কলকাতা 

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানোর ছক করেছিল ক্যামাক স্ট্রীট! ঋতব্রতের নিশানায় অভিষেক?

শেয়ার করুন

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র হয়েছিল ক্যামাক স্ট্রিট থেকেই। এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিস্ফোরক দাবি করলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, ক্যামাক স্ট্রিট থেকে মোট ১৪ জন প্রার্থীকে হারানোর ছক করা হয়েছিল। তার মধ্যে প্রথম নামটিই ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের বহু আগেই তৃণমূলের অন্দরে নবীন-প্রবীণ দ্বন্দ্ব মাথাচাড়া দেয়। লড়াইটা ছিল মমতাপন্থী বনাম অভিষেকপন্থীদের। অপেক্ষাকৃত তরুণ নেতারা দলের ‘সেনাপতি’কেই মুখ হিসাবে চাইতেন। প্রবীণদের ভরসা ছিল ‘দিদি’। বিধানসভা ভোটের আগে সেভাবে এই দ্বন্দ্বের কথা না শোনা গেলেও তলায় তলায় একটা মুষল পর্ব চলছিল বলে দাবি ঋতব্রতর। তাঁর ইঙ্গিত, দলে নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে অভিষেকই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ আরও ১৪ জনকে হারানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। সেই মতো দলের নেতাদের নির্দেশও দেওয়া হয়। বিরোধী দলনেতার দাবি, তাঁর কাছে এই দাবির স্বপক্ষে যথেষ্ট সাক্ষ্যপ্রমাণও রয়েছে।

ওই সাক্ষাৎকারে ঋতব্রত জানিয়েছন, বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের ১৪ জন প্রার্থীকে হারিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তালিকার প্রথম নামটাই ছিল মমতার। পুরো তালিকাটিই তাঁর কাছে রয়েছে। তাতে মমতার পাশে আরও একাধিক চমকপ্রদ নাম থাকতে পারে। ঋতব্রতর ইঙ্গিত, অভিষেক চাইছিলেন মমতাকে হারিয়ে দিয়ে দল এবং সরকার দুটোর রাশই নিজের হাতে রাখতে। দরকারে এই সংক্রান্ত প্রমাণ তিনি আদালতে পেশ করতে পারেন বলেও দাবি করেন বিরোধী দলনেতা। কীভাবে হারানোর ছক কষা হয়েছিল? ঋতব্রতর কথায়, যে সব প্রার্থীদের নাম তালিকায় ছিল তাঁদের এলাকায় এজেন্টদের আটকে দেওয়া, ওই এলাকার গুরুত্বপূর্ণ কর্মীদের নিস্ক্রিয় করে দেওয়ার মতো পদক্ষেপ করা হয়েছিল।

চমকপ্রদভাবে বিধানসভা নির্বাচনে নিজের খাসতালুক ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে হারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই ফলাফল নিয়ে নানারকম বেনিয়মের অভিযোগও করেন। যার মধ্যে দলের এজেন্টদের ঢুকতে না দেওয়ার অভিযোগও ছিল। ঋতব্রতর দাবির সঙ্গে এই ঘটনার কোনও যোগসূত্র রয়েছে কিনা, সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ