কলকাতা 

নির্বাচনী প্রতীক এবং দলের নাম সংক্রান্ত বিষয় নিষ্পত্তির জন্য কতটা সময় প্রয়োজন নির্বাচন কমিশনের কাছে জানতে চাইল সুপ্রিম কোর্ট!

শেয়ার করুন

অবিভক্ত তৃণমূলের নাম এবং জোড়াফুল প্রতীক ‘ফ্রিজ়’ করেছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের এই অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই মামলার শুনানি হল বৃহস্পতিবার। নির্বাচনী প্রতীক এবং দলের নাম সংক্রান্ত বিষয় নিষ্পত্তির জন্য কতটা সময় প্রয়োজন, তা কমিশনের কাছে জানতে চেয়েছে শীর্ষ আদালত। আগামী সোমবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি।

বৃহস্পতিবারের শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ কমিশনের উদ্দেশে বলেন, “এমন একটি যুক্তিসঙ্গত সময়সীমা বলুন, যার মধ্যে দুই পক্ষই নিজেদের প্রমাণ ও বক্তব্য পেশ করার ন্যায্য সুযোগ পাবে। আবার বিষয়টি অযথা দীর্ঘও হবে না।” একই সঙ্গে শীর্ষ আদালত বলে, “প্রমাণ এবং দু’পক্ষের বক্তব্য খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনের হাতেও যথেষ্ট সময় থাকতে হবে। অর্থাৎ, বাস্তবসম্মত একটি সময়সীমা প্রয়োজন।

কালীঘাট এবং ঋতব্রত শিবিরের দ্বন্দ্বের মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার রাতে একটি অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেয় নির্বাচন কমিশন। কমিশনের তরফে জানানো হয়, আপাতত দলের নাম হিসেবে ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং প্রতীক জোড়াফুল ‘ফ্রিজ়’ করছে তারা। কমিশন জানিয়ে দেয়, তৃণমূলের ‘জোড়াফুল’ আপাতত তাদের সিন্দুকে জমা রাখা হচ্ছে। দল কার, আসল তৃণমূল কে, দলের তহবিলের মালিকানা কোন গোষ্ঠীর— ইত্যাদি চূড়ান্ত হওয়ার পরেই সেই সিন্দুকের তালা খোলা হবে।

৬ অক্টোবর পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম এবং মুর্শিদাবাদের রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের আগে শুক্রবার দুই শিবিরের অন্তর্বর্তিকালীন নাম এবং প্রতীক চূড়ান্ত করে কমিশন। মমতা শিবিরের নাম হয় ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’। তারা আগামী ৬ অক্টোবর উপনির্বাচনে লড়ছে ফুটবল পায়ে ফুটবলার প্রতীকে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের তৃণমূলের নাম হয় ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’। তারা লড়ছে খাম চিহ্নে। নন্দীগ্রামে মমতা তৃণমূলের প্রার্থী না-থাকায় তারা কংগ্রেসকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

প্রতীক এবং দলের নাম ‘ফ্রিজ়’ হওয়ার পর কমিশনের অন্তর্বর্তী নির্দেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যান তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সংশ্লিষ্ট মামলায় যুক্ত করা হয় বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। মমতার তরফ থেকে দ্রুত শুনানির আর্জি জানান আইনজীবী কপিল সিব্বল। তার প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ সোমবার জানায়, সব পক্ষকে জানানো হোক। দ্রুত শুনানির চেষ্টা করা হবে। তার পর বৃহস্পতিবারই এই মামলার প্রথম শুনানি হল।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ