হুমায়ুনের সঙ্গে জোট করছে মিম! বাংলার রাজনীতিতে নয়া মোড়?
শনিবার রেজিনগরে তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের জনতা উন্নয়ন পার্টির সঙ্গে জোট ঘোষণা করেই দিল আসাদউদ্দিন ওয়েইসির মিম। দলের রাজ্য সভাপতি ইমরান সোলাঙ্কি সেকথা স্পষ্ট করে দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচনা করে তিনি পরিবর্তনের ডাক দিয়েছেন। কটাক্ষ করে তাঁর মন্তব্য, ”আরএসএসের দুটি ফুল – বিজেপি আর তৃণমূল।” জোট পাকা হলেও আসন বণ্টন নিয়ে এখনও দু’পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়নি বলেই খবর। তা এখনও বেশ কিছুটা সময়ের অপেক্ষা। সেইসঙ্গে এই প্রশ্নও উঠছে, সেলিম-সাক্ষাৎ কি তাহলে জোটের দিকে এগোয়নি? নাকি এই সাক্ষাৎ নিয়ে অধীরের সমালোচনা ‘সেলিম-ডালিম-হালিম যে খুশি জোট করুক’ই সত্যি হয়ে দাঁড়াবে? তা অবশ্যই নজরে রাখার বিষয়।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে নিজের নতুন রাজনৈতিক দল খোলার পর প্রথমে হুমায়ুন কবীর ঘোষণা করেছিলেন, ছাব্বিশের ভোটে একশোর কাছাকাছি আসনে লড়াই করবে তাঁর দল। পরে ধীরে ধীরে সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে আরও হুঙ্কার দিয়ে হুমায়ুন দুশোর কাছাকাছি আসনে লড়াইয়ের ঘোষণা করেছিলেন। আসাদউদ্দিন ওয়েইসির মিমের সঙ্গে জোটের ইচ্ছাপ্রকাশ করেছিলেন তিনি। সেইমতো ফেব্রুয়ারি ওয়েইসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে হায়দরাবাদ যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু তার আগেই শনিবারের সভায় মিমের রাজ্য সভাপতি ইমরান সোলাঙ্কি জোটে সিলমোহর দিয়ে দিলেন।

এদিনের সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র সমালোচনা করে সোলাঙ্কির অভিযোগ, ”বিজেপিকে এরাজ্যে নিয়ে এসেছেন মমতাই। আমাদের দাবি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মুর্শিদাবাদ জেলা থেকে করতে হবে। সংখ্যালঘুরা ভেবে নিয়েছে এবার ভোট দেব হুমায়ুনের জনতা উন্নয়ন পার্টি ও মিমকে।” ওয়াকফ আইন থেকে এসআইআর নিয়ে মমতা বিরোধিতায় সোলাঙ্কি বলেন, ”মমতা যেটা বলেন তিনি তার উলটোটা করেন। তিনি বলেছিলেন, এরাজ্যে ওয়াকফ ও এসআইআর চালু হতে দেব না। তা সত্বেও চালু হল। বিজেপিকে আটকাতে ২০২১ সালে আমরা মমতাকে ভোট দিয়েছিলাম। দিদিকে বলি, আরএসএসের দুটি ফুল – বিজেপি আর তৃণমূল। এবার রাজ্যের পরিবর্তনের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”

