মমতার উপর হামলার প্রতিবাদে বিধানসভার বিক্ষেপে ঋতব্রত পন্থী তিন বিধায়ক শামিল!
বাংলার জনরব ডেস্ক : মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি না থাকলে ৫০০টি ফটো পেতাম না। একথা বললেন বসিরহাটের বিধায়ক তৌসিফুর রহমান। গতকাল হালিশহরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ির উপর হামলার প্রতিবাদে আজ বিধানসভাতে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন তৃণমূলের মমতাপন্থী বিধায়করা। এদিন তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো ঋতব্রত পন্থী তিনজন বিধায়ক মমতার উপর হামলার প্রতিবাদে বৃক্ষদের শামিল হন। অন্য শিবিরে থাকা সত্ত্বেও কেন তাঁরা কালীঘাট তৃণমূলের কর্মসূচিতে যোগ দিলেন, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তাঁরা। এই তিন জন হলেন মেটিয়াবুরুজের বিধায়ক আব্দুল খালেক মোল্লা, বসিরহাটের বিধায়ক তৌসিফুর রহমান এবং বারুইপুর পূর্বের বিধায়ক বিভাস সর্দার।
মমতার উপর ‘হামলার’ প্রতিবাদ জানিয়ে সোমবার বিধানসভা চত্বরে মিছিল করেন কালীঘাট তৃণমূলের কুণাল ঘোষ, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, অশোক দেব, বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, বাবর আলি, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, আলিফা আহমেদ, অসীমা পাত্রেরা। দোষীদের গ্রেফতার করার দাবি জানানো হয়। কুণাল বলেন, “যারা হামলা করেছে, তাদের সরকার মদত দিচ্ছে। তাদের অবিলম্বে গ্রেফতার করত হবে। তাদের চিহ্নিত করতে হবে। ভয় দেখিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে থামানো যাবে না।” সেই সময়েই কালীঘাট তৃণমূলের বিক্ষোভে দেখা যায় ঋতব্রত শিবিরে থাকা ওই তিন বিধায়ককে।
কালীঘাট তৃণমূলের কর্মসূচিতে যোগদানের কারণ ব্যাখ্যা করে তৌসিফুর বলেন, “যেখানে দিদি, সেখানে আমি। মমতাদির ছবি ছাড়া ৫০০ ভোটও পেতাম না। আমাদের ঋতব্রত শিবিরের তরফে বলা হয়েছিল, মমতাদি চেয়ারম্যান হবেন। কিন্তু আজ হবে, কাল হবে করে আর হয়নি।” দলের প্রতীকে নির্বাচিত প্রত্যেক বিধায়কের প্রতিবাদে শামিল হওয়া উচিত বলে জানান ঋতব্রত শিবিরের আরও এক বিধায়ক বিভাস। তিনি বলেন, “আমাদের নেত্রীর উপর আঘাত হয়েছে। তীব্র প্রতিবাদ করছি। মমতার প্রতীকে জিতেছি। তৃণমূলের ৮০ জনেরই এর প্রতিবাদ করা উচিত।” প্রায় একই সুরে খালেক মোল্লা বলেন, “নেত্রীর গাড়িতে আঘাতের প্রতিবাদ করছি। আমি ঋতব্রতপন্থী, কিন্তু মমতার উপর হামলার প্রতিবাদ করছি।”
কাঁচরাপাড়া পুরসভার তৃণমূলের পদত্যাগী কাউন্সিলরের স্বামী বিরজু কেওট পুলিশি হেফাজতে মারা যান। রবিবার মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে কাঁচড়াপাড়ায় গিয়েছিলেন মমতা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন লোকসভার সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেন। তৃণমূলনেত্রীর গাড়ি লক্ষ্য করে কাদা-ছেঁড়া চটি ছোড়া হয়। দেওয়া হয় ‘চোর-চোর’ স্লোগানও। বিক্ষোভের মুখে পড়ে মমতা তোপ দাগেন রাজ্য সরকারকে। পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও নিশানা করেন তিনি। তৃণমূলনেত্রী বলেন, “নিরাপত্তা ভুলে যান। লুম্পেনদের প্রোটেকশন দিচ্ছে পুলিশ! বাংলা তো লুম্পেনদের হাতে চলে গিয়েছে। আমরা কেস করব।’’ অভিযোগের সুরে বলেন, ‘‘আমার মাথা ফেটে যেত। এখানে আমরা মরে যেতাম। পুলিশ বিজেপিকেই প্রোটেকশন দিচ্ছে।’’

