যেখানেই যান পুলিশকে খবর দিয়ে যান অবশ্যই নিরাপত্তা পাবে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আশ্বস্ত করলেন শুভেন্দু
বিশেষ প্রতিনিধি : রাজ্যের তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপরে যেভাবে গতকাল আক্রমণ হয়েছে তার গাড়িতে কাদা ছোড়া হয়েছে এবং জুতো ছোড়া হয়েছে জয় শ্রীরাম স্লোগান দেওয়া হয়েছে তাতে দেশ জুড়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। এমনকি দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও এই ঘটনায় বিচলিত হয়ে পড়েছেন। এরপরেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, আপনি যেখানে খুশি যান আগে থেকে বলে যাবেন সম্পূর্ণ নিরাপত্তা পাবেন। তাহলে কি প্রশ্ন দেখা দিয়েছে গতকাল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হালিশহর যাওয়ার আগে পুলিশকে খবর দিয়ে যাননি। নাকি পুলিশের ব্যর্থতা থাকার জন্য আজকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এ ধরনের কথাবার্তা বলছেন।
সোমবার হালিশহরে মৃত তৃণমূল কর্মী বিরজু কেওটের বাড়ি গিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখান থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এ প্রসঙ্গে প্রাক্তনের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর অনুরোধ, ‘‘আপনি তো গতকাল পুলিশকে না জানিয়ে এসেছিলেন। জনরোষ তৈরি হয়েছিল। আমাদের বিধায়ক তা জানামাত্র পুলিশকে দিয়ে ব্যবস্থা নিয়েছেন। আমার অনুরোধ, এবার থেকে আপনি যেখানে যাবেন, সময়মতো পুলিশকে জানাবেন। আপনার যাঁকে খুশি, কলকাতার সিপি বা ডিআইজিকে জানাবেন। ডিজিকে আপনার পছন্দ না হলে অন্য কাউকে বলবেন। আমাদের পুলিশ আপনার নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেবে।”
রবিবার সকালে পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন হালিশহরের তৃণমূল কর্মী বিরজু কেওটের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। পরিবার অভিযোগ তোলে, পুলিশ হেফাজতে তাঁকে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে। সেই ঘটনার খবর পেয়ে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দুই সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, দোলা সেনকে নিয়ে সেখানে যান। হালিশহরে ঢুকতেই তাঁরা বিক্ষোভের মুখে পড়েন। তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে জল ও কাদা, পাথর, জুতো ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। মমতাকে লক্ষ্য করে ‘চোর’, ‘ডাকাতরানি’ স্লোগানও দেওয়া হয়। এনিয়ে রবিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিক্রিয়া ছিল, “এত চুরি করেছেন, চোর স্লোগান তো শুনতেই হবে। বাড়ির লোক দরজা বন্ধ করে দিচ্ছেন। কিন্তু আপনি বলছেন, জোর করে ঢুকব। এসব করবেন না।”
কিন্তু সোমবার হালিশহরের ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি নমনীয় মনোভাব পোষণ করে নিজের দায়িত্ববোধ মনে করলেন মুখ্যমন্ত্রী। বললেন, ‘‘নিরাপত্তায় কোথাও কোনও গাফিলতি নেই। আপনাকে ঘিরে যা হয়েছে, তা স্থানীয় পুলিশের সমস্যা। আর আমাদের বিধায়ক খবর পেয়েই পুলিশের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামলেছে। পুলিশ তো সবসময় এক জায়গায় থাকে না। তাদেরও একটু সময় দিতে হয়। যাই হোক, আপনাকে আমি পরামর্শ ঠিক দেব না। অনুরোধ করছি, আপনি যেখানে খুশি যাবেন। কিন্তু তার আগে সময়মতো পুলিশকে জানাবেন। পুলিশ প্রয়োজনমতো যথাযথ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবেন।”

