কলকাতা 

দুই তৃণমূলের স্বাধীনতা দিবস অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করলেন কুণাল! রহস্য ঘনীভূত

শেয়ার করুন

শনিবার দেশ জুড়ে পালিত হচ্ছে আশি তম স্বাধীনতা দিবস। এদিন কলকাতায় তৃণমূল কংগ্রেসের দুই গোষ্ঠী স্বাধীনতা দিবস পালন করেন। আর এই দুই গোষ্ঠীর অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে রাজনৈতিক মহলে চমক তৈরি করলেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুনাল ঘোষ।

বাইপাসের ধারের তৃণমূল ভবনের সামনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী তৃণমূলের দোলা সেনরা জাতীয় পতাকা তুললেন। আবার মেট্রোপলিটনের দফতরে পতাকা তুললেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, অরূপ রায়রা। আর দুই কর্মসূচিতেই হাজির হলেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ।

জানা গেছে,তপসিয়ায় বাইপাসের ধারে পুরনো তৃণমূল ভবনের সামনে পতাকা উত্তোলন করে মেট্রোপলিটন হয়ে ফিরছিলেন কুণাল। ঘটনাচক্রে, ওই এলাকাটি তাঁর বিধানসভা এলাকা বেলেঘাটার মধ্যেই পড়ে। আপাতত ওই দফতর ঋতব্রতপন্থীদের দখলে। সেখানে গাড়ি থামিয়ে নেমে পড়েন কুণাল।

এ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়কের ব্যাখ্যা, “আমার কেন্দ্রে, আমার দলের নামে পতাকা উত্তোলন হচ্ছে, তাই নেমেছি।” মাইক হাতে বক্তৃতাও করেন কুণাল। নাতিদীর্ঘ সেই বক্তৃতায় তিনটি অংশ ছিল। প্রথমত, বার তিনেক কুণাল বলেছেন, মমতার নেতৃত্বে তৃণমূল চলছে। দ্বিতীয়ত, নেতাজি সম্পর্কে অনন্ত মহারাজ যা বলেছেন, তার জন্য তাঁকে গ্রেফতার করতে হবে। এবং তৃতীয়ত, দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে তোপ দেগেছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে।

হঠাৎ করে কুণালের পৌঁছে যাওয়া হতচকিত করেছে বিদ্রোহী শিবিরকেও। বিদ্রোহী শিবিরের অন্যতম মুখপাত্র শান্তনু সেন বলেন, “মেট্রোপলিটন অফিসে স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের সময় হঠাৎ করেই স্থানীয় বিধায়ক কুণাল ঘোষ এসে উপস্থিত হন। শহিদবেদীতে তাঁকে মাল্যদান করতে বলেন সঞ্চালক। তারপর বিপ্লব মিত্র সৌজন্য দেখিয়ে তাঁকে বলতে বলেন। উনি কী বলেছেন সেটা ওঁর ব্যক্তিগত বিষয়।”

কুণাল শিবির অবশ্য এই হঠাৎ হানা দেওয়াকে বৈপ্লবিক কাজ হিসাবেই দেখাতে চেয়েছে। বিশেষত, মমতার নামকে যখন বিদ্রোহীরা ম্লান করতে চাইছেন, তখন তাঁদের সামনেই মমতার নেতৃত্বের পক্ষে তাঁর সওয়ালকে গত তিন মাসের মধ্যে অন্যতম উল্লেখযোগ্য বলে তুলে ধরতে চাইছেন তাঁরা।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ