কলকাতা 

বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক বদলি ও পিএফ নীতি সংশোধনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের পথে ১৬ টি অধ্যাপক সংগঠন

শেয়ার করুন

বিশ্ববিদ্যালয় গুলিতে শিক্ষক বদলি ও পিএফ নীতি সংশোধনের প্রতিবাদে যৌথ আন্দোলন ডাক দিল রাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সংগঠনগুলি। ১৬ টি অধ্যাপক সংগঠনের পক্ষ থেকে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে রাজ্যপালের কাছে দরবার করা হবে বলে জানা গেছে। আজ কলকাতা প্রেস ক্লাবে এই 16 টি অধ্যাপক সংগঠনের পক্ষ থেকে সাংবাদিক সম্মেলন করা হয় সেখানে রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষক ও গবেষকদের বদলি সংক্রান্ত নতুন আইন এবং প্রভিডেন্ট ফান্ডে অভিন্ন নিয়মের প্রস্তাব ঘিরে তীব্র অসন্তোষ দানা বেঁধেছে শিক্ষামহলে। শিক্ষক বদলির বিধান এবং নীতিগত পরিবর্তনের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে আইনি লড়াই ও রাজপথের আন্দোলনের হুঙ্কার দিয়েছে প্রায় ১৬টি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সংগঠন। পশ্চিমবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, আবুটা, গবেষক ও ওয়েবকুটার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে এই হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

২০১৭ সালের আইনে সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত কলেজগুলিতে বদলির নির্দিষ্ট প্রভিশন না থাকলেও, নতুন সংশোধনী বিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মীদেরও বদলির রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে। ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটিজ অ্যান্ড কলেজেস (অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড রেগুলেশন) (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’-এর মাধ্যমে ১৭ সালের আইনে নতুন ১৪এ ধারা যুক্ত হতে চলেছে। এর ফলে প্রশাসনিক প্রয়োজনে রাজ্য সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করে আচার্য বা চ্যান্সেলর কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীকে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে বদলি করতে পারবেন।

এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পার্থ প্রতিম রায় জানান, কলেজ শিক্ষকের সম্মতি ছাড়া বদলি করা যাবে না এই প্রসঙ্গে কেরালা-সহ বিভিন্ন হাইকোর্টের একাধিক রায় রয়েছে। আইনের কথা বলা হলেও সেখানে কোনও স্পষ্ট নীতি বা নিয়মের উল্লেখ নেই বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মহালয়া চট্টোপাধ্যায় উপাচার্য নিয়োগের জটিলতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ব্যাপক শূন্যপদের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪৩ শতাংশ পদ খালি পড়ে রয়েছে এবং ছোট বিভাগগুলিতে মাত্র এক-দুজন শিক্ষক দিয়ে কাজ চালাতে হচ্ছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, উচ্চশিক্ষামন্ত্রীর ব্যবহার করা ‘ইনব্রিডিং’ শব্দের মাধ্যমেই স্পেশালাইজেশনের পরম্পরাকে আক্রমণ করা হচ্ছে। এই ধরনের আইন বলবৎ থাকলে মেধাবী শিক্ষক ও মাস্টার মশাইরাও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে ঝুঁকবেন।

আবুটার প্রতিনিধি গৌতম মাইতি জানান, বাম আমল থেকেই শিক্ষার তহবিলে টানটান ভাব রেখে প্রতিষ্ঠানগুলিকে রুগ্ন করার চেষ্টা হয়েছে। কন্ট্রাকচুয়াল ও পার্টটাইম শিক্ষকদের ওপর নির্ভরতা না বাড়িয়ে ইউজিসির নিয়ম মেনে অবিলম্বে শূন্যপদে নতুন স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগের দাবি তুলেছেন তিনি। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক পরিপূর্ণা মজুমদার পিএইচডি গবেষণার ক্ষেত্রে এই বদলির সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাবের কথা তুলে ধরে জানান, সুপারভাইজারদের বদলি হয়ে গেলে গবেষণার ধারাবাহিকতা নষ্ট হবে, রেজিস্ট্রেশন বাতিল হতে পারে এবং প্রথম প্রজন্মের গবেষকদের ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণ অন্ধকারে চলে যাবে।

অন্যদিকে, সরকারের প্রকাশিত ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটি লজ (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’-এর মাধ্যমে গৌড়বঙ্গ, প্রেসিডেন্সি, রবীন্দ্রভারতী, সিধো-কানহো-বিরসা সহ মোট ২১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভিডেন্ট ফান্ড (PF) সংক্রান্ত আইনেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলির পিএফ পরিচালিত হবে ১৯৮৩ সালের নির্দিষ্ট আইনের অধীনে। সরকারের পক্ষ থেকে বদলি ও পিএফ উভয় ক্ষেত্রেই আইনি কাঠামো স্পষ্ট ও অভিন্ন করার কথা বলা হলেও, শিক্ষক ও গবেষক মহলের জোরালো আন্দোলন এবং আইনি লড়াইয়ের ঘোষণায় পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ