শতবর্ষে শবর-জননী মহাশ্বেতা দেবী : অনুসন্ধান সোসাইটির স্মৃতিচারণা
বিশেষ প্রতিনিধি : বিশিষ্ট সমাজসেবী ও কিংবদন্তি লেখিকা মহাশ্বেতা দেবীর জন্মশতবর্ষ (১৯২৬-২০২৬) উপলক্ষ্যে অনুসন্ধান সোসাইটি আয়োজন করেছিল এক অনলাইন আলোচনা চক্রের। যোগ দিয়েছিলেন শিক্ষা ও সংস্কৃতি জগতের দিগগজ ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে বিভিন্ন জেলার বিদ্যালয়ের পর্যায়ে ছাত্রছাত্রীরাও। স্মৃতিচারণা করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. দীপক রঞ্জন মন্ডল, দিব্যগোপাল ঘটক, আরফান আলী বিশ্বাস, কাজী নিজাম উদ্দিন, পার্থ দে, বিথীকা দাস ভাস্কর, ড কমল কৃষ্ণ দাস প্রমূখ।
মহাশ্বেতা দেবীর জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনায় এদিন উঠে আসে নিপীড়িত মানুষের হয়ে তাঁর সারা জীবনের লড়াইয়ের কথা। ঐ সমস্ত হতদরিদ্র মানুষগুলির জীবনের সঙ্গে মিশে যেতে পেরেছিলেন তিনি। স্থান করে নিয়েছিলেন তাদের হৃদয়ে। আর তাঁর কলম দেখিয়েছিল, কী অসামান্য নিপুনতায় উঠিয়ে আনতে পারা যায় নিপীড়িত মানুষগুলির জীবনে না বলা বেদনার কথা।

আসলে মানুষের মধ্যে উচ্চ-নীচ এই ভেদাভেদটাকেই কখনো মেনে নিতে পারেননি মহাশ্বেতা দেবী। আর্থিক ও লেখাপড়ায় তথাকথিত নিম্নবর্গীয়দের দেখে যারা ভ্রু-কুঞ্চিত করেন তাদের পরম্পরা ভেঙে দিয়েছিলেন মহাস্বেতা দেবী। শুধু যে মানুষে মানুষের এই বিভাজনের বিরুদ্ধে খড়্গ হয়েছিলেন তিনি, এটুকুই নয়, সমাজের চলমান প্রবাহে ঐ সমস্ত প্রান্তিক মানুষগুলিকে একই পংক্তিতে আনার জন্য জীবনপাত করেছিলেন তিনি। এদিন আলোচনায় বারবার উঠে আসে এই পরম শিক্ষার কথা যা তিনি শিখিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। তাঁর এই সাধনা তখনই সফল হবে যদি আমরা বর্তমানের নিরিখে যাবতীয় অন্ধকার সরিয়ে নিজস্বতার উদ্ভাবন ঘটাতে পারি। আমরা থাকছি সেদিনের অপেক্ষায়। বিশেষ এই স্মৃতিচারণ-সভার সঞ্চালনা করেন শিক্ষক নায়ীমুল হক।

