দেশ 

নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে জ্ঞানেশ কুমার ইস্তফা না দিলে আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর হবে ইন্ডিয়া জোটের সিদ্ধান্ত!

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : ‘ভোটচুরির’ প্রতিবাদে এবং জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে সুর চড়াল বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। অক্টোবর এবং নভেম্বরে গোটা দেশে একগুচ্ছ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে তারা। ২ অক্টোবর, গাঁধীজয়ন্তীর দিন থেকে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও যাত্রার’ ডাক দেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচি চলবে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত। ৬ অক্টোবর নির্বাচন কমিশনের সদর দফতর নির্বাচন সদনে মিছিল করে যাবেন বিরোধী সাংসদেরা।

বুধবার দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে বৈঠকে বসেছিল কংগ্রেস, তৃণমূল (মমতা তৃণমূল), সিপিএম-সহ ১৯টি দল। বৈঠকে গরহাজির ছিল এমকে স্ট্যালিনের দল ডিএমকে এবং অরবিন্দ কেজরীবালের আপ। বেলা ১১টা থেকে বৈঠক শুরু হয়। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে বৈঠক চলে। বৈঠকের পর দুপুর আড়াইটে নাগাদ বিরোধী দলগুলি যৌথ সাংবাদিক বৈঠক করে ‘ইন্ডিয়া’র ভবিষ্যৎ কর্মসূচির কথা ঘোষণা করে।

বিরোধী দলগুলির তরফে ভবিষ্যৎ কর্মসূচির কথা ঘোষণা করেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে। তাঁর পরেই বক্তৃতা করেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে নিশানা করেন তিনি। মমতা বলেন, “ওরা বাংলায় লুট করেছে। এখন সবটাই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। জ্ঞানেশ কুমার একজন চোর। উনি ইভিএম পুড়িয়েছেন। উনি এখনই পদত্যাগ করুন। উনি পদত্যাগ না করলে আন্দোলনের তীব্রতা আরও বাড়বে।”

মমতার পর বক্তৃতা করেন রাহুল গাঁধী। লোকসভার বিরোধী দলনেতা বলেন, “যাঁরা ভারতের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে, তাঁদের শাস্তির বিষয়টি আমরা সুনিশ্চিত করবই। তাঁরা কত বড় পদে রয়েছেন, সেটা মুখ্য বিষয় নয়। কোনও একজন ব্যক্তির চেয়ে দেশের গণতন্ত্র অনেক বড়।”

সাংবাদিক বৈঠকের শুরুতেই খড়্গে বিরোধী ঐক্যের বার্তা দিয়ে জানান, “সব (বিরোধী) দল এই লড়াইটা একসঙ্গে লড়বে বলে জানিয়েছে।” প্রবীণ এই কংগ্রেস নেতা জানান, দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা নিয়ে নিজেদের উদ্বেগের কথা জানাতে অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে সময় চাইবেন তাঁরা। খড়্গে জানান, বিরোধী দলগুলির ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নিয়ে বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন রাহুল এবং মমতা। তাঁরা দু’জন যে ‘ভোটচুরি’র অভিযোগ তুলেছিলেন, তাঁর প্রতিবাদে অক্টোবর এবং নভেম্বরে সারা দেশজুড়়ে পাঁচটি সভা করবে ‘ইন্ডিয়া’। খড়্গের কথায়, “অক্টোবর-নভেম্বরে পাঁচটি বড় সভা হবে। সময় এবং স্থান পরে ঠিক হবে। ১ জানুয়ারি দিল্লিতে একটি বড় কর্মসূচি হবে। রাহুলজি এবং দিদি (মমতা) যে ভোটচুরির কথা বলেছিলেন, এখন তা সবাই স্বীকার করছেন।”

খড়্গে এ-ও জানান যে, সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর এবং নির্বাচনী ব্যবস্থায় কারচুপির অভিযোগ সংক্রান্ত যে মামলাগুলি রয়েছে, সেগুলির দ্রুত নিষ্পত্তির আর্জি জানাবেন তাঁরা। কংগ্রেস সভাপতির অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের ভিতরে দু’-তিন জন দাবার বোড়ে হিসেবে কাজ করছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাঁদের হাতের পুতুলের মতো ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ খড়্গের।

‘ইন্ডিয়া’র বৈঠকের পর বেশ কয়েকটি দাবির কথা তুলে ধরেন খড়্গে। এক, আগামী দিনে হতে চলা সমস্ত নির্বাচনে প্রাক্‌-এসআইআর অর্থাৎ এসআইআর-এর আগে থাকা ভোটার তাল়িকা অনুযায়ী ভোট করাতে হবে। দুই, কোনও ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ভোটারকে পর্যাপ্ত কারণ জানিয়ে নোটিস দিতে হবে। তিন, প্রশাসনিক ব্যর্থতা, নথিপত্রের অভাব বা সচেতনতার অভাবে যে সমস্ত বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের আইনি রক্ষাকবচ দিতে হবে। চতুর্থ, ইভিএমের বদলে ব্যালটে ভোট করাতে হবে।

বুধবারের ‘ইন্ডিয়া’-বৈঠকে না-থাকলেও প্রতিনিধি পাঠিয়েছিলেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব। বৈঠকে ছিলেন সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবি, সিপিআইএমএল-এর সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য, ন্যাশনাল কনফারেন্সের ওমর আবদুল্লা, পিডিপি-র মেহবুবা মুফতি, এনসিপি (এসপি)-র সুপ্রিয়া সুলে প্রমুখ। বৈঠকে সনিয়া গাঁধী দুই পাশে বসেছিলেন মমতা এবং মেহবুবা। মমতা তৃণমূলের তরফে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, দোলা সেন, ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও বৈঠকে যোগ দেন।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ