কলকাতা বিনোদন, সংস্কৃতি ও সাহিত্য 

দোলশচাঁপা ফাউন্ডেশনের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান 

শেয়ার করুন

১লা জুন ২০২৬, সোমবার, পশ্চিমবঙ্গ বাংলা একাডেমিতে, দোলনচাঁপা নজরুল ফাউণ্ডেশন কবিতীর্থ চুরুলিয়া আয়োজিত “হৃদয়ে কবি নজরুল ” শীর্ষক এক অতি সুন্দর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে পুরস্কার প্রদান করা হলো।

সব্যসাচী পুরস্কার পেলেন দুজন বিশিষ্ট ব্যক্তি, শ্রী রবীন মুখার্জি, কলকাতা এবং শ্রী নন্দন সিংহ, কাটোয়া । কাজী সব্যসাচী ” অগ্নিবীণা ” শুরু করার অল্পদিনের মধ্যেই মারা যাওয়ার পরে, সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব নিয়ে সুন্দরভাবে ধরে রেখেছিলেন রবীন মুখার্জী। তাঁর উজ্জ্বল উপস্থিতি অনুষ্ঠানে অন্য মাত্রা নিয়ে এসেছিল। বর্তমানে তিনি সভাপতি। অন্যদিকে কাটোয়ার বিশিষ্ট বাচিকশিল্পী শ্রী নন্দন সিংহ দীর্ঘদিন ধরে বহরমপুরের নামকরা নাট্যদল “ছান্দিক” এর সঙ্গে যুক্ত। কাটোয়ায় তাঁর আবৃত্তিস্কুল অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করে চলেছেন। এই দুজনকে সব্যসাচী পুরুস্কার প্রদাণ করা হয়েছে।

এবছর থেকে কাজী নজরুল ইসলামের ভ্রাতুষ্পুত্র কাজী রেজাউল করিমের নামে আরও একটা পুরুস্কার প্রদাণ চালু হল – ” কাজী রেজাউল করিম পুরুস্কার “। কলকাতার দুজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে এই সম্মানে সম্মানিত করা হয়েছে। বিশিষ্ট কবি, সাংবাদিক শ্রী বরুণ সেনগুপ্ত, (কলকাতা ) দীর্ঘ চল্লিশ বছরের ও বেশি সময় ধরে সাংবাদিকতায় রয়েছেন এবং তিরিশ বছর ধরে চুরুলিয়ায় নজরুলের পরিবারের সঙ্গে যুক্ত থেকে নজরুলের ভাবাদর্শকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন। অন্যদিকে বহরমপুরের মেয়ে, বর্তমানে কলকাতার বাসিন্দা বাচিকশিল্পী, কবি ও স্কুল শিক্ষিকা সাবিনা সৈয়দ দীর্ঘদিন ধরেই কলকাতার বিভিন্ন মঞ্চে, বাংলাদেশে, ত্রিপুরায় আবৃত্তি পরিবেশনা করে চলেছেন। পাশাপাশি তিনি চুরুলিয়ায় নজরুল পরিবার, বিশেষ করে কাজী রেজাউল করিমের সুপরামর্শে নজরুলের ভাবাদর্শ কে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন। শ্রী বরুণ সেনগুপ্ত, কলকাতা এবং সাবিনা সৈয়দ মহাশয়া, কলকাতা, এই দুজনকে প্রদাণ করা হয়েছে কাজী রেজাউল করিম পুরুস্কার।

নজরুল বিষয়ক বহু সুন্দর, সুন্দর কবিতা লেখার পাশাপাশি নজরুল সাহিত্যকে জনপ্রিয় করে সাধারণের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছেন কবি জয়দীপ চট্টোপাধ্যায়। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়য়ের পঞ্চম প্রজন্ম শ্রী জয়্যদেব চট্টোপাধ্যায়কে প্রদাণ করা হলো ধ্রুপদী কবি পুরুস্কার।

বহুদিন যাবৎ ” হরিৎক্ষেত্র ” নামাঙ্কিত একটি পত্রিকা সম্পাদনা করে চলেছেন জামুড়িয়ার কবি শ্রী চিরঞ্জীব রায়। ‘ হরিৎক্ষেত্র ‘ নামটি ঠিক করে দিয়েছিলেন কাজী রেজাউল করিম মহাশয়। আগুনকবি পুরুস্কার” প্রদাণ করা হলো চুরুলিয়ার পাশে জামুরিয়ার কবি শ্রী চিরঞ্জীব রায়কে।

দক্ষ সংগঠক পুরুস্কার পেলেন নিউটাউনের কবি শ্রী নীলাচল চট্টোরাজ এবং নন্দিনী লাহা। ডনবক্সোর প্রাক্তন শিক্ষক, কবি নীলাচল চট্টোরাজ বহুদিন ধরেই ছোটোদের সংগঠন ” কবিতা স্টুডিও ” দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করে চলেছেন। অন্যদিকে নন্দিনী লাহা হলেন কলকাতার বিশিষ্ট সঞ্চালিকা, দূরদর্শন, কলকাতার / বাংলাদেশ / ত্রিপুরার বিভিন্ন মঞ্চের দাপুটে বাচিকশিল্পী ও ‘রক্তকরবী ‘ নামক দলের দক্ষ সংগঠিকা। এই দুই ব্যক্তত্বকে প্রদাণ করা হলো ” সংগঠক সম্মান “।

অনুষ্ঠানের প্রথমদিকের সঞ্চালনায় ছিলেন দূরদর্শনখ্যাত সঞ্চালক শ্রী সৌভিক শাসমল এবং পরবর্তী পর্যায়ে ছিলেন বিশিষ্ট বাচিকশিল্পী সব্যসাচী পুরুস্কারপ্রাপ্ত শ্রী অঞ্জল চট্টোপাধ্যায়। এদের দুজনের সুন্দর সঞ্চালনা সমগ্র অনুষ্ঠানকে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত অপূর্ব বাঁধনে বেঁধে রেখেছিলো। যদিও মূল অনুষ্ঠান ছিলো পুরুস্কার প্রদাণ অনুষ্ঠান, সাথে ছিলো বহু বিশিষ্ট শিল্পী, এবং শিল্পীদলের ( মোট ১৫০ জন শিল্পীর ) শিল্পসাধনার অনবদ্য নিবেদন। সভাকক্ষে আগত বহু দর্শকবন্ধু বসার জায়গা না পেয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। সোনালি কাজী ও তরুণ শিল্পী কল্লোল কাজীর গান অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিলো। সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনায় ছিলেন দোলনচাঁপা নজরুল ফাউন্ডেশন কবিতীর্থ চুরুলিয়ার সম্পাদিকা সোনালি কাজী মহাশয়া এবং সহযোগীতায় কল্লোল কাজী। ছবি, সৌজন্যে:- দীপঙ্কর দত্ত।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ