নন্দীগ্রামের তৃণমূলের সভায় ডাক পাননি আবু তাহের, দোলা সেনকে ঘিরে কর্মীদের বিক্ষোভ, আবু তাহেরকে ব্রাত্য ! ভাবতেই পারছেন না তৃণমূল কর্মীরা
বিশেষ প্রতিনিধি : তৃণমূল কংগ্রেসে ইদানিং দেখা যাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেসের পুরনো নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে বিজেপির সঙ্গে যোগসাজশ আছে এমন নেতাকর্মীদের গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নন্দীগ্রাম আন্দোলনের অন্যতম মুখ আবু তাহের। শুধু তাই নয় আবু তাহের বর্তমানে নন্দীগ্রাম ১ নম্বর ব্লকের সহসভাপতি ও বটে। কিন্তু আজ বৃহস্পতিবার নন্দীগ্রাম ১ নম্বর ব্লকের তৃণমূল কংগ্রেসের বৈঠক ডাকা হয় সেই বৈঠকে নন্দীগ্রাম আন্দোলনের অন্যতম প্রথম সারির কান্ডারী এবং ব্লকের সহ-সভাপতি আবু তাহেরকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি শুধু আবু তাহের নয় তার অনুগামী পঞ্চায়েত প্রধানদেরও অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ করা হয়নি।
এর ফলে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে নন্দীগ্রামে তৃণমূল কর্মীরা। তারা আজ কলকাতা থেকে যাওয়া প্রাক্তন সাংসদ এবং শ্রমিক নেত্রী দোলা সেনের গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। কর্মীদের মূল অভিযোগ নন্দীগ্রাম ১ নম্বর ব্লকের সভাপতি স্বদেশ দাসের বিরুদ্ধে। স্বদেশ দাস আবার আবু সুফিয়ানের অনুগামী বলে পরিচিত।

যাই হোক এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আজ নন্দীগ্রাম ১ নম্বর ব্লকের সহ-সভাপতি তৃণমূল নেতা আবু তাহের সাংবাদিকদের বলেছেন, বিজেপির ঝান্ডা নিয়ে যারা আমাদের দল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়েছিলেন তারাই আজকের সভায় ডাক পেয়েছে। আমি এ বিষয়ে দলনেত্রীকে অবগত করব এবং বিচার চাইবো।
আবু তাহের বিচার চাইতে যাবেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ঠিকই, কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুমতি ব্যতিরেকে কি এই সভা হয়েছে ? এটা রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন। যেভাবে পাঁশকুড়ার যুব নেতা আনিসুর রহমানকে যেভাবে তৃণমূল কংগ্রেস রাজনৈতিকভাবে খতম করেছে ঠিক একইভাবে আবু তাহেরের মতো স্বচ্ছ এবং স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতাকে ব্রাত্য করার দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। আসলে তৃণমূল কংগ্রেসে সেই সকল মুসলিম নেতারা ঠাঁই পাবেন না যাদের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি আছে এটাই হচ্ছে বর্তমান তৃণমূল কংগ্রেসের অবস্থান।
যদিও এদিন সাংবাদিকদের কাছে তৃণমূল নেত্রী দোলা সেন বলেছেন কোন বিক্ষোভ হয়নি আমরা কর্মীদের সঙ্গে কথা বলছিলাম মাত্র। নন্দীগ্রামের এই বিক্ষোভের পর আজ যদি তৃণমূল ভবন বুঝতে না পারে কিংবা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি উপলব্ধি করতে না পারেন তাহলে আগামী দিন নন্দীগ্রামে যে আরো বড়সড় পরিবর্তন হয়ে যাবে তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই।
তাহের শিবিরের অভিযোগ, সুফিয়ানের লোকজনের জন্যই নন্দীগ্রামে নেত্রীকে হারতে হয়েছে। তার পরও সেই নেতাদের প্রশ্রয় দিয়ে যাচ্ছেন নেতৃত্ব। সুফিয়ান শিবিরের কর্মকাণ্ড নিয়ে কালীঘাটে দলনেত্রীর কাছে নালিশ জানাবেন বলেও তাহের জানিয়েছেন। সেই সময়ই কার্যালয়ে পৌঁছন দোলা, এবং বিক্ষোভের মুখে পড়েন। যদিও দোলার দাবি, “নন্দীগ্রামে কোনও বিক্ষোভ হয়নি। এখানে এসে কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছি।”

