কলকাতা 

কে এই সার্থক বন্দ্যোপাধ্যায়, তাঁর ক্ষমতার উৎসের নেপথ্য কাহিনী?

শেয়ার করুন

অর্পণ বন্দ্যোপাধ্যায়  : কসবা গণধর্ষণকাণ্ডে এবার আতস কাঁচের তলায় সার্থক বন্দ্যোপাধ্যায় কসবাকাণ্ডে মূল অভিযুক্ত মনোজিৎ মিশ্রকে আড়াল করার বিস্ফোরক অভিযোগ এই সার্থক বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, এই সার্থক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো লোকেদেরই মদত রয়েছে মনোজিৎ মিশ্রের মতো ‘রাক্ষস’ তৈরির পিছনে। এদেরই হাত রয়েছে মনোজিৎ মিশ্রের মতো ‘দানব’-এর পিছনে। এবার সোশ্যাল মিডিয়া এক্স-হ্যান্ডেলে ছবি ও তথ্যপ্রমাণ সহযোগে এই সার্থক বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের বিরুদ্ধে আরও বিস্ফোরক অভিযোগ করা হয়েছে বিজেপির তরফে।

কে এই সার্থক বন্দ্যোপাধ্য়ায়?

দক্ষিণ কলকাতা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি। কিন্তু এটাই তাঁর পুরো বা সব পরিচয় নয়। বিজেপির দাবি, এই সার্থক বন্দ্যোপাধ্য়ায় আশুতোষ কলেজের হেড ক্লার্ক। যদিও তাঁর আসল ক্ষমতা অন্য জায়গায়। ‘হেড ক্লার্ক’ সার্থক বন্দ্যোপাধ্য়ায় ‘প্রভাবশালী’ যে, তিনি আশুতোষ কলেজের অধ্যক্ষ মানস কবীরের সঙ্গে একসঙ্গে ‘একমঞ্চে’ পাশাপাশি বসেন। এমনকি ক্যাম্পাসের মধ্যেই তৃণমূল ছাত্র পরিষদের মিটিংও করেন।

শুধু তাই নয়, বিজেপির বিস্ফোরক অভিযোগ, ‘গরিবের দলের’ এই ক্লার্ক সার্থক বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের সম্পত্তির তালিকা দেখলেও মাথা ঘুরে যাওয়ার জোগাড় হয়! ‘হেড ক্লার্ক’ সার্থক বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের সম্পত্তির তালিকা-

১) কালীঘাটে নিজের নামে সম্পত্তি

২) কালীঘাটে বাবার নামে সম্পত্তি

৩) কালীঘাটেই মায়ের নামে ৩টে সম্পত্তি

৪) যাদবপুরে নিজের নামে ২টো ফ্ল্যাট ও গ্যারাজ

৫) বাবার নামে উদয় শংকর সরণিতে ২টো ফ্ল্যাট

৬) মায়ের নামে আমতলায় ২টো ফ্ল্যাট

৭) আবার মায়ের নামেই উদয় শংকর সরণিতে ১টি ফ্ল্যাট

বিজেপি প্রশ্ন তুলেছে, ‘হেড ক্লার্ক’ সার্থক বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের এই বিপুল বিশাল সম্পত্তির উৎস কী? ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছে বিজেপি। কসবাকাণ্ডে মনোজিৎ মিশ্রকে ‘আড়াল’এর চেষ্টা থেকে, কলেজে তাঁর বিপুল ক্ষমতা ও একজন বেতনভুক্ত কর্মচারী হয়ে কীভাবে এই বিশাল সম্পত্তির অধিকারী সার্থক বন্দ্যোপাধ্যায়? ‘দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়া!’

এই সব নিয়েই এবার তদন্তের সময় এসে গিয়েছে বলে দাবি বিজেপির। স্বাভাবিকভাবেই বিজেপির পোস্ট সামনে আসতেই হইচই পড়ে গিয়েছে সব মহলে। রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। ছাত্র জীবন থেকেই এই স্বার্থক বন্দ্যোপাধ্যায় বিভিন্ন ভাবে ছাত্র ও ছাত্রী দের পঠন পাঠন ও কলেজের প্রশাসনিক কাজে ব্যাঘাত ঘটিয়েছে অধ্যক্ষ দীপক করের আমল থেকেই তৃণমূলের উচ্চ পদস্থ নেতাদের দৌলতে তার এই দাপট।কোন যোগ্যতায় সে আশুতোষ কলেজের মত একটি প্রণিধান যোগ্য প্রতিষ্ঠানের “হেড ক্লার্ক“ নির্বাচিত হয়েছে তা নিও শিক্ষামহলে প্রশ্ন রয়েছে এর সঙ্গে সে আবার যোগমাযা দেবী কলেজের পরিচালন সমিতির সরকার মনোনীত প্রতিনিধ।এক ব্যক্তি একাধারে অতি অল্প দিনের মধ্যেই এত ক্ষমতা , পদ ও সম্পত্তির অধিকার হয় তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

বর্তমান কালে যে ভাবে ছাত্র নেতা – নেত্রীদের দাপট বাড়ছে আগামী দিনে মনোজিৎ এর পর স্বার্থক এর বিরুদ্ধেও যে প্রভুত অভিযোগ আসবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না, এখন দেখার বিষয় এই যে তৃণমূল ও তাদের ছাত্র সংগঠন কিভাবে তা প্রতিহত করে এখন দেখার বিষয়। কারণ দুর্নীতি, ও ব্যাভিচারিতা যে এখন দলের নেতাদের প্রধান চরিত্র হয়ে উঠেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না, যার ফল ভোগ করছে পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ জনগণ বিশেষ করে যুবসমাজ কারণ কর্মহীনতার পাশাপাশি কিশোরী, যুবতীরা হারাচ্ছে তাদের সম্ভ্রম যার মূল নায়ক এই স্বার্থক, তৃণাঙ্কুর ও মনোজিৎরা।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ