কলকাতা 

চলে গেলেন বিশিষ্ট চিকিৎসক ও বর্ধমান দুর্গাপুরের সাংসদ ডঃ মমতাজ সংঘমিতা

শেয়ার করুন

সেখ ইবাদুল ইসলাম :  চলে গেলেন বিশিষ্ট চিকিৎসক ও বর্ধমান দুর্গাপুরের প্রাক্তন সাংসদ ডঃ মমতাজ সংঘমিতা। মৃত্যু কালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। বেশ কয়েক মাস ধরে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। কলকাতা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের তিনি অধ্যাপক ও স্ত্রীরোগ বিভাগের প্রধান ছিলেন। সমাজ সেবায় মমতাজ সংঘমিতা এক অনন্য নাম। সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল নিবিড়।

মানুষ হিসেবে তিনি ছিলেন নরম মনের। এই প্রতিবেদক বাংলার অনেক চিকিৎসক অধ্যাপক এবং সাধারন মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন তাদের তুলনায় অনেক উন্নত মনের মানসিকতার মানুষ ছিলেন মমতাজ সংঘমিতা। মাত্র দুমাস আগেই হঠাৎ দেখা হয়েছিল উনার দিলখুসা স্ট্রিটের বাড়িতে। অনেকক্ষণ ধরে কথা বললে শরীরটা ভেঙে গেছে তারপরেও আমার সঙ্গে দেখা হওয়ার জন্যই তিনি বাড়ি যাওয়াটা বেশ খানিকক্ষণ পিছিয়ে দিলেন। গাড়ির ড্রাইভার অপেক্ষা করছেন বললেন ইবাদুল এসেছে, একটু কথা বলে নিই তারপর যাচ্ছি।

গত দুই সপ্তাহ আগে ফোন করে জানতে চাইলাম শরীর কেমন আছে উনি বললেন ভালো নেই আমি। তোমরা থাকবে। এই পৃথিবীটাকে দেখবে সুন্দর করে দেখো। আমরা যে পৃথিবী দেখেছিলাম আমরা যে মানুষ দেখেছিলাম তার অনেক পরিবর্তন হয়েছে। আমরা কোনদিন ভাবি নি হিন্দু মুসলমানের মধ্যে বিভেদ আমরা সবাই সবাই ভাই ছিলাম সবাই সবার আত্মীয় ছিলাম এখনো অনেক বাংলা পরিবর্তন হয়েছে এই বাংলাকে রক্ষা করার দায়িত্ব তোমাদের সকলের। আমার শরীর ভালো নেই। এই কথাগুলো শুনতে ভালো লেগেছিল। কিন্তু তখনও ভাবিনি মমতাজ সংঘমিতা এভাবে চলে যাবেন। এই প্রতিবেদককে বরাবরই সন্তান তুল্য হিসাবে মনে করতেন। আমাকে পরামর্শ দিতেন শরীরের যত্ন নিতে। তারপর তিনি নিজেই আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন।

অভিজাত পরিবারের সন্তান ছিলেন। বাবা ছিলেন স্বাধীনতার সংগ্রামী সৈয়দ মনসুর হবিবুল্লাহ। দাদু ছিলেন বড় আধ্যাত্মিক মানুষ। নিজেদের বংশপরিচয় বলতে গিয়ে উনি আমাকে বলেছিলেন আমাদের পূর্বপুরুষ সুদূর ইরাক থেকে বাংলায় এসেছিলেন। সম্ভবত মুঘল যুগে।  তাদের পূর্ব পুরুষদের একজন মদিনা শহরের এক বিখ্যাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। হাসেম আলী অবিভক্ত বাংলার মুসলিম লীগের যিনি সভাপতি ছিলেন তিনি উনার আত্মীয় হতেন। সাম্প্রতিক প্রয়াত বদরুদ্দীন ওমর বাংলাদেশের বিখ্যাত লেখক এবং বুদ্ধিজীবী হলেও তিনি বাংলার মানুষ ছিলেন এবং তিনি মমতাজ সংঘমিতার মামা হতেন। তাই মাতৃ এবং পিতৃ পরিচয় অভিজাত পরিবারের মেয়ে ছিলেন মমতাজ সংঘমিতা।

আর শুনতে পাওয়া যাবে না সেই কথাগুলো। যে কথাগুলো এক আনতে বলতেন উনি। চলে গেলেন আমাদের সকলকে ছেড়ে। রেখে গেলেন এক কন্যা ডক্টর সাবানা চৌধুরী, জামাই এবং একমাত্র নাতিকে। প্রসঙ্গত বলা প্রয়োজন মমতাজ সংঘমিতা সৈয়দ মনসুর হাবিবুল্লাহর একমাত্র কন্যা এবং কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মরহুম নূরে আলম চৌধুরীর স্ত্রী।

আগামীকাল শুক্রবার ২৮শে আগস্ট মমতাজ সংঘমিতা আর মৃতদেহ তার পৈত্রিক বাড়ি দিলখুসা স্ট্রিটে বেলা দশটা থেকে বারোটা পর্যন্ত শায়িত থাকবে। বেলা ১ টায় তিন নম্বর গোবরায় জুম্মার নামাজের পর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। আগ্রহীরা জানাজায় অংশ নিতে পারেন।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ