কলকাতা পুরসভার আসন বিন্যাস নিয়ে রায় শুক্রবার, রায় ঘোষনা না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করা যাবে না নির্দেশ হাইকোর্টের
কলকাতা পুরসভার আসন পুনর্বিন্যাস (ডিলিমিটেশন) সংক্রান্ত মামলার রায় ঘোষণার আগে পুরভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করা যাবে না, জানিয়ে দিল হাই কোর্ট। আগামী শুক্রবার এই মামলার রায় ঘোষণা করা হবে। তার আগে পুরভোট নিয়ে কোনও বিজ্ঞপ্তি জারি করা যাবে না।
কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা ছিল ১৪৪টি। তা বাড়িয়ে করা হয়েছে ২০৯টি। ওয়ার্ডের এই পুনর্বিন্যাস আইন মেনে হয়নি বলে অভিযোগ তুলে হাই কোর্টে মামলা করেছিলেন কসবার বাসিন্দা সিপিএমের দীপু দাস। হাই কোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ তাতে কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ না দিয়েই দু’পক্ষের কাছে হলফনামা চেয়েছিল। বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্য রাজ্য সরকারকে চার সপ্তাহের মধ্যে এবং তার পরের দু’সপ্তাহের মধ্যে মামলাকারীকে হলফনামা দিতে বলেছিলেন। কিন্তু সিঙ্গল বেঞ্চের ওই অবস্থানকে চ্যালেঞ্জ করে মামলাকারী ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হন। তিনি জানিয়েছিলেন, ছয় সপ্তাহ অপেক্ষা করলে তত দিনে পুরভোট হয়ে যাবে এবং এই মামলার আর কোনও প্রাসঙ্গিকতা থাকবে না। সেই মামলার শুনানি বুধবার হয় বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য এবং বিচারপতি অর্জুন রায় মুখোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে।
হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটির দ্রুত শুনানির আর্জি জানানো হয়েছিল। কিন্তু বিচারপতি তখন তা খারিজ করে দেন। বুধবার তালিকা মেনেই পুরসভার আসন বিন্যাসের মামলাটি শুনানির জন্য ওঠে। ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, এখনই পুরভোর নির্ঘণ্ট ঘোষণা করতে পারবে না রাজ্য নির্বাচন কমিশন। আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে যে মামলা হয়েছিল, তার শুনানি শেষ হয়েছে। শুক্রবার রায় ঘোষণা করা হবে। তার আগে ভোটের বিজ্ঞপ্তি জারি করা যাবে না। মামলাকারীর হয়ে হাই কোর্টে সওয়াল করেন আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য।
কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ডের সংখ্যাবৃদ্ধির কথা জানিয়ে গত ১১ সেপ্টেম্বর বিজ্ঞপ্তি দেয় রাজ্য। সেই বিজ্ঞপ্তিকে চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে মামলা হয়। অভিযোগ, ওয়ার্ডগুলির সীমানা পুনর্নির্ধারণের ক্ষেত্রে যুক্তিসঙ্গত সামঞ্জস্য রাখা হয়নি। ওয়ার্ডগুলির জনসংখ্যা, ভৌগোলিক অবস্থান এবং প্রশাসনিক সামঞ্জস্যের বিষয়গুলি যথাযথ ভাবে বিবেচনা করা হয়নি। এমনকি, ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস কতটা যুক্তিসঙ্গত, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মামলাকারী। দাবি, কোনও একটি রাজনৈতিক দলকে সুবিধা পাইয়ে দিতেই এই কাজ করা হয়েছে। আদালতকে বিষয়টি বিবেচনা করার আবেদন জানান তিনি। ফলে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতর তৈরি হয়। অনেকের দাবি, এর প্রভাব পড়তে পারে ভোটের হিসাবেও। এই মামলায় আইনজীবী বিকাশরঞ্জনের সওয়াল, পুরসভা ভেঙে যাওয়ার পরে পুর কমিশনারের ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের সুপারিশ করার ক্ষমতাই নেই। অথচ তিনি সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করেছেন।

