সংসদে রং বোমা হানার ঘটনায় ঐক্যবদ্ধ বিরোধী শিবির, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতির দাবিতে অনড় বিরোধীরা
বাংলার জনরব ডেস্ক : তিন রাজ্যে কংগ্রেসের পরাজয়ের পর দেশের সমস্ত বিরোধী দল হতাশ হয়ে পড়েছিল গত বুধবার লোকসভায় রংবোমা নিয়ে দুই ব্যক্তি ঢুকে পড়ার পর থেকে বিরোধী শিবির ফের চাঙ্গা হয়ে গেছে। মহুয়া মৈত্রের ইস্যুতে বিরোধীরা খানিকটা একজোট হলেও তবু যেন কোথাও মনে হচ্ছিল ছন্নছাড়া ভাব। কিন্তু বুধবারের ঘটনার পর বৃহস্পতিবার সংসদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার দায়ে যেভাবে 15 জন সাংসদকে শীতকালীন অধিবেশন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে তারপর যেন বিরোধীরা আরো বেশি ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।
অবিলম্বে ১৫ জন সাংসদ এর সাস্পেনশন তুলতে হবে এই দাবিতে শুক্রবার সকাল থেকে দফায় দফায় বিক্ষোভ হই হট্টগোল শুরু হয় লোকসভা ও রাজ্যসভায়। এর ফলে দফায় দফায় অধিবেশন মুলতুবি করে দেওয়ার পর শেষ পর্যন্ত সোমবার পর্যন্ত অধিবেশন মুলতুবি করতে হয়।

সংসদের ভবনের সামনেও শুক্রবার বিক্ষোভ দেখান বিজেপি বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র সাংসদেরা। সেখানে হাজির ছিলেন বৃহস্পতিবার সাসপেন্ড হওয়া সাংসদেরাও। বিরোধীদের দাবি, বুধবারের হানাদারি নিয়ে শীতকালীন অধিবেশনে বিবৃতি দিতে হবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে। আগামী ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত সংসদের বর্তমান শীতকালীন অধিবেশন চলার কথা। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে ১৫ বিরোধী সাংসদের সাসপেনশনের জেরে অধিবেশনের বাকি দিনগুলিতেও অশান্তির সম্ভাবনা থাকছে।
গত ২৮ মে বিপুল সমারোহে নতুন সংসদ ভবনের উদ্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। সেপ্টেম্বরে গণেশ চতুর্থী তিথিতে অধিবেশন শুরু হয়েছিল নতুন ভবনে। কিন্তু তার তিন মাসের মধ্যেই সুরক্ষার গুরুতর গাফিলতি দেখা গেল সেখানে। বুধবার তিন স্তরের সুরক্ষা বলয় টপকে কী ভাবে চার বিক্ষোভকারী গ্যাস-ক্যানিস্টার নিয়ে ভবনের সংরক্ষিত এলাকায় পৌঁছে গেলেন, এমনকি তাঁদের মধ্যে দু’জন লোকসভার অধিবেশনে ঢুকে দর্শক আসন থেকে ফ্লোরে ঝাঁপ মারার সুযোগ পেলেন, তা নিয়ে বৃহস্পতিবার লোকসভা এবং রাজ্যসভায় সরব হন বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র সাংসদেরা। শাহের বিবৃতি দাবি করে সংসদের দু’কক্ষেই ওয়েলে নেমে স্লোগান তোলেন বিরোধী সাংসদেরা।
বিক্ষোভ সামাল দিতে না-পেরে রাজ্যসভার অধ্যক্ষ জগদীপ ধনখড় শীতকালীন অধিবেশনের বাকি দিনগুলির জন্য সাসপেন্ড করেন তৃণমূলের সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনকে। লোকসভায় সাসপেন্ড করা হয় ১৪ সাংসদকে। তাঁদের মধ্যে কংগ্রেসের ন’জন, সিপিএমের দু’জন, ডিএমকের দু’জন এবং সিপিআইয়ের এক সাংসদ রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার অধিবেশন শুরুর আগে সংসদ ভবনের বাইরে বিক্ষোভ দেখান বিরোধীরা। অধিবেশন শুরুর পরে মোদী-শাহের বিবৃতির দাবিতে ওয়েলে নেমে শুরু হয় বিক্ষোভ। পাল্টা স্লোগান ওঠে বিজেপির বেঞ্চ থেকেও। অশান্তির জেরে প্রথমে বেলা ১২টা, তার পরে ২টো, শেষে সোমবার পর্যন্ত মুলতুবি হয় লোকসভা এবং রাজ্যসভার অধিবেশন।

