‘‘গুন্ডামির একটা সীমা থাকা দরকার। ভোটারেরা তো ভিখারি নন। কেন তাঁদের ভোটার কার্ডের জন্য চেয়ে চেয়ে বেড়াতে হবে?’’ : কুরেশি
বৃহস্পতিবার কলকাতায় এক অনুষ্ঠানে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন দেশের প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এসওয়াই কুরেশি। কেন কমিশনের কাজ বিচারব্যবস্থাকে করতে হচ্ছে, সেই প্রশ্নও তুলেছেন।
পশ্চিমবঙ্গে এসআইআরের তথ্যগত অসঙ্গতির নিষ্পত্তির ভার রয়েছে বিচারব্যবস্থার উপর। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কলকাতা হাই কোর্ট এই কাজে বিচারকদের নিয়োগ করেছেন। কিন্তু এখনও বহু নামের নিষ্পত্তি হয়নি। এ প্রসঙ্গে কুরেশি বলেন, ‘‘বিচারব্যবস্থা কেন নির্বাচন কমিশনের কাজের দায়িত্ব নেবে? যার যা কাজ, তার সেটাই সাজে। এখন তাঁদের ট্রাফিক সামলাতে দিলে কি পারবেন?’’
কমিশনের হাতে সর্বোচ্চ ক্ষমতাই কাল হয়েছে, মনে করেন কুরেশি। তাঁর কথায়, ‘‘বিআর অম্বেডকর এক দেশ বানাতে চেয়েছিলেন। তার জন্য স্বাধীন, স্বশাসিত কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন তৈরি হয়। কমিশনকে প্রচুর ক্ষমতাও দেওয়া হয়। কিন্তু এখন দেখছি সেই ক্ষমতাই বিনাশের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’’ নাম না করে দেশের বর্তমান মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকেও একহাত নিয়েছেন কুরেশি। বলেছেন, ‘‘গুন্ডামির একটা সীমা থাকা দরকার। ভোটারেরা তো ভিখারি নন। কেন তাঁদের ভোটার কার্ডের জন্য চেয়ে চেয়ে বেড়াতে হবে?’’
ভোটার তালিকা থেকে মৃত, ভুয়ো ভোটারদের বার করা উচিত, মেনে নিয়েছেন কুরেশি। কিন্তু তার জন্য এসআইআর প্রক্রিয়াকে সমর্থন করেননি তিনি। তাঁর প্রশ্ন, ‘‘ভোটার তালিকার ম্যাপিংয়ের অর্থ কী? ২০ বছর ধরে ভোট দেওয়ার পরেও এক জন ভোটারকে বৈধ বলা হবে না কেন?’’
দেশ জুড়ে জ্ঞানেশের পদত্যাগ চেয়ে এবং এসআইআর বাতিলের দাবিতে আন্দোলন চলছে। বিজেপিবিরোধী দলগুলির অভিযোগ, জ্ঞানেশ এসআইআরের মাধ্যমে ভোটার তালিকায় কারচুপি করেছেন। এ বিষয়ে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর থেকে আন্দোলনের ঝাঁঝ আরও বাড়ে। ওই রিপোর্টে দাবি করা হয়, এসআইআর পর্বে একাধিক সিদ্ধান্ত বেআইনি ভাবে একাই নিয়ে গিয়েছেন জ্ঞানেশ।

