কলকাতা 

আইএসএফের প্রতীক মামলায় নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুললো হাইকোর্ট, প্রবল চাপে কমিশন

শেয়ার করুন

আইএসএফ-এর প্রতীক নিয়ে মামলার শুনানি শেষ হল কলকাতা হাই কোর্টে। তবে রায়দান স্থগিত রেখেছে আদালত। সোমবারের শুনানিতে বিচারপতি কৃষ্ণ রাও বলেন, “হাই কোর্ট কর্তৃপক্ষের কাজে উদ্বিগ্ন। আদালত চায়, কর্তৃপক্ষ এমন ভাবে কাজ করুন, যাতে পরে তাঁদের প্রশ্নের মুখে পড়তে না-হয়। আর আদালতকেও পরে হস্তক্ষেপ করতে না হয়।” একই সঙ্গে বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, “আগের প্রতীক পাওয়া আইএসএফ-এর অধিকার হয়তো নয়, কিন্তু এটা তাদের চাওয়া স্বাভাবিক।” এই সূত্রেই কমিশন‌ের উদ্দেশে বিচারপতির প্রশ্ন, “আপনারা অন্য একটা দলকে কী করে সেই প্রতীক দিয়ে দিলেন?”

কমিশনের আইনজীবী জিষ্ণু চৌধুরী বলেন, “সাধারণ নির্বাচন এবং উপনির্বাচন আলাদা। এটা কমিশনের যুক্তি। একটা ভোটের ফল বেরিয়ে গেলেই নির্বাচনী প্রক্রিয়া শেষ। ফ্রি সিম্বল বা প্রতীক দেওয়ার ক্ষেত্রে কমিশনই শেষ কথা বলে। তা ছাড়া এই ব্যাপারে কারও কোনও অধিকার নেই। প্রতীক কারও সম্পত্তি নয়।”

কমিশনের বক্তব্যে সন্তুষ্ট হননি বিচারপতি রাও। তিনি বলেন, “গণতান্ত্রিক তৃণমূলের আর্জির প্রেক্ষিতে কমিশন তাদের ওই প্রতীক দিয়েছে, সেটা বুঝলাম। কিন্তু আইএসএফ আবেদন করেছে, আর সেই আর্জি বিবেচনা করে দেখা হয়েছে, সেই নথি কোথায়? কোন আইনি ধারা মেনে নির্বাচন কমিশন প্রতীক গণতান্ত্রিক তৃণমূলকে দিয়ে দিল? এই ব্যাপারে আপনাদের বক্তব্য সন্তোষজনক নয়।” কমিশনের আইনজীবীর উদ্দেশে বিচারপতির সংযোজন, “আসলে আপনার কর্তৃপক্ষ আগাম একটা অনিয়ম করেছেন। আপনি এখন তাঁদের পক্ষে যুক্তি দেওয়ার চেষ্টা করছেন। যদি নির্বাচন কমিশন কোনও একটি পক্ষের দ্বারা চালিত হয়, তা হলে যা হওয়ার তাই-ই হয়েছে। কর্তৃপক্ষের ভূমিকা স্বচ্ছ না-হলে এইটাই হবে।”

কমিশনের আইনজীবী বলেন, “প্রতীক দেওয়ার অধিকার কমিশনের, কোনও দলের নয়।” আইএসএফ-এর হয়ে হাই কোর্টে সওয়াল করেন আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “সেই অধিকার একপেশে হতে পারে না।”

খাম প্রতীক নিয়ে দু’টি বিধানসভা নির্বাচনে লড়েছিল ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ)। আসন্ন উপনির্বাচনে সেই প্রতীক হাতছাড়া হয়েছে। তাই প্রতীক ফেরত চেয়ে ২১ সেপ্টেম্বর কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীর দল।

পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম এবং মুর্শিদাবাদের রেজিনগরের আগামী ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন হবে। তার আগে নির্বাচন কমিশন খাম প্রতীকটি তুলে দিয়েছে ঋতব্রতদের গণতান্ত্রিক তৃণমূলের হাতে। নওশাদের আইএসএফ-কে দেওয়া হয় আলমারি প্রতীক। এই ঘটনার জেরে খাম প্রতীক ফেরত চেয়ে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেন নওশাদ। তিনি জানিয়েছিলেন, হাই কোর্টের দ্বারস্থও হবেন। সেইমতো আদালতে যান নওশাদ।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ