জেলা 

বিদ্যাসাগরের বই কিনুন, ঈশ্বরচন্দ্রের জন্মভিটেতে পরামর্শ শুভেন্দুর, বীরসিংহের উন্নয়নে একাধিক প্রকল্প ঘোষণা সরকারের

শেয়ার করুন

শিক্ষা থেকে সাংস্কৃতিক ক্ষেত্র, সর্বত্র সংস্কারের প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে রাজ্য সরকার। পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটালের বীরসিংহে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মভিটেতে গিয়ে এই মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরকারি পাঠাগারগুলিকে সাজানোর কথা বলেছেন।

বুধবার ঘাটালের বীরসিংহে গিয়ে নানা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘বিদ্যাসাগর মহোদয়ের এই পুণ্যভূমিতে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথম বার এসেছি। এ আমার কাছে পরম আনন্দ এবং গর্বের। সরকারের পক্ষ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর ওঁর জন্মদিন পালিত হয়। কিন্তু গ্রামবাসীরা বাংলা সন-তারিখ ধরে পালন করেন।’’ বাল্যবিবাহ রুখে দেওয়ার জন্য নূপুর চঙরে, শ্রেয়া অধিকারী এবং তনুশ্রী সামন্ত নামে তিন ছাত্রীকে সংবর্ধনা দেন শুভেন্দু। তাদের সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, ‘‘তিন জন ছাত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। তারা নিজেদের অপ্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে বিবাহ দেওয়ার প্রচেষ্টা নিজেরাই রুখে দিয়ে বিদ্যাসাগরের দেখানো পথে আমাদের সামনে উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। মাত্র দু’দিনের নোটিসে আমার ইচ্ছা এবং স্বপ্নপূরণ করেছে।’’

বুধবার যক্ষ্মা রোগীদের হাতে খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন শুভেন্দু। বীরসিংহের উন্নতিকল্পে রাজ্য সরকার বেশ কিছু পরিকল্পনা করেছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘‘এই ভিটাকে আদর্শ গন্তব্য হিসাবে গড়তে চাই। কথায় নয়, কাজে হবে। রাস্তা চওড়া, রাতে থাকার ব্যবস্থা, মিউজিয়াম তৈরি, লাইব্রেরি তৈরি, আলোর ব্যবস্থা… ভারতবর্ষের মানুষের কাছে যাতে আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে ওঠে।’’

মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বিদ্যাসাগর শিশু উদ্যান তৈরি করা হবে, নতুন রাস্তা হবে। তা ছাড়া কমিউনিটি হল তৈরি হবে। রাত্রিবাসের জন্য আবাসিক হস্টেল তৈরি করার জন্য পর্যটন দফতরকে ব্যবস্থা করতে বলেছেন। তিনি বলেন, ‘‘অনেকে গবেষণা করতে চান, তাঁদের থাকার জন্য বিশেষ কটেজ করার জন্য ডিএম-কে জমি দেওয়ার জন্য বলেছি।’’ বিদ্যাসাগর প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘তাঁর অসীম সম্পদ তিনি দিয়ে গিয়েছেন। তাঁকে অনুসরণ করে চলবে এই সরকার। অংসখ্য বই রয়েছে, আর ‘এপাং ওপাং ঝপাং’ বই কিনবেন না। বিদ্যাসাগরের বই কিনুন, স্কুলের লাইব্রেরিগুলো ভরিয়ে দিন। আগে শুধু ভাষণ হয়েছে, কাজ কিছু হয়নি।’’

চলতি বছরের বন্যা হয়েছে ঘাটালে। একটি অংশ প্রভাবিত হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘মোহনপুর থেকে হেলিকপ্টারে উঠে এখানে এসেছি। আকাশপথে পরিস্থিতি দেখেছি। ঘাটালের বিধায়ক শীতল কপাটকে ধন্যবাদ দিচ্ছি… বন্যাকবলিত এলাকায় কী করা যায়, তার পরিকল্পনা করেছি।’’ ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের জন্য ১২০০ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা করে তিনি বলেন, ‘‘পুজোর পর বর্ষা হবে না। জুন মাস পর্যন্ত কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।’’’


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ