বিজেপি কর্মীদের বিক্ষোভের মুখে কৌস্তুভ বাগচী
বিজেপি নেতা মণীশ শুক্লের খুনে অভিযুক্তদের সঙ্গে মন্ত্রী অর্জুন সিংহের ছবি দেখে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন বিজেপি বিধায়ক কৌস্তুভ বাগচী। সেই থেকে পাশাপাশি দুই বিধানসভার বিজেপি বিধায়কের গোষ্ঠীর মধ্যে তরজা অব্যাহত। এ বার ব্যারাকপুরে বিজেপি কর্মীদেরই বিক্ষোভের মুখে পড়লেন কৌস্তুভ!
শুক্রবার তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভের প্রেক্ষিতে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সুর শোনা গেল কৌস্তুভের গলায়। পাশাপাশি, পরিবহণমন্ত্রী অর্জুনকে নিশানা করে জানালেন, তিনি অন্য দলে টিকিট না-পেয়ে দল বদলে বিজেপিতে যোগ দেননি। মনে করালেন ২০২৪ সালের মার্চে ব্রিগেডে তৃণমূলের ‘জনগর্জন’ সমাবেশে অর্জুনের উপস্থিতি। এবং তার অব্যবহিত পর বিজেপিতে যোগদানের কথা।
শুক্রবার দুপুরে নীলগঞ্জের কৃষি ও পাট গবেষণা কেন্দ্রে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলেন কৌস্তুভ। তাঁর গাড়ি দেখে একদল স্থানীয় বিজেপি কর্মী হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে জাতীয় কৃষি ও পাট গবেষণা কেন্দ্রের সামনে হাজির হন। বিধায়কের গাড়ি করে বেরোতেই শুরু হয় ‘গো ব্যাক’ স্লোগান। দীর্ঘ ক্ষণ ধরে চলে অবস্থান বিক্ষোভ। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, মণীশের খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নোয়াপাড়ার বিধায়ক তথা রাজ্যের শ্রম ও পরিবহণমন্ত্রী অর্জুনকে নিয়ে প্রকাশ্যে বিরূপ মন্তব্য করেছেন কৌস্তুভ। তারই প্রতিবাদে তাঁদের এই বিক্ষোভ কর্মসূচি।
গত কয়েক দিন ধরে ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে কৌস্তুভ ‘বনাম’ অর্জুন গোষ্ঠীর রাজনৈতিক সংঘাত দেখা গিয়েছে। যে নেতারা বিজেপিতে এলে দলীয় কার্যালয়ের সামনে গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছেন কৌস্তুভ, তাঁদের একজনের বাড়িতে ‘বিজয়া’ করতে মিষ্টি নিয়ে পৌঁছে যেতে দেখা গিয়েছে বিজেপির আর এক গোষ্ঠীকে। এ বার দলীয় বিধায়ককেই ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দিলেন বিজেপির পুরুষ এবং মহিলা কর্মীরা।
কৌস্তুভের মন্তব্য, ‘‘ওই বিক্ষোভকারীরা সবই তৃণমূলের লোকজন। ৪ তারিখের পর (ভোটের ফলঘোষণার দিন) বিজেপি সেজেছে।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘আসলে হাতি চলে বাজার… ওদের ভালবাসি। তাই বাকি কথা আর বললাম না।’’ কৌস্তুভের দাবি, অর্জুনের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত বৈরিতা নেই। আর ‘প্রকৃত বিজেপি কর্মীদের’ মধ্যে তাঁর মন্তব্য নিয়ে কোনও খারাপলাগা নেই। বরং উল্টোটা। তার পরেই কৌস্তুভ বলেন, ‘‘আমার সহনশীলতাকে কেউ যেন দুর্বলতা যেন মনে না করেন, এই বার্তা দিলাম। আর আমি কিন্তু কোনও মঞ্চে থাকার পর টিকিট না পেয়ে দল পাল্টে বিজেপিতে আসিনি।’’
এ নিয়ে অর্জুন বা তাঁর ঘনিষ্ঠদের প্রতিক্রিয়া এখনও মেলেনি।

