আন্তর্জাতিক 

হু-র আশংকাকে সত্যি করেই করোনা এখন দাপিয়ে বেড়াচ্ছে আমেরিকায় , আক্রান্তের সংখ্যা হু-হু করে বাড়ছে , উদ্বেগে ট্রাম্প প্রশাসন

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : কয়েক দিন আগেই বিশ্ব-স্বাস্থ্য সংস্থা হু জানিয়েছিল করোনার নতুন ভরকেন্দ্র হতে চলেছে আমেরিকা । সেই আশংকাকে সত্যি করে আমেরিকাতে করোনা সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা পৌছাল ৮৫ হাজারের বেশি । আক্রান্তের দিক থেকে চিন-ইটালি ও স্পেনকে পেছনে ফেলে দিল আমেরিকা । এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১৩০০ জনের ।

চিনে এখন করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বলে দাবি করেছে শি চিনফিং প্রশাসন। সেখানে নতুন করে আর তেমন কেউ আক্রান্ত হচ্ছেন না বলে দাবি করা হয়েছে। সব মিলিয়ে চিনে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৮১ হাজার ৩৪০। মৃত্যু হয়েছে ৩২৯২ জনের। সুস্থ হয়েছেন ৭৪ হাজার ৫৮৮ জন। ভাইরাসের উৎপত্তিস্থল চিনের উহান প্রদেশ হিসেবে ধরা হলেও বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ইটালিতে। সংখ্যা ৮২১৫। আক্রান্ত ৮০ হাজার ৫৮৯ জন। চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১০ হাজার ৩৬১ জন। ইটালির পর ইউরোপে সবচেয়ে বেশি করোনা সংক্রমণ হয়েছে স্পেনে। সেখানে আক্রান্ত ৫৭ হাজার ৭৮৬ জন। মৃত্যু হয়েছে ৪৩৬৫ জনের। সুস্থ হয়েছেন ৭০১৫ জন।

আশার কথা এই যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও মৃত্যু হার বেশি নয় । কিন্ত এতেও মার্কিন প্রশাসনের কপালে ভাঁজ দেখা দিয়েছে । কারন চিকিৎসক করার জন্য হাসপাতালে প্রয়োজনীয় বেড এবং ভেন্টিলেটর নেই ।

সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে নিউইয়র্ক ও নিউ অরলিন্সে। এই দুই রাজ্যে হাসপাতালে অনেককে জায়গা দেওয়াও সম্ভব হচ্ছে না বলে ট্রাম্প প্রশাসন সূত্রে খবর। নিউইয়র্কের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুওমো সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘‘ভেন্টিলেটরের চাহিদা আকাশচুম্বি। পরিস্থিতি যা, তাতে অবিলম্বে আর ভেন্টিলেটর পাওয়া যাবে না। আমরা অবশ্য হাত গুটিয়ে বসে নেই। আসলে এত ভেন্টিলেটর মজুতই নেই।’’ জানা গিয়েছে, নিউইয়র্কের সিটি হাসপাতাল, প্রেসবিটেরিয়ান, ম্যানহাটানে কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি মেডিক্যাল সেন্টারে একটি ভেন্টিলেটর দু’জন রোগীকে ভাগাভাগি করে দেওয়া হচ্ছে। রোগীর তুলনায় পর্যাপ্ত ভেন্টিলেটর না থাকাতেই পরীক্ষামূলক ভাবে এই ব্যবস্থা শুরু হয়েছে।”

এত দিন পর্যন্ত আমেরিকায় করোনার ভরকেন্দ্র নিউইয়র্ক থাকলেও গত সপ্তাহে বিপুল হারে সংক্রমণ বেড়েছে নিউ অরলিন্সে। এই রাজ্যেই গত সপ্তাহে ‘মার্ডি গ্রাস’ উৎসব হয়েছে। তাতে রাস্তায় বেড়িয়ে একসঙ্গে বহু মানুষ নাচ-গান-খাওয়া দাওয়া করেছেন। সেই উৎসবের জেরেই আক্রান্তদের সংখ্যা এ ভাবে বেড়েছে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের। সেখানেও একই ভাবে চিকিৎসা সামগ্রীর সঙ্কট দেখা দিয়েছে। লুইসিয়ানার গভর্নর জন বেল এডওয়ার্ড বলেছেন, এই হারে সংক্রমণ বাড়লে আগামী ২ এপ্রিলের মধ্যে ভেন্টিলেটর শেষ হয়ে যাবে। আর হাসপাতালের বেড শেষ হয়ে যাবে ৭ এপ্রিলের মধ্যে।


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment