Mamata Banerjee vs Suvendu Adhikari : “সাংবিধানিকভাবে নির্বাচিত একটি সরকারকে যদি ধারাবাহিক ভাবে কাজে বাধা দেওয়া হয়, তা হলে তা গণতান্ত্রিকভাবে সুখকর নয়’’ বিধানসভায় বিজেপি বিধায়কদের বিক্ষোভের নিন্দা করে বললেন মুখ্যমন্ত্রী,‘‘বাংলায় ভোটের ফল দেখেই বোঝা যাচ্ছে কারা গণতন্ত্র মানে” পাল্টা শুভেন্দু
বাংলার জনরব ডেস্ক : “সাংবিধানিকভাবে নির্বাচিত একটি সরকারকে এই ভাবে যদি ধারাবাহিক ভাবে কাজে বাধা দেওয়া হয়, তা হলে তা গণতান্ত্রিকভাবে সুখকর নয়।’’ বলে মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
আজ বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিনেই বিরোধী দল বিজেপি বিধায়কদের হই হট্টগোলে এবং চিৎকার-চেঁচামেচিতে ও বিক্ষোভের জেরে রাজ্যপাল তার পুরো বক্তব্য না পড়েই ভাষণ থামিয়ে দেন। আজকের এই নজিরবিহীন ঘটনার তীব্র নিন্দা করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিক বৈঠকে বলেন,‘‘বিজেপি গণতান্ত্রিক কোনও পদ্ধতি মানে না। আমরা যেখানে যেখানে আছি, সেখানে সেখানে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিকে সম্মান দিই। এটা কোনও প্রতিবাদের পদ্ধতি হতে পারে না।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘দুটো দিক এক করলে চলবে না। আমাদের লোকেরা কেউ কিন্তু কিছু বলেনি। আমরা এক ঘণ্টা অপেক্ষা করেছি। উনি তখন না পড়ে চলে যাচ্ছিলেন। তারপর আমাদের বিধায়করা বাধ্য হয়েছেন ওঁর চেয়ারের কাছে গিয়ে অনুরোধ করতে। আমাদের বিধায়করা বলেছেন, প্লিজ আপনি বাজেট পড়ুন। আমরা অনুরোধ করছিলাম, উনি একটা লাইন পড়ুন।’’

মুখ্যমন্ত্রীর আরও অভিযোগ, ‘‘আপনারা সবাই নিজেদের মতো করে হিসেবে করে নিন। আপনারা সবাই জানেন, কী হয়েছে, কী হচ্ছে। আমি খুব দুঃখিত। মর্মাহত। সাংবিধানিকভাবে নির্বাচিত একটি সরকারকে এই ভাবে যদি ধারাবাহিক ভাবে কাজে বাধা দেওয়া হয়, তা হলে তা গণতান্ত্রিকভাবে সুখকর নয়।’’
তিনি আরও বলেন,বাজেট বক্তৃতা পড়তে রাজ্যপালের উপর হয়তো কোন একটা ‘চাপ’ ছিল । সোমবার বিধানসভার বাজেট অধিবেশনে বিজেপি-র হাঙ্গামার পর কোনও মতে বাজেট বক্তৃতার প্রথম এবং শেষ লাইন পড়ে বিধানসভা থেকে চলে যান রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। তাঁকে বিদায় জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘অবশেষে রাজ্যপাল নিজের বক্তৃতা করেছেন। পড়ার ইচ্ছে ছিল না বা কিছু একটা চাপ ছিল ওঁর উপর। আমি ঠিক জানি না।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘রাজ্যপাল বাজেট বক্তৃতা না দিলে বাজেট অধিবেশন শুরু হত না। রাজ্যপাল সমন ডেকে বাজেট অধিবেশন শুরু করার প্রক্রিয়া করেছেন। তাই তো উনি পড়তে এসেছেন। আমরা বলেছিলাম সবটা পড়ার দরকার নেই। আপনি একটা লাইন পড়ুন।’’

মুখ্যমন্ত্রীর এই সব অভিযোগের জবাবে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, ‘‘বাংলায় ভোটের ফল দেখেই বোঝা যাচ্ছে কারা গণতন্ত্র মানে। এখানে ছাপ্পা, রিগিং—সব হচ্ছে। আর রাজ্যপালের উপর কোনও চাপ ছিল কিনা, তা তিনি বলতে পারবেন।’’

