“স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পড়ুয়াদের গুলি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন,পড়ুয়াদের শরীরে ছর্রা গেঁথে দিয়েছেন’’ : রাহুল গান্ধী
ধ্বনিভোটে প্রশ্নফাঁসরোধী সংশোধনী বিল (পাবলিক এগ্জ়ামিনেশন—প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস—অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬) পাস হল লোকসভায়। নিট-কাণ্ড নিয়ে পড়ুয়াদের আন্দোলনের মধ্যেই প্রশ্নফাঁস রুখতে আরও কঠোর আইন আনার কথা জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মোদীর ঘোষণা মোতাবেক সোমবার এই বিল লোকসভায় পেশ করেন মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংহ। মঙ্গলবার এবং বুধবার, দু’দিন আলোচনার পর লোকসভায় ধ্বনিভোটে এই বিল পাস হল। ভোটাভুটির আগেই অবশ্য একযোগে কক্ষত্যাগ (ওয়াকআউট) করেন বিরোধী সাংসদেরা। বিল পাস হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা পর্যন্ত লোকসভার অধিবেশন মুলতুবি করে দেন স্পিকার ওম বিড়লা।
মঙ্গলবার প্রশ্নফাঁসরোধী সংশোধনী বিল নিয়ে আলোচনায় যোগ দেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গাঁধী। তিনি অভিযোগ করেন যে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশেই আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের উপর গুলি চলেছে। তাঁর এই অভিযোগের পরেই লোকসভায় হট্টগোল শুরু হয়। শাসকপক্ষের তরফে দাবি করা হয় যে, রাহুল মিথ্যা অভিযোগ করছেন। রাহুলকে ক্ষমা চাইতে হবে বলেও দাবি তোলা হয়।
সংসদে বক্তৃতায় রাহুল ‘তিন শ্রেণির মানুষের’ কথা উল্লেখ করেন— পড়ুয়া, বোকা (ইডিয়ট্স) এবং অন্ধভক্ত। লোকসভার বিরোধী দলনেতার এ ধরনের শব্দ ব্যবহারে আপত্তি তোলেন এনডিএ-র সাংসদেরা। বক্তৃতার সময় রাহুল নিট আন্দোলনের প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে এক ১৮ বছর বয়সি পড়ুয়ার সঙ্গে তাঁর কথোপকথনের কথা স্মরণ করেন। সেই পড়ুয়া তাঁকে বলেছেন, ‘‘অন্ধভক্ত হলেন এমন একজন, যিনি পুরোপুরি মেনে নেন যে, অন্য এক ইডিয়ট্ই ভগবান।’’
রাহুলের কথায়, ‘‘আমাকে ওই পড়ুয়া বলেন, একজন শিক্ষার্থী সবসময় সত্যের পিছনে ছুটতে থাকে। তার কাছে সত্যই সুন্দর। তখন আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করি, তা হলে ইডিয়ট্স কারা? তখন ওই পড়ুয়া আমাকে বলেন, বোকাদের একটা প্রতিচ্ছবির প্রয়োজন। বোকারা নিজেকে ঈশ্বর হিসেবে প্রতিপন্ন করতে চান। তার পরেই আমি তাঁকে তৃতীয় শ্রেণির মানুষের কথা জিজ্ঞাসা করি। আমার কাছে তিনি জানতে চান, তৃতীয় শ্রেণির মানুষ কারা? আমি তাঁকে বলি, অন্ধভক্ত। অন্ধভক্তদের কোথায় রাখা উচিত? তখন তিনি আমায় বলেন, অন্ধভক্ত হলেন এমন একজন, যিনি বিশ্বাস করেন যে, এক জন বোকাই ঈশ্বর।’’
রাহুলের বক্তৃতার মাঝেই আপত্তি তোলেন বিজেপি সাংসদ কিরেন রিজিজু। কেন বিরোধী দলনেতাকে বাধা দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিরোধী সাংসদেরা। তখন রিজিজু বলেন, ‘‘রাহুল গাঁধী যদি অসংসদীয় শব্দ ব্যবহার না-করতেন, তবে আপত্তি তুলতাম না। আমি মনে করি, একজন পড়ুয়ার নামে তিনি অসংসদীয় শব্দ ব্যবহার করতে পারেন না। এটি বর্জন করা উচিত।’’ সংসদের রেকর্ড থেকে শব্দগুলি মুছে ফেলার আবেদন জানান প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ।
শাহকে নিশানা করে রাহুল বলেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পড়ুয়াদের গুলি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। পড়ুয়াদের শরীরে ছর্রা গেঁথে দিয়েছেন।’’ তাঁর অভিযোগ, দিল্লি পুলিশকে বলপ্রয়োগের অনুমতি একমাত্র কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীই দিতে পারেন। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, শাহ কেন সংসদে উপস্থিত নেই? ভয় পেয়েই কি আসেননি তিনি? রাহুলের এই অভিযোগেও আপত্তি তোলেন বিজেপি সাংসদেরা। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র রাহুলের অভিযোগ খারিজ করে বলেন, ছাত্রবিক্ষোভের সময় গুলি চালানোর কোনও নির্দেশ দেয়নি সরকার।

