কলকাতা 

জগদীপ ধনকড়কে নিয়ে মিমিক্রি করা সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানালেন উপরাষ্ট্রপতি

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড়কে অনুকরণ করে মিমিক্রি করেছিলেন সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, তা নিয়ে কল্যাণকে নয় রাহুল গান্ধীকে আক্রমণ করেছিলেন উপরাষ্ট্রপতি স্বয়ং আর মন্তব্য করেছিলেন এই ধরনের মিমিক্রি অপমানজনক।

আর এই ঘটনা নিয়ে বেশ কয়েকদিন ধরে দেশের সংবাদ মাধ্যম প্রচারের আলোয় নিয়ে এসেছিল রাহুল গান্ধী এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে যে ভাষায় এবং যে আঙ্গিকে এই দুই রাজনীতিবিদকে আক্রমণ শুরু করেছিল সংবাদ মাধ্যম তা কহতব্য নয়। এই প্রেক্ষাপটেই যখন রাজনৈতিক চাপানউতোর চলছে ঠিক সেই সময় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিনে ফোন করলেন স্বয়ং উপরাষ্ট্রপতি।

Advertisement

জন্মদিনের শুধু শুভেচ্ছা নয় স্ত্রী সহ আমন্ত্রণ জানালেন বাড়িতে স্বয়ং উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড়। আজ বৃহস্পতিবার এ কথা জানিয়েছেন সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।কল্যাণ জানিয়েছেন, তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন রাজ্যপাল ধনখড়। নিজের বাড়িতে নৈশভোজের আমন্ত্রণও জানিয়েছেন। নতুন সংসদ ভবনের বাইরে এই ধনকড়কেই ‘নকল’ করেছিলেন কল্যাণ। ধনকড় জানিয়েছিলেন, এ সব মেনে নেওয়া যায় না। কল্যাণ পাল্টা জানিয়েছিলেন, এটা আসলে শিল্পেরই ধরন। কাউকে আঘাত করতে চাননি।

শুধু সাংসদ নন, তাঁর স্ত্রীর সঙ্গেও ফোনে কথা বলেছেন ধনকড়। এ প্রসঙ্গে কল্যাণ এক্সে লিখেছেন, ‘‘আমার জন্মদিনে যে উষ্ণ শুভেচ্ছা জানিয়েছে উপরাষ্ট্রপতি, সে জন্য তাঁকে ধন্যবাদ। আমি আপ্লুত যে, তিনি ব্যক্তিগত ভাবে ফোন করে আমার স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন। আমার পুরো পরিবারকে তাঁর আশীর্বাদ জানিয়েছেন।’’ তাঁকে ধনকড় যে সস্ত্রীক আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, সে কথাও জানিয়েছেন কল্যাণ। তিনি লিখেছেন, ‘‘আমার স্ত্রী এবং আমাকে তিনি দিল্লিতে নিজের বাড়িতে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, তাঁর পরিবারের সঙ্গে নৈশভোজের জন্য।’’

শীতকালীন অধিবেশনে সংসদের দুই কক্ষে একের পর এক সাংসদ সাসপেন্ড হয়েছিলেন। সেই সময় নতুন সংসদ ভবনের মকরদ্বারের সামনে জড়ো হয়েছিলেন তৃণমূল, কংগ্রেস, ডিএমকে, আরজেডি-সহ বিরোধী দলগুলির সাংসদেরা। সেখানে কল্যাণ বিভিন্ন ভঙ্গি, শারীরিক ভাষায় কিছু দেখানোর চেষ্টা করেছিলেন। মনে করা হয়েছিল, উপরাষ্ট্রপতি ধনখড়ের ‘নকল’ করছিলেন তিনি। কল্যাণের সেই ভঙ্গি দেখে হাসিতে লুটিয়ে পড়েন বিরোধী সাংসদেরা। কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীকে সেই ঘটনার ভিডিয়ো করতে দেখা গিয়েছিল। সেই সময় সংসদের ভিতরে বিজেপি সংসদীয় দলের বৈঠক চলছিল। উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

বিষয়টি কানে গিয়েছিল ধনকড়ের। তিনি জানিয়েছিলেন, ‘‘গোটাটাই হাস্যকর। এ জিনিস মেনে নেওয়া যায় না।’’ এই নিয়ে আসরে নামে বিজেপি। বিজেপি নেতা সুনীল দেওধর সমাজমাধ্যমে লিখেছিলেন, এই হল ‘ইন্ডিয়া’ জোটের আসল রূপ। ধনকড় জানিয়েছিলেন, কল্যাণের ওই ভিডিয়ো ভাইরাল হয়ে যাওয়ার পর তাঁকে ফোন করে দুঃখপ্রকাশ করেন মোদী। এক্স হ্যান্ডলে ধনখড় লিখেছিলেন, ‘‘তিনি (মোদী) আমাকে বলেছেন, তিনি ২০ বছর ধরে এই ধরনের অপমান সয়েছেন।’’ এই নিয়ে দুঃখপ্রকাশ করেছিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। তিনি এক্সে লিখেছিলেন, ‘‘সংসদ চত্বরে আমাদের শ্রদ্ধেয় উপরাষ্ট্রপতিকে যে ভাবে অপমান করা হয়েছে, তা দেখে আমি হতাশ হয়েছি।’’

কল্যাণ এই অভিযোগ মানতে চাননি। তিনি জানিয়েছিলেন, নকলনবিশি করা তো শিল্পের একটা ধরন। রাজনৈতিক প্রতিবাদের অনেক রকম ভাষা থাকে। প্রধানমন্ত্রীও সংসদের মধ্যে অতীতে মিমিক্রি করেছেন। তার জন্য কি তিনিও ক্ষমা চাইবেন? তিনি আরও জানিয়েছিলেন, কারও ভাবাবেগে আঘাত করার কোনও অভিপ্রায় ছিল না তাঁর। ধনকড় তাঁর সিনিয়র। তিনিও কল্যাণের মতোই আইনজীবী ছিলেন। কল্যাণের কথায়, ‘‘আমাদের পেশায় আমরা কারও ভাবাবেগে আঘাত করি না। আমি ওঁকে শ্রদ্ধা করি।’’

 


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ