অন্যান্য 

জনতার প্রতিবাদ /২ : সরদার আমজাদ আলী

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ভারতের রাজনীতির প্রকৃত নিয়ন্ত্রক কে ? স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় থেকে স্বাধীনোত্তর ভারতের রাজনৈতিক উত্থান পতনের প্রকৃত নায়ক কারা ? তার চুলচেরা বিশ্লেষণ করেছেন বিশিষ্ট রাজনৈতিক ভাষ্যকার  প্রাক্তন সাংসদ সরদার আমজাদ আলী । বাংলার জনরব-এ ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হচ্ছে এই বিশ্লেষণ । দেশকালের প্রেক্ষাপটে যা আগামী দিনে ঐতিহাসিক দলিল হিসাবে চিহ্নিত হবে । আজ দ্বিতীয় কিস্তি। প্রকাশিত অংশের পর ….

…….. কিন্ত  পরবর্তীকালে  সেই বিশ্বাস হ্রাস পেতে শুরু করে  , যেজন্য অবশ্যই সাধারণ মানুষকে সর্বোতভাবে দায়ী করা সংগত হবে না । গুণগতভাবে কংগ্রেস নেতৃত্বের স্খলন , আদর্শগত বিচ্যুতি , জনজীবনে প্রভাব বিস্তার করছে এমন সব অগ্রহনীয় বিষয়গুলি সম্পর্কে স্বেচ্ছাকৃত উদাসীন্য এবং সর্বোপরি কিছু ক্ষমতালোভী আদর্শহীন ব্যক্তির ক্ষমতা লোলুপতার কারণে দল হিসাবে কংগ্রেসের প্রতি অনীহা – জনমানসে অতি দ্রুত স্ঞ্চারিত হয়েছে । এক ‘মনমোহনে’ সেই অসংখ্য ক্ষমতার দালাল রাজের ( যাদের পিছনে বৃহৎ পুঁজির মালিক , এক চেটিয়া ব্যবসাদার এবং ধর্মাশ্রয়ী মনসবদারদের পৃষ্ঠপোষক ছিল ) বিকল্পপূর্তি সম্ভব হয়নি ।

প্রকৃতি যেমন শূন্যতা পছন্দ করে না , রাজনীতির অঙ্গনেও তেমনি চির পুরাতন সুদক্ষ অভিনেতাদের অকর্মন্যতার সুযোগে , ভারতীয় জনতা পার্টি ভারতে এক নবযুগের সূচনার কান্ডারি হিসেবে জাতীয় রাজনীতিতে অনায়াসে স্থান করে নিতে সক্ষম হয়েছে এবং জনসাধারনের সমর্থনে সাংবিধানিক পন্থায় রাষ্ট্র শক্তি দখল করতে পেরেছে।

সার্বিক পূর্নবয়স্ক নাগরিকদের অধিকার সম্বলিত এক উদার জনগনতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় যেখানে সার্বভৌমত্বের মালিকানা সীমিত শিক্ষা , অস্বচ্ছল আর্থিক সংগতি এবং জিনগতভাবে ধর্মাশ্রয়ী নাগরিকদের হাতে , সেখানে যেকোনো দক্ষ রাজনৈতিক অভিনেতা সহজেই তার অভীষ্ট পূরনে রাজনৈতিক রঙ্গমঞ্চের দখল নিতে সক্ষম হয় । বিশেষ করে সে শক্তির রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিরা যখন নির্জবীতার ঘুমে আচ্ছন্ন থাকে , নিজেদের দুর্বলতার কারণে । বস্তু পক্ষে কংগ্রেস  দৃশ্যতভাবেই শুধুমাত্র আর্থ-সামাজিক এবং ধর্মীয়-রাজনৈতিক আদর্শে টানাপোড়েনেই মাত্র নয় তার নেতৃত্ব-সংকট  যে দৈন্যতার সামনে  দাঁড়িয়েছিল সেই অন্তদ্বন্দ্বের  মোকাবিলায় অসমর্থ হওয়ার যে অবশ্যম্ভাবী  ফল হওয়া উচিত ছিল , তাই-ই হয়েছে ।

বিগত সাত বছরের বিজেপি এবং তার সহযোগীদের শাসনে যে সব কর্মকান্ড ঘটিয়েছে তার ফলে ভারতের গণতান্ত্রিক পরিসর , বহুত্ববাদ এবং সংস্কৃতির  মৌলিকত্বের সংকোচন তথা দেশের আর্থ-সামাজিক  বৈকল্য  এক চরম পর্যায়ে পৌছেছে । দুই . রাষ্ট্রনায়কের সর্বাধিনায়কত্বে ‘ কংগ্রেস মুক্ত ভারতে’ এক নতুন ভারত গড়ার কৌশুলী প্রচেষ্টায় ; অপ্র্রচলিত এক উদ্ভট ধর্মাশ্রয়ী রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে সেই পদক্ষেপে আমলাতন্ত্রের নির্লজ্জ্ পূর্ণ সমর্পন এবং সহযোগিতায়, বিচার বিভাগের প্রচ্ছন্ন সমর্থনে যা সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তা হল গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ , বহুত্ববাদী সংস্কৃতির শিষ্ঠাচার তথা সম্প্রীতি এবং সৌহার্দের চিরন্তনী বাতাবরন । জাতীয় সংকটের এই দুঃস্বপ্নের সায়াহ্নকালে আজ আমরা এসে  দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছি ।

এটা অনস্বীকার্য যে, সংবাদ মাধ্যমের বদন্যতায় বিশ্ব পরিস্থিতির অধুনাতম অবস্থান সম্পর্কে ভারতীয় জনগন দক্ষতা অর্জন করেছে তাদের চিহ্নিত করতে ,যাদের  অভব্যতার কারণে দেশের সামাজিক –রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক অবস্থায় এই অভূতপূর্ব ব্যতিক্রমী সংকট সৃষ্টি হয়েছে এবং এই অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ ভারতবাসী –  বর্তমান  যে ‘পদ্ধতি’ ভারতের রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রিত করছে – সে সম্পর্কে সন্দিহান হয়ে উঠেছে ।

জনগনের এই মনস্তাত্ত্বিক অবস্থান কোনও দেশের পক্ষেই খুব গ্রহণযোগ্য পরিস্থিতি বলে বিবেচিত হয়নি ।  এই রকম অবস্থায় কোনও কোনও দেশ অদৃষ্টপূর্ব সন্ত্রাস এবং বীভৎস  পরিনতির দিকে পা বাড়িয়েছে যার ফলশ্রুতিতে সেই সব দেশে জনগণের সমস্ত মানবিক সাংবিধানিক , নৈতিক –আদর্শভিত্তিক অধিকার সংহারে সেনা সন্ত্রাসের মাধ্যমে এক অপ্রতিরোধ্য স্বৈরাচারী শক্তি ক্ষমতাসীন হয়েছে , আর জনগণ সেই শক্তির বন্দীশালায় দাসত্বের শৃঙ্খল পরতে বাধ্য হয়ে অমানবিক জীবন অভিশাপে অভিশপ্ত হয়েছে ।

ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক বাতাবরণে  সংখ্যাগরিষ্ঠ আধিপত্যবাদের অগণতান্ত্রিক স্বেচ্ছাচারী এবং নিপীড়নকামী শাসনের নাগপাশ থেকে জনগণকে অব্যাহতি দেবার জন্যে দেশের রাজনৈতিক দলগুলির  দোদুল্যমানতার কারণে নৈরাজ্যের পথে অগ্রসর হওয়ার  মতে গণমানসিকতা সৃষ্টি হওয়ার মত যথেষ্ট পরিসর তৈরি হয়েছিল সৌভাগ্যের কথা ভারত সে পথের পথিক হয়নি । পরিবর্তে যা ঘটছে তা শুধুমাত্র এক আদর্শ অবস্থা মাত্রই নয় , মানবাধিকারের সম্পর্কে জনগণের এই অনবদ্য সচেতনতা বিশ্বের কাছে ভারতীয় জনগণকে এক নতুন মূল্যায়নের দৃষ্টান্ত করে তুলেছে । ( চলবে)

 


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment