কলকাতা 

হুগলী মাদ্রাসার পর মসজিদ বন্ধ ? সংবাদ মাধ্যমের এই খবর যদি সত্য হয় তবে তা অবশ্যই দুভার্গ্যজনক : ড. আবদুস সাত্তার

শেয়ার করুন
  • 85
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

প্রশ্ন : আপনাদের আমলে হুগলী মাদ্রাসা বাঁচাও কমিটির উদ্যোগে অনেক সভা সমাবেশ করা হয়েছে । আর এই সব সভা-সমাবেশের আগে হুগলী মাদ্রাসার ভেতর মসজিদে বসেই আলোচনা করা হত। সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ হুগলী মাদ্রাসা তো বন্ধ আছেই সেই সঙ্গে মাদ্রাসার ভেতরের মসজিদটিকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। এ বিষয়ে আপনার প্রতিক্রিয়া ?

ড. আবদুস সাত্তার : হুগলী মাদ্রাসার ভেতরের মসজিদ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে কিংবা মুসল্লীদের নামায পড়তে দেওয়া হচ্ছে না বলে সংবাদ মাধ্যমে যে খবর বেরিয়েছে তা যদি সত্যিই হয়ে থাকে তবে অবশ্যই দুভার্গ্যজনক। এ ধরনের কোন মানসিকতা আমাদের কোনকালেই ছিল না। আমরা এ ধরনের ধর্মীয় বিষয়গুলিতে হস্তক্ষেপ করতাম না। তাছাড়া হুগলী জেলার সদর শহর হিসেবে অনেক মানুষ এখানে নানা কাজে এসে থাকেন। তাঁদের নামাজ পড়ার জায়গা বন্ধ করে দেওয়া নিঃসন্দেহে সঠিক কাজ নয় বলেই আমরা মনে করি।

প্রশ্ন : আপনাদের আমলে মসজিদ নিয়ে এরাজ্যে সমস্যা তৈরি হয়েছিল । সেই সময়  জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ সহ একাধিক মুসলিম সংগঠন আন্দোলন করেছিল ,বিশেষ করে পাঁশকুড়ার সিদ্ধা মসজিদ এবং এয়ারপোর্টের মসজিদ—–?

ড. আবদুস সাত্তার :  ঠিকই বলেছেন । এই মসজিদের ক্ষেত্রে আন্দোলন হওয়ার কথা ছিল কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে কিন্ত তা হয়নি। আসলে, মূল টার্গেট করা হয়েছিল সেই সময় রাজ্য সরকারকে। কারণ পাঁশকুড়ার সিদ্ধা মসজিদকে সরানোর কথা বলেছিল কেন্দ্র সরকার । জাতীয় সড়কের সম্প্রসারনের স্বার্থে কেন্দ্রের সড়ক মন্ত্রক ওই মসজিদটি সরানোর কথা বলে। এই খবরে মুসলিম সংগঠনগুলি আন্দোলন শুরু করে। শেষ পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য কেন্দ্র সরকারের সড়ক মন্ত্রককে বিষয়টি বিবেচনা করতে বলেন। মুখ্যমন্ত্রীর অনুরোধে সাড়া দিয়ে রাস্তার মানচিত্র বদল করা হয়। আরেকটি মসজিদ হল বিমানবন্দর রানওয়ের সংলগ্ন  মসজিদ। এই মসজিদটিকে নিরাপত্তার কারণে সরানো উদ্যোগ নেয় কেন্দ্র সরকার। এটা নিয়েও মুসলিম সংগঠনগুলি আন্দোলনে নামে। আবার আমাদের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে সরাসরি অসামরিক পরিবহন মন্ত্রকের সঙ্গে কথা বলেন এবং মসজিদ রেখেই রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজ হয়। সুতরাং আমাদের আমলে আমরা চেষ্টা করেছি সমস্যার সমাধান করতে ।

প্রশ্ন : বামফ্রন্ট আমলে সম্প্রীতির বন্ধনটা দৃঢ় ছিল বলে মনে হয়, এখন যেন একটু একটু করে সেই সম্প্রীতির বন্ধন আলগা হচ্ছে । এটা কেন হচ্ছে বলে আপনার মনে হয় ?

ড. আবদুস সাত্তার : বামেরা গরীব মানুষদের সঙ্গে নিয়ে রুটি-রুজির লড়াই করেছে। মানুষের বেঁচে থাকার জন্য যা প্রয়োজন তা পাওয়ার জন্য আন্দোলন করেছে। আর এই আন্দোলন কোন বিশেষ ধর্মীয় সম্প্রদায়ের জন্য নয়। আমরা রুটি-রুজির লড়াইকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলাম বলেই সেই সময় ধর্মীয় মৌলবাদী শক্তির উত্থান ঘটেনি। কোন ধর্মকেই বামেরা বেশি গুরুত্ব দেয়নি । তাই সেই সময় অস্ত্র প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে অস্ত্র মিছিল কিংবা আরএসএস পরিচালিত বিদ্যালয়ের সংখ্যা এত বৃদ্ধি পায়নি। ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ভাঙার পর এ রাজ্যেও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করা হয়েছিল । কিন্ত বামপন্থীরা সজাগ থাকায় মৌলবাদীরা এই রাজ্যে বামেদের আমলে শিকড় গাড়তে পারেনি।

আজ পরিস্থিতি অনেকটাই পাল্টে গেছে । এখন রাম-নবমীর মিছিল নিয়ে শাসক দল ও বিজেপির মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে । ফলে সংকট বাড়ছে। শাসক যখন ধর্মকে মানুষের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় তখনই সম্প্রীতির বন্ধন আলগা হতে থাকে।

 

 


শেয়ার করুন
  • 85
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment