দেশ 

এক দেশ এক ভোট শীষর্ক আলোচনায় শুরুতেই ধাক্কা ; মোদীর ডাকে সাড়া দিলেন না ১৯ দলের নেতারা

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : দ্বিতীয় বার বিপুল গরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসার পর মোদী যে নিশ্চিন্তে দেশ শাসন করতে পারবেন না তা আরও একবার প্রমাণিত হল । এক দেশ এক ভোট শীর্ষক আলোচনা ডেকে ছিল কেন্দ্র সরকার । মূল উদ্দেশ্য হল , লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচন এক সঙ্গে করার সিদ্ধান্ত নেওয়া । সেই জন্যই দেশের সংসদে প্রতিনিধিত্ব আছে এমন ৪০টি রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানিয়ে ছিল কেন্দ্র । কিন্ত বৈঠকে দেখা গেলা । বৃহত্তর বিরোধী দলগুলিই এই বৈঠক বয়কট করেছে । কংগ্রেস , তৃণমূল , সমাজবাদী পার্টি , বহুজন সমাজ পার্টি মত প্রথম সারির বিরোধী দলগুলির নেতারা এই বৈঠকে যাননি । এই বৈঠকে সব কটি দলের প্রধানদের আমন্ত্রণ করা হয়েছিল । মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই চিঠি লিখে জানিয়ে দিয়েছিল যে তিনি যেতে পারবেন না । এই রকম একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা এত তাড়াতাড়ি ডাকা উচিত হয়নি বলেও তিনি চিঠিতে জানিয়েছিলেন ।

অন্য দলগুলি আগাম কিছু না জানালেও বৈঠকে না গিয়ে স্পষ্ট সংকেত দিয়েছে মোদীর ডাককে তারা গ্রাহ্য করছে না ।অনেক দিন ধরেই লোকসভা সব বিধানসভার ভোট একসঙ্গে করানোর পক্ষে সওয়াল করে আসছেন মোদী। আজ বুঝিয়ে দিলেন, দ্বিতীয় বার গদিতে বসে ওই পরিকল্পনা রূপায়ণ করতে তিনি বদ্ধপরিকর। আজ সর্বদলীয় বৈঠকে মোদী জানিয়েছেন, ‘এক দেশ, এক নির্বাচননিয়ে পরামর্শ দিতে একটি কমিটি তৈরি হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মতামত জানাতে বলা হবে কমিটিকে। তৃণমূলসহ অনেক রাজনৈতিক দলই বিষয়ে সবিস্তার আলোচনার দাবি তুলেছে।

লোকসভার সঙ্গেই বিধানসভা ভোট হলে আঞ্চলিক দলগুলির অস্তিত্ব বিপন্ন হতে পারে বলে তৃণমূলের মতো নানা আঞ্চলিক দলের আশঙ্কা রয়েছে। কারণ কোনও রাজ্যের
মানুষ লোকসভা ভোটে কেন্দ্রে বিজেপি বা কংগ্রেসের মতো জাতীয় দলকে ভোট দিলেও, পরে রাজ্যের বিধানসভায় আঞ্চলিক দলকে ভোট দেয়। একই সঙ্গে দুই ভোট হলে জাতীয় দলগুলিই প্রাধান্য পাবে। কারণ সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, কোনও রাজ্যে লোকসভা বিধানসভা ভোট একসঙ্গে হলে ৭৭ শতাংশ ভোটার একই দলকে ভোট দেন। বিরোধীদের আশঙ্কা, ক্ষমতায় বহু দিন টিকে থাকতেই মোদীএক দেশ, এক ভোটচাইছেন।

আজকের বৈঠকে আঞ্চলিক দল বিজেডির নবীন পট্টনায়ক, ওয়াইএসআর কংগ্রেসের জগন্মোহন রেড্ডি সমর্থন জানিয়েছেন মোদীর প্রস্তাবে। কিন্তু সিপিএমের সীতারাম ইয়েচুরি অভিযোগ তুলেছেন, হল ঘুরপথে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ধাঁচের ভোট চালু করা। এটি যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো গণতন্ত্রের বিরোধী।

সব চেয়ে বড় বিরোধী দল কংগ্রেস। তার সভাপতি রাহুল গাঁধীই আজকের বৈঠকে যোগ দেননি। গরহাজির ছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব, বিএসপি নেত্রী মায়াবতী, তেলুগু দেশমের চন্দ্রবাবু নায়ডু, আম আদমি পার্টির অরবিন্দ কেজরীবাল, ডিএমকে এম কে স্ট্যালিন। এনডিএ শরিকদের মধ্যে শিবসেনা দলের প্রতিষ্ঠা দিবসের জন্য বৈঠকে যোগ দেয়নি। আরজেডি, জেডি(এস)- বৈঠকে যায়নি। আবার ইউপিএশরিকদের মধ্যে এনসিপি শরদ পওয়ার বৈঠকে যোগ দেন। এডিএমকে, তেলুগু দেশম, আপ অবশ্য নিজের প্রতিনিধিদের পাঠাতে চেয়েছিল। কিন্তু শুধু দলের শীর্ষ নেতাদেরই আমন্ত্রণ ছিল বলে তাঁরা বৈঠকে যোগ দিতে পারেননি। জম্মুকাশ্মীরের ন্যাশনাল কনফারেন্সের ফারুখ আবদুল্লা, পিডিপি মেহবুবা মুফতি বৈঠকে যোগ দেন।

স্পষ্ট অবস্থান নানিলেও, কংগ্রেসের অভিযোগ, মোদী সরকার নজর ঘোরানোর জন্য সব প্রসঙ্গ তুলছে। তিনি যেতে পারছেন না বলে রাহুল সরকারকে জানিয়ে দেওয়ার পরে কংগ্রেসের গৌরব গগৈ বলেন, ‘‘ইভিএমএর বদলে ব্যালট, টাকা রাষ্ট্রযন্ত্রের ব্যবহারের মতো সংস্কারের কথা আমরাও বলছি। কিন্তু মোদী সরকার নজর ঘোরানোর জন্য একসঙ্গে ভোটের কথা বলছে। সরকার একইসঙ্গে ভোট করতে চাইলে, হিমাচলপ্রদেশ গুজরাত বিধানসভার ভোট আলাদা সময়ে হল কেন? এখন গুজরাতের দুটি রাজ্যসভার আসনের ভোটই বা আলাদা হচ্ছে কেন?’’ এসপি নেতা অখিলেশ যাদবেরও অভিযোগ, মোদী সরকার আসলে মানুষের সমস্যা থেকে নজর ঘোরাতে চাইছে। বিএসপি নেত্রী মায়াবতীর যুক্তি, গণতান্ত্রিক দেশে নির্বাচনকে সমস্যা হিসেবে দেখা উচিত নয়। বাজে খরচের
দাঁড়িপাল্লায় ভোটকে মাপা উচিত নয়। তাঁর বক্তব্য, ব্যালট পেপারে ভোট নিয়ে আলোচনা হলে তিনি এই বৈঠকে যোগ দিতেন।

বৈঠকের পরে রাজনাথ সিংহ দাবি করেন, ‘‘অধিকাংশ দলই এক দেশ, এক নির্বাচনকে সমর্থন জানিয়েছে। সিপিএম, সিপিআই ভিন্ন মত জানালেও, ওঁরা পরিকল্পনার বিরোধিতা করেননি। রূপায়ণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

 


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment