কলকাতা 

জয়নগর বামনগাছির ঘটনায় সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি অফ ইন্ডিয়ার রাজ্য সহ-সভাপতির প্রতিক্রিয়া

শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিনিধি  : ১৪ নভেম্বর মঙ্গলবার সূর্যের আলো প্রকাশ পাওয়ার আগেই জয়নগর বামনগাছি পঞ্চায়েতে তৃণমূল নেতা সইফুদ্দিন লস্কর (৪৩) খুন হয় দুষ্কৃতীদের গুলিতে। এই দুঃখজনক খুনের পাল্টায় গণপিটনিতে খুন হয়েছে সাহাবুদ্দিন লস্কর (৫৩)। গণপিটুনিতে গুরুতরভাবে আহত শাহরূল গাজী এখন চিকিৎসাধীন এবং পুলিশের হেফাজতে।

ঘটনা এখানেই থেমে যায়নি কয়েকশো মানুষ সইফুদ্দিন লস্করের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে আনিসুর রহমান লস্করের পাড়া দলুয়াখালী গ্রামে আক্রমণ করে বহু ঘরবাড়ি-দোকান লুটপাট করে জ্বালিয়ে দেয়। এখন দলুয়াখালী গ্রামে হাট শোকের নিস্তব্ধতা। পুরুষশূন্য মহিলারাও ঘর ছাড়া যদিও পড়ে কেউ কেউ ফিরে এসেছেন। গ্রাম জুড়ে শুধু হাহাকার। পুলিশ প্রশাসন সেই গ্রামে কাউকে যেতে দিচ্ছে না, জনপ্রতিনিধি হোক বা মানবাধিকারকর্মী হোক বা আর কেউ।

এমনটা কোন নতুন ঘটনা নয় বর্তমানে রাজ্যে টিএমসি দলের সরকার চলছে টিএমসির আগে দীর্ঘ ৩৪ বছর চলেছে ব্রাহ্মণ সরকার। তারও আগে কংগ্রেস সরকার রাজ্য চালিয়েছে। তখন মানুষকে অন্যভাবে নির্যাতন চালানো হতো, বর্তমানে অবস্থার যে খুব একটা হেরফের হয়নি – তা দিন দিন স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

দেখা যাচ্ছে সিংহভাগ খুনের ঘটনার শিকার সংখ্যালঘুরাই। বাম জামানায় বীরভূমের সূচপুরের মতো ভয়ানক ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে যেখানে ২০০০ সালের ২৭ শে জুলাই ১১ জন নিরীহ ক্ষেত মজুরকে একটি ক্লাব ঘরে ঢুকিয়ে একে একে টেনে এনে প্রকাশ্য রাস্তায় পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে তারা বিরোধী দলের সমর্থক ছিল বলে।

লাভপুরে ওই ২০০০ সালেই সালিশি সভার মধ্যেই ৩ জনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ২০১০ সালে শেরপুরে (নানুর) প্রায় ৫০০ বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। সেই ঘটনায় দুজন মারা যায় – এরকম অজস্র ঘটনা ঘটেছে। বাম জামানায় ৪৮ হাজারের মতো সংখ্যালঘু সমাজের মানুষ খুন হয়েছে। দেখা যাচ্ছে সরকার বদল ঘটলেও সংখ্যালঘু মানুষ খুন হওয়া থেকে রেহায় পায়নি। মূলত সংখ্যালঘুদের হাত দিয়ে সংখ্যালঘুদের এভাবে খুন করা হয়েছে।

মানুষ আগের কথা ভুলে গিয়ে আবার পূর্বের দল গুলির কথা ভাবছে। পূর্বের দলগুলিও তাদের রাজনীতির স্বার্থে মানুষের পাশে দাঁড়াতে চায়ছে। কিন্তু সংখ্যালঘু সমাজ যে এসব দলের কারো কাছে নিরাপদ নয়, তারা তাদের কাছে ভোট ব্যাংক হিসেবে গণ্য হয়ে ফুটবলের মত শুধু লাথি খাওয়া আর বঞ্চনা ছাড়া আর কিছুই উপহার পাবে না তা দিনের আলোর মতো স্পষ্ট। তারা সংখ্যালঘুদেরই কিছু সুবিধাবাদী নেতাদের সামনে রেখে রাজনীতি করতে চায় মাত্র।

কংগ্রেস, বামফ্রন্ট, টি এম সি – কোন সরকারই সংখ্যালঘুদের ন্যায্য অধিকার মর্যাদা দিতে চায় না। এরা মূলত বর্ণবাদী বা ব্রাহ্মণ্যবাদী স্বার্থপূরণ করার রাজনীতি করে আসছে মাত্র। যতদিন না সংখ্যালঘু ও অপর বঞ্চিত দলিত সমাজের মানুষ নিজেদের জন্য পৃথক রাজনৈতিক শক্তি গড়ে না তুলবে ততদিন এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ