মহারাষ্ট্রের প্রথম উপ মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলেন সুনেত্রা পাওয়ার
স্বামীর মৃত্যুর তিন দিনের মাথাতেই দলীয় সংগঠন, পরিষদীয় নেতৃত্ব এবং মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রিত্বের গুরুদায়িত্ব এল সুনেত্রা পওয়ারের কাঁধে। এনসিপি নেতৃত্বের তরফে শুক্রবারই বার্তা দেওয়া হয়েছিল। সেই পথে হেঁটেই শনিবার দুপুরে মহারাষ্ট্রের সদ্যপ্রয়াত উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ারের স্ত্রী সুনেত্রা পরিষদীয় দলনেত্রী নির্বাচিত হলেন। বিকেল ৫টায় সে রাজ্যের প্রথম মহিলা উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে রাজ্যপাল আচার্য দেবব্রতের কাছে মন্ত্রগুপ্তির শপথ নিলেন তিনি।
সুনেত্রাকে আনুষ্ঠানিক ভাবে নেতা নির্বাচিত করার জন্য শনিবার সকালেই এনসিপি পরিষদয়ীয় দলে বৈঠক ডাকা হয়েছে। বৈঠকে যোগ দিতে মুম্বইয়ে পৌঁছে গিয়েছেন এনসিপির বিধায়ক এবং বিধান পরিষদের সদস্যেরা। বিধানসভা ভবনে আয়োজিত বৈঠকে সর্বসম্মত ভাবে পরিষদীয় দলনেত্রা নির্বাচিত হন তিনি। সুনেত্রা বর্তমানে তিনি রাজ্যসভার সাংসদ। ফলে উপমুখ্যমন্ত্রিত্বের দায়িত্ব নেওয়ায় বিধানসভা অথবা বিধান পরিষদের উপনির্বাচনে জিততে হবে। উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গেও একটা সময় বিধান পরিষদ ছিল। সাতের দশকে যুক্তফ্রন্টের সরকার ক্ষমতায় এসে তার অবলুপ্তি ঘটায়। সারা ভারতে এখনও ৬টি রাজ্যে বিধান পরিষদ আছে। সেগুলি হল মহারাষ্ট্র, বিহার, উত্তরপ্রদেশ, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলঙ্গানা এবং কর্নাটক।

শুক্রবার মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী ফডণবীসের সরকারি বাসভবন বর্ষায় গিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করছিলেন এনসিপি নেতা ছগন ভুজবল, প্রফুল পটেল, এবং সুনীল তটকরে। ফডণবীস মন্ত্রিসভার উপমুখ্যমন্ত্রী অজিতের হাতে অর্থ, আবগারি, ক্রীড়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ দফতর ছিল। সূত্রের খবর, সেগুলি চেয়ে দরবার করেছেন প্রফুলেরা। বৈঠকের পরে ছগন বলেন, ‘‘শনিবার (৩১ জানুয়ারি) এনসিপি পরিষদীয় দলের বৈঠকে আনুষ্ঠানিক ভাবে সুনেত্রা পওয়ারকে দলনেত্রী নির্বাচিত করা হবে।’’ মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী ছগনের ঘোষণা, অজিতের স্থানে সুনেত্রাই দলের তরফে উপমুখ্যমন্ত্রিত্বের দায়িত্ব নেবেন। তিনি বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী ফডণবীস আমাদের জানিয়েছেন, শনিবার শপথগ্রহণ হলেও তাঁর কোনও আপত্তি নেই। তবে কবে শপথ হবে সে বিষয়ে শনিবারই এনসিপি পরিষদীয় দল চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছিলেন ছগন। তাঁর ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই চলে এল সেই সময়।

