কলকাতা 

অনশনরত UUPTWA –র প্রতিনিধিদের সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর বৈঠকে কোনো সমাধান বের হয়নি ; অনশন চলবে ; ২১ জুলাইয়ের শহীদ দিবসেও শিক্ষকদের অনশন কর্মসূচি কী শাসক দলের কাছে অশনী সংকেত ?

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : আলোচনার জন্য ডেকে ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী । কিন্ত সমাধান সূত্র বের হয়নি । সুতরাং শিক্ষকদের অনশন তোলার প্রশ্নও উঠছে না । আগামী কাল যখন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ধর্মতলায় ২১ জুলাইয়ে শহীদ দিবস পালন করবেন ঠিক তখনই সল্টলেকে রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষকদের একাংশ অনশন করবে । এটা গণতান্ত্রিক কাঠামোয় বেমানান দেখাবে নিশ্চয় । তাই ২১ জুলাই-র আগে যাতে শিক্ষকরা অনশন কর্মসূচি প্রত্যাহার করে তার জন্য আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় ।

কিন্ত আশা নিয়ে বৈঠক ডাকলেও উস্তি ইউনাইটেড প্রাইমারি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা শিক্ষামন্ত্রীকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন , তাদের সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ১৪জন শিক্ষকের বদলীর আদেশ প্রত্যাহার করে তাঁদের সকলকে পুরানো বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনতে হবে । আর পিআরটি স্কেলে বেতন  চালু করতে হবে । এই দুটি শর্ত লিখিতভাবে সরকার মেনে নিলে তাহলে তারা আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেবেন । এই দুটি শর্ত নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী আগাম কোনো ঘোষণা দিতে পারেননি বলে আলোচনা ভেস্তে যায় । ফলে প্রাথমিক শিক্ষকদের অনশন চলবে।

ন্যায্য বেতনের দাবিতে গত ৯ দিন ধরে সল্টলেকের বিকাশ ভবনের সামনে অবস্থানে বসেছেন প্রাথমিকের প্রায় চার হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা। অবস্থানে বসার পরের দিন থেকেই অনশন করছেন তাঁরা। অন্যান্য রাজ্যে প্রাথমিক শিক্ষকরা যে হারে বেতন পান, সেই হারে বেতন দিতে হবে— এই দাবিতেই আন্দোলন চলছে। আন্দোলনরত ১৪ জনকে নিয়ম বহির্ভূত ভাবে বদলিরও তাঁরা প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।

এ দিন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করেন আন্দোলনকারীদের মধ্যে কয়েক জন। কিন্তু সেই বৈঠকে কোনও সমাধানসূত্র না বেরনোয় তাঁরা অনশন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

এই বৈঠকের পরে শিক্ষামন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, “ক্লাস না করে অনশন চালিয়ে যাওয়া ঠিক নয়। তাঁরা যা দাবি করছেন, তাতে ৪ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হবে। কে দেবে এই টাকা? মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যথেষ্ট সহানুভূতি দেখিয়েছেন। অতিরিক্ত ব্যয়ভার সম্ভব নয়। কী ভাবে সমাধনসূত্র বের করা যায়, তা দেখা হবে।”

এ দিন সকালে রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষ অনশনরত শিক্ষকদের সঙ্গে দেখা করে পাশে থাকার বার্তা দেন। বলেন, “দেশের সর্বত্র সপ্তম বেতন কমিশন চালু হয়ে গিয়েছে। আর এখানে পঞ্চম বেতন কমিশনে মাইনে দেওয়া হচ্ছে। সরকারের চেতনা হওয়া উচিত। এই বেতন বৈষম্য কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না।”

 

 

 

 


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment