সন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশের এই অভিযানের পর খাদ্যপণ্যের বিশুদ্ধতা ও সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

