আন্তর্জাতিক 

সব বাধা পেরিয়ে ইতিহাস গড়লেন আব্দুল এল-সায়েদ, আমেরিকার প্রথম মুসলিম সিনেটর

শেয়ার করুন

এস রোজলিন::কলকাতা:যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্য থেকে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী আব্দুল এল-সায়েদ। রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে হারিয়ে তিনি মার্কিন সিনেটের আসন নিশ্চিত করেছেন। আগামী ৩ জানুয়ারি শপথ গ্রহণের মাধ্যমে তিনি মার্কিন সিনেটের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব নেবেন।

এই জয় সহজ ছিল না। গত আগস্টে ডেমোক্র্যাটিক দলের তীব্র প্রতিযোগিতাপূর্ণ প্রাথমিক নির্বাচনে জয় পেয়েছিলেন এল-সায়েদ। ইসরায়েল সমর্থক লবিং সংস্থা ‘আইপ্যাক’ তাঁর বিরুদ্ধে ৩ কোটি ডলারের বেশি ব্যয় করেও তাঁকে আটকাতে পারেনি। এরপর মূল নির্বাচনে রিপাবলিকান শিবির থেকে তাঁর বিরুদ্ধে লাগাতার ভুয়া ও উসকানিমূলক প্রচারণা চালানো হয়, এমনকি তাঁকে ‘জিহাদি’ বলেও আক্রমণ করা হয়। ভোটের শেষ মুহূর্তে এসে ডেমোক্র্যাটিক দলের সাবেক প্রাথমিক প্রতিদ্বন্দ্বী হ্যালি স্টিভেন্সও রিপাবলিকান প্রার্থী রজার্সকে সমর্থন দেন।

তবুও সব বাধা পেরিয়ে জয় ছিনিয়ে নেন সাবেক জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা এল-সায়েদ। সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা তৈরি, রাজনীতিতে অর্থের প্রভাব দূর করা, গাজায় ইসরায়েলি হামলার বিরোধিতা এবং স্থানীয় অবকাঠামো ও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধিকে তিনি তাঁর নির্বাচনী প্রচারণার প্রধান অগ্রাধিকার করেছিলেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এল-সায়েদের এই জয় যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ঘৃণা ও বিভাজনের রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যান করার এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। এক্সিট পোলের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, মিশিগানের মোট ইহুদি ভোটারদের প্রায় ৬০ শতাংশই ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী এল-সায়েদের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, তাঁর বিরুদ্ধে ভোটারদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টির যে চেষ্টা করা হয়েছিল, তা কাজে আসেনি, উল্টো তা রজার্সের জন্য বুমেরাং হয়ে ফিরেছে। সাবেক কংগ্রেসম্যান অ্যান্ডি লেভিন জানান, হ্যালি স্টিভেন্সকে কেন্দ্র করে রজার্স শিবির যেভাবে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা করেছিল, তা শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।

১৯৮৪ সালে ডেট্রয়েটের উপশহর রচেস্টার হিলসে জন্ম এল-সায়েদের। তিন বছর বয়সে বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর বাবা ও সৎ মা জ্যাকুলিন জনসনের কাছে বেড়ে ওঠেন তিনি। মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাবিদ্যায় লেখাপড়া করেন এবং মহামারীবিদ্যায় বিশেষজ্ঞতা অর্জন করেন। ২০১৫ সালে ডেট্রয়েট স্বাস্থ্য বিভাগের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে তাঁর নিয়োগ জাতীয় সংবাদ শিরোনাম হয়েছিল। তিন বছর পর তিনি মিশিগানের গভর্নর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ডেমোক্র্যাট প্রাইমারিতে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করলেও পরে দুই মেয়াদে গভর্নর নির্বাচিত গ্রেচেন হুইটমারের কাছে ২০ শতাংশেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে হেরে যান।

ঐতিহাসিক জয়ের পর দেওয়া বিজয় ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে তীব্র কটাক্ষ করেন এল-সায়েদ। ভাষণের শুরুতেই তিনি উল্লাস প্রকাশ করে বলেন, ‘খারাপ মানুষেরা হেরে গেছে’। এছাড়া তিনি তাঁর নির্বাচনী প্রচারণার বহুল ব্যবহৃত শব্দ ‘ইনশাআল্লাহ’কে আজ ‘আলহামদুলিল্লাহ’-তে রূপান্তর করার কথা জানান। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “জেডি, হাবিবি, এর চেয়ে সুস্বাদু বিদ্রুপ আর কী হতে পারে যে, আগামী জানুয়ারি মাসে সংবিধান অনুযায়ী আমাকে সিনেটর হিসেবে শপথবাক্য পাঠ করাতে আপনি বাধ্য!” ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কটাক্ষ করে তিনি আরও বলেন, “ডোনাল্ড, আমি জানি আমার নাম উচ্চারণ করতে গিয়ে আপনার বেশ কষ্ট হয়। তাই আগামী জানুয়ারি মাসে জেডি আমাকে শপথ করানোর পর আপনি কষ্ট করে আমাকে শুধু ‘সিনেটর’ বলেই ডাকবেন।”


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ