নির্দল প্রার্থীর গ্রেফতারি পর এবার হুমায়ুন কবিরকে নোটিশ বহরমপুর পুলিশের! রেজিনগর উপনির্বাচন নিয়ে জমজমাট নাটক
রেজিনগরের উপনির্বাচনের আগে বিপাকে ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’ (এইউজেপি)-র হুমায়ুন কবীর। শনিবার বিকেলে হুমায়ুনের বাড়িতে হাজির হয় বহরমপুর থানার পুলিশ। নওদার বিধায়ক বাড়িতে ছিলেন না। তাঁর পুত্র গোলাম নবি আজাদ সই করে ওই নোটিস নেন। উল্লেখ্য, আসন্ন উপনির্বাচনে গোলামই রেজিনগরে এইউজেপি-র প্রার্থী। অডিয়ো-বিতর্কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বহরমপুর থানায় হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে হুমায়ুনকে।
সম্প্রতি এক ব্যক্তির সঙ্গে টেলিফোনে হুমায়ুনের কথোপকথন প্রকাশ্যে এসেছে। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ওই অডিয়ো অভিযোগ, ফোনে উস্কানিমূলক কথাবার্তা বলেছেন হুমায়ুন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। তদন্তে নেমে শনিবার বিকেলে হুমায়ুনের বাড়ি যায় বহরমপুর থানার পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, হুমায়ুনের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ২৯৯,১৪৮, ১৫২, ১৯২, ১৯৬ (২), ৬১(২) ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। নোটিসে পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, আগামী ২১ সেপ্টেম্বর সোমবার সকাল ১১টার সময় বহরমপুর থানায় হাজিরা দিতে হবে হুমায়ুনকে। পুলিশি সমন নিয়ে হুমায়ুন বলেন, ‘‘আমি বাড়িতে নেই। শুনলাম বাড়িতে পুলিশ এসে নোটিস দিয়েছে। এর আগেও এ সব করেছে। তবে ভোটের আগে ভয় দেখানোর চেষ্টা ছাড়া এ সব কিছুই না।’’
নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে, মামলার তদন্তকারী অফিসার রবীন্দ্রনাথ বিশ্বাসের সঙ্গে সহযোগিতা করতে হবে হুমায়ুনকে। অন্যথায় বিএনএস-এর ২০৮ ধারা অনুযায়ী আইননানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে। সে প্রসঙ্গে হুমায়ুন বলেন, ‘‘আমি সঠিক সময়েই তদন্তকারী অফিসারের কাছে পৌঁছে যাব। তাঁর সব প্রশ্নের উত্তর দেব।’’ তবে অডিয়ো-বিতর্কে ‘ষড়যন্ত্রের’ আভাস পাচ্ছেন নওদার বিধায়ক। তিনি বলেন, ‘‘চক্রান্ত করে আমাকে ফাঁসানোর জন্য সে দিন আমায় ফোনটা করা হয়েছিল। পুলিশ সুপারকে ইতিমধ্যেই ইমেল করে বিষয়টা জানিয়েছি। যথাযথ তদন্তের আবেদন করেছি।’’
বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভিডিয়ো-বিতর্কে নাম জড়িয়েছিল হুমায়ুনের। ভোটের আগে হঠাৎই সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল হুমায়ুনের একটি ১৯ মিনিটের ভিডিয়ো। সেই ভিডিয়ো প্রকাশ্যে এনে হুমায়ুনের সঙ্গে বিজেপির ‘গোপন আঁতাঁত’-এর অভিযোগ তোলে তৃণমূল, যা নিয়ে তোলপাড় হয় রাজ্য রাজনীতি। ওই ভিডিয়োয় শোনা যায়, বিজেপির কাছে এক হাজার কোটি টাকা চেয়েছিলেন তিনি। ২০০ কোটি টাকা অবিলম্বে দেওয়ার কথা বলেছিলেন। বিনিময়ে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রীকে পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাসও ভিডিয়োতে দিতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে । সেই ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসতেই বিধানসভা ভোটে হুমায়ুনের দলের সঙ্গে জোট ভাঙে আসাদউদ্দিন ওয়েইসির ‘মিম’। সেই ভিডিয়ো নিয়ে থানার একাধিক অভিযোগ দায়ের হয়। সেই মামলার সূত্রে শক্তিপুর এবং রেজিনগর থানায় বেশ কয়েক বার তদন্তকারীদের মুখোমুখি হতে হয়েছে হুমায়ুনকে। এ বার অডিয়ো বিতর্কে পেলেন পুলিশের সমন।

