কলকাতা 

জল্পনা সত্যি হলো তৃণমূলের সংসদীয় দলে ভাঙন !এনডিএ জোটের শরীক হতে চেয়ে কাকলির নেতৃত্বে লোকসভার স্পিকারকে চিঠি ২০ সাংসদের

শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিনিধি : এবার দিল্লিতে তৈরি হল নতুন তৃণমূল। তৃণমূলের সংসদীয় দলে ভাঙন। এতদিন যা জল্পনা ছিল তাই এবার সত্যি হিসাবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে। সূত্র মারফত খবর পাওয়া যাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেসের ২৮ জন সাংসদ এর মধ্যে কুড়িজন সাংসদ এনডিএ জোটের শরিক হওয়ার জন্য আবেদন করে স্পিকার ওম বিড়লার কাছে চিঠি জমা দিয়েছেন।সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে চিঠি জমা দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ এবার বিধানসভার পর এবার লোকসভার রাশও ‘আসল তৃণমূলে’র হাতে। শোনা যাচ্ছে, বিদ্রোহী সাংসদের সংখ্যাটা বেড়ে ২১ হতে পারে।

পালাবদলের একমাস পেরনোর আগেই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পরিষদীয় দলের ‘মালিকানা’ হাতছাড়া হয়েছে তৃণমল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ৮০ জনের মধ্যে ৫৮ জন বিধায়কই নেত্রীর সঙ্গ ত্যাগ করেছেন। সেই থেকেই শোনা যাচ্ছিল, একই নকশায় ভাঙতে চলেছে সংসদীয় দলও। জল্পনার মাঝেই ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে যোগ দিতে দিল্লি উড়ে গিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তাতেও লাভ কিছুই হল না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজধানীতে থাকাকালীনই ভেঙে টুকরো হয়ে গেল তৃণমূলের সংসদীয় দল। রবিবার দিল্লিতে গোপন বৈঠক করেন তৃণমূলের অন্তত ২১ বিদ্রোহী সাংসদ। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, অসিত মাল, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, অরূপ চক্রবর্তী, আবু তাহের খান, সুখেন্দু শেখর রায়, শর্মিলা সরকার, খলিলুর রহমান, জগদীশ বর্মা বসুনিয়া-সহ আরও বেশ কয়েকজন। সোম সকালে বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে পৌঁছন তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ বিধায়করা। সেখানে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। কার্যতই তখনই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে, এদিনই বঙ্গ রাজনীতি নাটকীয় মোড় নিতে চলেছে।

ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে বৈঠকের কয়েকঘণ্টার মধ্যেই লোকসভার স্পিকারের কাছে গিয়ে চিঠি জমা দেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। সেখানে জানানো হয়েছে, এই ২০ সাংসদ তৃণমূলের সঙ্গে থাকতে চান না। তাঁরা এনডিএতে যোগ দিতে চান। স্পিকারের কাছে তাঁরা আর্জি জানিয়েছেন যে, তাঁদের যেন এনডিএর সঙ্গে বসার ব্যবস্থা করা হয়। অর্থাৎ পরিষদীয় দলের মতোই নাটকীয়ভাবে ভেঙে গেল তৃণমূলের সংসদীয় দল। বিদ্রোহীরা মুখ্য সচেতক হিসেবে চাইছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে। নিয়ম অনুযায়ী, স্পিকারের স্বীকৃতি মিললে এবার লোকসভায় ‘আসল তৃণমূল’ হতে চলেছেন তৃণমূলের বিদ্রোহীরা। ফলে লোকসভার দলনেতা থাকবেন না অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পরিস্থিতি যে দিকে এগোচ্ছে এবার জোড়াফুল প্রতীকের দাবিদার হতে চলেছেন বিদ্রোহীরা। এবার কি নিজের হাতে গড়া দলের প্রতীকও কি হাতছাড়া হবে মমতার? উত্তরের অপেক্ষায় সকলে। চিঠি প্রসঙ্গে সাংসদ শর্মিলা সরকার, “এটা একদিনের ক্ষোভের প্রতিফলন নয়। আমরা তৃণমূলের থেকে নিজেদের আলাদা করে নিয়েছি। সকলেরই অভাব অভিযোগ ছিল। একসঙ্গে বসতেই তা প্রকাশ্যে এসেছে।”


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ