দেশ 

প্রথমবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রশান্ত কিশোরের দল জমানত খোয়ালেন বিহারে

শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিনিধি : দেশের প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদিকে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী সিংহাসন পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছিলেন একাধিক রাজ্যের রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কাজ করে সেই দলকে ক্ষমতায় পৌঁছে দিয়েছিলেন। এমনকি আমাদের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনে যে ক্ষমতার মসনদে পৌঁছে দিতে পেরেছিলেন বলে দাবি করেন প্রশান্ত কিশোর। সেই প্রশান্ত কিশোর নিজের রাজনৈতিক দল গড়েছেন এবং বেশ কয়েক মাস ধরে বিহারের বিভিন্ন প্রান্তে জনসংযোগ করার কাজ করে চলেছেন।

এবছর দোসরা অক্টোবর মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিন থেকে প্রশান্ত কিশোর নতুন এক রাজনৈতিক দল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠা করেন। দলটির নাম জন সুরুজ। সেই দল প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর এই প্রথম বিহারের চারটি বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। আজ শনিবার ২৩ শে নভেম্বর ভোটের ফল প্রকাশের পর দেখা গেল প্রশান্ত কিশোরের জন সুরজের চারজন প্রার্থী জমানত জব্দ হয়েছে। প্রশান্ত কিশোর এই দলের প্রতিষ্ঠা উপলক্ষে সাংবাদিকদের কাছে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দোসরা অক্টোবর বলেছিলেন তিনি যদি আগামী বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তাহলে নীতিশ কুমারের দল কুড়িটি আসন ও পাবে না। কিন্তু ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার পর দেখা যাচ্ছে প্রশান্ত কিশোরের দলের চার প্রার্থী অবস্থা খুবই খারাপ বিহারের রাজনীতিতে কোনভাবেই দাগ কাটতে পারছে না। অথচ তিনি দাবি করে থাকেন একাধিক দলের নেতা কে তিনি প্রধানমন্ত্রী এবং মুখ্যমন্ত্রী বানিয়েছেন অথচ তিনি নিজের দলকেই সঠিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারলো না বিহারে। ভোটের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে,বেলাগঞ্জে মহম্মদ আজাদ পেয়েছেন ১৭,২৮৫ ভোট। সেখানে জয়ী জেডিইউ প্রার্থী মনোরমা দেবী পেয়েছেন ৭৩,৩৩৪ ভোট। ইমামগঞ্জে জিতেন্দ্রকে প্রার্থী করেছিলেন প্রশান্ত। তিনি ৩৭,১০৩ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন। এই আসনে জয়ী হয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতনরাম মাঝিঁর পুত্রবধূ দীপা মাঝিঁ। তিনি ৫৩,৪৩৫ ভোট পেয়েছেন। রামগড়ে জন সুরাজের সুশীলকুমার ৬,৫১৩ ভোট পেয়ে চতুর্থ হয়েছেন। বিজেপির অশোককুমার সিংহ ৬২,২৫৭ ভোট পেয়ে এই আসনে জয়ী হয়েছেন। তারারি আসনে জন সুরাজের কিরণ পেয়েছেন ৫,৫৯২ ভোট। এই আসনে বিজেপির বিশাল প্রশান্ত ৭৮,৫৬৪ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন।

Advertisement

সুতরাং প্রশান্ত কিশোর ভোট কুশলী হিসাবে যতটা সফল হয়েছেন একজন রাজনীতিবিদ হিসাবে ততটা সফল হতে পারবেন বলে মনে হচ্ছে না। এখন দেখার বিষয় ২০২৫ এর বিধানসভা নির্বাচনে এই প্রশান্ত কিশোর কোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে কিনা বিহার রাজনীতিতে সেদিকেই আমাদের সকলের দৃষ্টি থাকবে।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ