শিক্ষকদের বদলি প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার নির্দেশ! নেপথ্যে কারণ কি? জানতে হলে ক্লিক করুন
বাংলার জনরব ডেস্ক : নির্দেশ ছিল ১৫ জুন স্কুল খোলার পর ৬০৩ জন শিক্ষকের বদলি প্রক্রিয়া কার্যকরী করা হবে। কিন্তু স্কুল খোলার পর দেখা যাচ্ছে আপাতত ওই বদলি প্রক্রিয়া কার্যকর হচ্ছে না! গোটা প্রক্রিয়া থেকে স্থগিত রাখে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে! স্কুল শিক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে এই মর্মে একটি নির্দেশ মধ্যশিক্ষা পর্ষদকে পাঠানো হয়েছে।
হঠাৎ করে রাজ্য সরকার এই বদলি দিয়ে পিছু হটল কেন তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কারণ এই বদলির নেপথ্যে ছিল মহার্ঘ ভাতা নিয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করার জন্য শিক্ষকদের বদলি এ নিয়ে ইতিমধ্যে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের হয়েছে মামলার শুনানি চলছে। এই প্রেক্ষাপটে কলকাতা হাইকোর্ট জানিয়েছে এই বদলি প্রক্রিয়া নিয়ে পদ্ধতিগত ত্রুটি আছে তারপরেই এই প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার কথা বলা হলো। মনে করা হচ্ছে কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ যেভাবে প্রশ্ন তুলেছে এই বদলি নিয়ে তার ফলে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে রাজ্য সরকার। কারণ বদলির ক্ষেত্রে নিয়ম মানা হয়নি। দেখা যাচ্ছে কিছু কিছু শিক্ষককে ১০০ থেকে ১৫০ কিলোমিটার দূরেও বদলি করা হচ্ছে তা নিয়ে ইতিমধ্যে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা হয়েছে।
গত ১৩ থেকে ১৬ জুন, টানা চার দিন ধরে কলকাতা হাই কোর্টে বিচারপতি হরিশ ট্যান্ডন এবং বিচারপতি প্রসেনজিৎ বিশ্বাসের ডিভিশন বেঞ্চে এই বদলি মামলার শুনানি হয়। আদালত পদ্ধতিগত প্রশ্ন তুলে রিপোর্ট তলব করে রাজ্যের কাছে। মামলার পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা সোমবার (১৯ জুন)। গত বৃহস্পতিবার নির্দেশ বদলির স্থগিত রেখে বিজ্ঞপ্তি জারি করে রাজ্য স্কুল শিক্ষা দফতর।
কেন এই স্থগিতাদেশ? আদালতের চাপে? না কি অন্য কোনও কারণ? শিক্ষা দফতর একটি সূত্রে বলছে, তালিকায় থাকা বহু শিক্ষক বদলির নির্দেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়েছেন পর্ষদের কাছে। কেউ অসুস্থতাজনিত কারণ দেখিয়ে, কেউ আবার দূরত্বজনিত অসুবিধার কারণে বিষয়টি পুনরায় ভেবে দেখার আবেদন জানিয়েছেন। স্কুলশিক্ষকদের সেই সব আবেদন খতিয়ে দেখার জন্যই নির্দেশ স্থগিত রাখার এই সিদ্ধান্ত বলে ওই সূত্রের দাবি।
ঠিক ছিল, স্কুলে গরমের ছুটির পর বদলির নির্দেশ কার্যকর হবে। গত ১৫ জুন স্কুল খুলেছে। সেই দিনই সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখার নির্দেশ জারি হয়। বামপন্থী শিক্ষক সংগঠন এবিটিএ-র নেতা কৃষ্ণ ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘আমরা শিক্ষক বদলির সিদ্ধান্তের বিরোধী নই। কিন্তু গ্রামীণ স্কুলগুলিকে ফাঁকা করে দিয়ে, যেখানে শিক্ষকের প্রয়োজন নেই সেখানে অতিরিক্ত শিক্ষক দিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে ছিলাম আমরা। স্কুলগুলি যাতে কোনও ভাবে দুর্বল না হয়ে পড়ে আমাদের দাবি ছিল তার সপক্ষে।’’ বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির নেতা স্বপন মণ্ডল বলেন, ‘‘এ ভাবে শিক্ষকদের বদল করলে স্কুলগুলির ওপর চাপ বাড়তে পারে। আর শিক্ষক বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল একটি নির্দিষ্ট কারণে। আমরা জেনেছিলাম সরকার-বিরোধী আন্দোলনে শামিল হওয়ার জন্য বাছাই করে শিক্ষকদের বদলি করা হয়েছিল। আপাতত সেই নির্দেশ স্থগিত হয়ে যাওয়াই আমরা খুশি। আগামী দিনে শিক্ষক বদলের ক্ষেত্রে সরকার যেন প্রতি হিংসামূলক আচরণ না করেন সেটাই আশা করব।’’ তবে বদলির সিদ্ধান্তে ভুল কিছু দেখছে না পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি।

