মথুরার শাহী ঈদগাহ মসজিদ সংলগ্ন এলাকার উচ্ছেদ অভিযানের উপর ১০ দিনের স্থগিতাদেশ দিল শীর্ষ আদালত
বাংলার জনরব ডেস্ক: উত্তরপ্রদেশ মথুরায় শাহী ইদগাহ মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় আগামী ১০ দিন কোনও উচ্ছেদ অভিযান চালানো যাবে না বলে বুধবার নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট।
উল্লেখ্য মথুরার শাহী ঈদগাহ মসজিদ এলাকাটি কৃষ্ণের জন্মভূমি বলে হিন্দুত্ববাদীরা দাবি করে থাকে। ইতিমধ্যে এই বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেছে হিন্দুত্ববাদীরা তাদের দাবি হলো এই মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা করতে হবে। এরই মধ্যে এবার রেল দফতর এই এলাকায় মসজিদ চত্বরের আশেপাশে অবৈধ নির্মাণ ভাঙতে অভিযান শুরু করেছে এর ফলে কমপক্ষে তিন হাজার বাসিন্দা উচ্ছেদ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আর এ নিয়েই সুপ্রিম কোর্টের দারস্ত হয়েছিল এই এলাকার বাসিন্দারা।বুধবার সেই মামলার শুনানি চলাকালীন সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) তিন সদস্যের বেঞ্চ উচ্ছেদ অভিযানের উপর স্থগিতাদেশ দেয়। আপাতত ১০দিন ওই এলাকায় কোনও উচ্ছেদ অভিযান চালানো যাবে না। এক সপ্তাহ পরে এই মামলার আবার শুনানি হবে বলে জানা গিয়েছে।
মথুরায় কৃষ্ণ জন্মভূমি এলাকায় অবৈধ নির্মাণ ভাঙার প্রতিবাদে মামলা দায়ের হয়েছিল শীর্ষ আদালতে। রেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ, আদালত বন্ধ থাকার দিন বুলডোজার দিয়ে অন্তত ১০০টি বাড়ি ভেঙে ফেলা হয়। আবেদনকারীদের আইনজীবী দাবি করেন, এখনও ওই এলাকায় ৭০-৮০ টি বাড়ি অবশিষ্ট রয়েছে। কিন্তু আশপাশের অন্য বাড়িগুলি ধ্বংস হওয়ার কারণে সেগুলির উপরেও প্রভাব পড়েছে। যেহেতু আদালত বন্ধ থাকার দিনে উচ্ছেদ অভিযান হয়েছিল তাই এই বিষয়টিতে শীর্ষ আদালতের হস্তক্ষেপ দাবি করেন আবেদনকারীরা।
বুধবার শুনানির পরেই শীর্ষ আদালত জানিয়ে দেয়, আগামী ১০ দিনের জন্য মসজিদ এলাকায় সংলগ্ন এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো যাবে না। কেন্দ্রকেও নোটিস দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হবে এই সিদ্ধান্ত। আগামী সপ্তাহে ফের এই মামলার শুনানি হবে। প্রসঙ্গত, ঐতিহাসিকদের একাংশের দাবি মথুরার শাহী ইদগাহ মসজিদ এলাকাটি আসলে ভগবান কৃষ্ণের জন্মস্থান। এই দাবিতে আদালতে মামলা চলছে।
কৃষ্ণের জন্মস্থানে যেভাবে ভুলডোজার চালিয়ে ১০০ বাড়ি ভাঙ্গা হয়েছে তাতে মানবাধিকার যে ক্ষুন্ন হয়েছে তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। গতকালই স্বাধীনতা দিবসের দিনে দেশের প্রধান বিচারপতি এই বুলডোজার নীতির তীব্র সমালোচনা করেছিলেন তিনি বলেছিলেন দেশের প্রতিটি নাগরিকের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। আর সেই অধিকার সংবিধানগতভাবে স্বীকৃত।

