আন্তর্জাতিক 

হাসিনা সরকারের পদত্যাগের দাবিতে সমগ্র বাংলাদেশ উত্তাল আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘাত সংঘর্ষে মৃত ৭২

শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিনিধি : বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে আজ রবিবার সকাল থেকে অসহযোগ কর্মসূচি শুরু হয় বাংলাদেশে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবিতে এই কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ শাসক দল আওয়ামী লীগের সদস্য বনাম আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ ও সংঘাতে এ পর্যন্ত ৭২ জন মারা গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এশিয়া মহাদেশের ইতিহাসে ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে এক দিনে এত ছাত্রের মৃত্যু কল্পনাতীত। হাসিনা সরকার যে আন্দোলন থামাতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে এই ঘটনা তা প্রমাণ করেছে। এত মৃত্যু কেন ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশ্বজুড়ে হাসিনা সরকারের উপরে চাপ সৃষ্টি শুরু হয়েছে। স্বৈরাচারী শাসকের পতন শুধুমাত্র সময়ের অপেক্ষা বলে মানবাধিকার কর্মীরা মনে করছেন। তথ্যসূত্র প্রথম আলো।

আজকের সংঘর্ষে শুধুমাত্র আন্দোলনকারী রাজ্যে মারা গেছে তা নয় শাসক আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও যেমন মারা গেছেন একই রকম ভাবে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার ১৩ জন পুলিশ সদস্যকে খুন করেছে দুষ্কৃতীরা। অন্যদিকে কুমিল্লার ইলিয়টগঞ্জে নিহত হয়েছেন এক পুলিশ কর্মী।

Advertisement

এ নিয়ে সারা দেশে আজ নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭২জনের।বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে অসহযোগ আন্দোলন কর্মসূচি চলছে। সরকার পতনের এক দফা দাবিতে চলমান এ আন্দোলনে রোববার দিনভর সারা দেশে সংঘর্ষ, গুলি ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে বিক্ষোভকারীরা চারজনের মরদেহ নিয়ে গেছেন। সন্ধ্যা ৬টার দিকে নিহত ৪ জনের লাশ নিয়ে বিক্ষোভকারীরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যান। এ সময় আন্দোলনকারীরা নানা স্লোগান দেন। সেখান থেকে আন্দোলনকারীরা রাজধানীর শাহবাগ যাওয়ার পথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে পুলিশ বাধা দেয়।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অসহযোগ কর্মসূচি ঘিরে লক্ষ্মীপুরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে এক কলেজছাত্র নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক মানুষ। রোববার বেলা ১১টার দিকে জেলা শহরের উত্তর তেমুহনী থেকে ঝুমুর পর্যন্ত এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে তিনটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়।

এ নিয়ে দিনভর সংঘর্ষে সারা দেশে ৭২ জন নিহত হলেন। নরসিংদীতে ৬ জন, ফেনীতে ৫ জন, সিরাজগঞ্জে ১৩ পুলিশসহ মোট ২২ জন, কিশোরগঞ্জে ৪ জন, রাজধানী ঢাকায় ৪ জন, বগুড়ায় ৪ জন,মুন্সিগঞ্জে ৩ জন, মাগুরায় ৪ জন, ভোলায় ৩ জন, রংপুরে ৪ জন, পাবনায় ৩ জন, সিলেটে ২ জন, কুমিল্লায় পুলিশ সদস্যসহ ৩ জন, জয়পুরহাটে ১ জন, হবিগঞ্জে ১জন ও বরিশালে ১ জনসহ ৭২ জন নিহত হয়েছেন।

এদিকে প্রথম আলো পত্রিকার সূত্রে খবর বাংলাদেশের এই সংঘর্ষে ১৪ জন পুলিশ কর্মী নিহত হয়েছেন এবং তিন শতাধিক পুলিশ কর্মী আহত হয়েছেন। প্রথম আলো পুলিশ সদর দফতরের সূত্র থেকে প্রাপ্ত খবর থেকে জানিয়েছে, ডিএমপির যাত্রাবাড়ী ও খিলগাঁও থানা; টাঙ্গাইলের গোড়াই হাইওয়ে থানা; বগুড়ার সদর, দুপচাঁচিয়া ও শেরপুর থানা এবং নারুলী পুলিশ ফাঁড়ি; জয়পুরহাট সদর থানা; কুমিল্লার ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানা; রংপুরের গঙ্গাচড়া, মিঠাপুকুর, পীরগাছা, পীরগঞ্জ, বদরগঞ্জ ও গংগাচড়া; ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও আশুগঞ্জ থানা; সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর, উল্লাপাড়া ও শাহজাদপুর থানা; হবিগঞ্জের মাধবপুর ফাঁড়ি; ময়মনসিংহ রেঞ্জ অফিস; নারায়ণগঞ্জ, বগুড়া, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়; দিনাজপুর সদর থানায় আক্রমণ করেছে। আহত পুলিশ সদস্য প্রায় তিন শতাধিক।

 

 


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ