যোগ দিবসের কর্মসূচিতে রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক নয়!
বাংলার জনরব ডেস্ক : যোগ দিবসের কর্মসূচিতে রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক নয়। শুক্রবার কলকাতা হাই কোর্টের প্রশ্নের প্রেক্ষিতে এমনটাই জানাল রাজ্য। রাজ্যের বিজেপি সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, ওই অনুষ্ঠানে কারও উপস্থিতি বাধ্যতামূলক নয়। সরকারি কর্মচারীদের কেউ উপস্থিত না-হলে তাঁর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে না বলেও জানানো হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মুখ্যসচিবের দফতর থেকে ১৪ জুন একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল। ওই নির্দেশিকায় বলা হয়েছিল, রাজ্য সরকারের সমস্ত স্তরের স্থায়ী, অস্থায়ী, চুক্তিভিত্তিক, দৈনিক মজুরিভিত্তিক, আউটসোর্সড (চুক্তির মাধ্যমে অন্য সংস্থার যে কর্মীরা সরকারের কাজ করেন) কর্মী এবং সাম্মানিকের বিনিময়ে যাঁরা কাজ করেন, তাঁদেরও এই কর্মসূচিতে যোগ দিতে হবে। এ ছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা এবং স্থানীয় সংস্থার কর্মীদেরও যোগ দিবস পালন করতে বলা হয়।
এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল বাম প্রভাবিত সরকারি কর্মচারী সংগঠন কো-অর্ডিনেশন কমিটি। বৃহস্পতিবার এই মামলার শুনানিতে বিচারপতি অমৃতা সিংহ নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, রাজ্যের এমন বিজ্ঞপ্তি জারির এক্তিয়ার আছে কি না, তা শুক্রবার হলফনামা দিয়ে জানাতে হবে। শুক্রবার রাজ্য জানিয়ে দিল যে, যোগ দিবসের কর্মসূচিতে সরকারি কর্মচারীদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক নয়।
আগামী ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের কর্মসূচিতে যোগ দিতে কলকাতায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই উপলক্ষে গত কয়েক দিন ধরেই জোরকদমে চলছে প্রস্তুতি। কর্মসূচি ঘিরে রেড রোডে যান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে এবং বৃহৎ পরিসরে অবকাঠামোগত প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে কলকাতা হাইকোর্টে একটি মামলাও দায়ের হয়। হাই কোর্ট অবশ্য রাজ্যের এই সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করেনি। কোনও ধরনের অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশও দেয়নি। তবে জনস্বার্থে পুলিশকে বিকল্প রাস্তা দিয়ে যান চলাচলের ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল কর্মসূচিটি হবে কলকাতার রেড রোডে। বর্ষাকাল এবং শহরের বিভিন্ন মাঠের কর্দমাক্ত পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করেই এই স্থান নির্বাচন করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য প্রায় ৩৮ হাজার মানুষ নাম নথিভুক্ত করেছেন।
মূল মঞ্চের সামনে প্রায় ৩৫ হাজার মানুষের বসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে কলকাতা পুর এলাকা এবং সংলগ্ন বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত কর্মসূচিগুলির মাধ্যমে কয়েক লক্ষ মানুষ এই যোগ উৎসবে যোগ দেবেন বলে আশা করছে প্রশাসন।

