উত্তরপ্রদেশের এক খামারবাড়িতে তরুণীকে গণধর্ষণের অভিযোগ! গ্রেফতার দুই পুলিশ কর্মী ও দুই সেনা জওয়ান
বিহার ওড়িশার পর উত্তরপ্রদেশের এক খামারবাড়িতে তরুণীকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠল। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের আমরোহা জেলায়। ২৪ বছর বয়সি ওই তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যে দুই পুলিশকর্মী এবং আধাসেনা (সিআরপিএফ)-র দুই জওয়ানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। স্থানীয় পুলিশ সূত্রে পিটিআই জানাচ্ছে, ওই খামারবাড়িটির মালিক উত্তরাখণ্ডের এক নির্দল বিধায়ক।
নির্যাতিতা ওই তরুণী হরিয়ানার ফতেহাবাদের বাসিন্দা। তিনি উত্তরপ্রদেশের আমরোহার বিভিন্ন ধর্মীয় স্থান ঘুরতে চাইছিলেন। সেই সূত্র ধরেই এক পরিচিত মারফত তাঁর যোগাযোগ হয় মুজ়ফ্ফরনগরের বাসিন্দা সিআরপিএফ জওয়ান মোহিতের সঙ্গে। পুলিশ সূত্রে খবর, নির্যাতিতা জানিয়েছেন, গত সোমবার হরিয়ানার সোনিপতে মোহিতের সঙ্গে দেখা করেন তরুণী। সেখান থেকে তাঁরা যান মেরঠে। সিআরপিএফের অপর এক জওয়ান লালারাম যাদবও সেখানে তাঁদের যোগ দেন।
এর পরে গত মঙ্গলবার দুই জওয়ান এক গাড়িতে করে মহিলাকে নিয়ে যান হাসানপুরে। পথে সঞ্জয় তোমার নামে হাসানপুর থানার এক পুলিশকর্মীও গাড়িতে ওঠেন। শেষে তিন জন মিলে তরুণীকে নিয়ে পৌঁছোন আত্রাসি-হাসানপুর সড়কের ধারে একটি খামারবাড়িতে। সেখানে দু’টি ঘর ভাড়া নেওয়া ছিল। হাসানপুর থানার অপর এক পুলিশকর্মী প্রমোদ আগে থেকেই ওই খামারবাড়িতে ছিলেন। তরুণীর অভিযোগ, ওই রাতে দুই আধাসেনা জওয়ান এবং এক পুলিশকর্মী পালা করে তাঁকে ধর্ষণ করেন। অপর পুলিশকর্মী তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টা করলে তিনি কোনও রকমে সেখান থেকে পালিয়ে অন্য ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন।
বুধবার ভোরে ওই খামারবাড়ির বন্ধ ঘর থেকেই তিনি কোনওরকমে থানায় যোগাযোগ করে গোটা ঘটনার কথা জানান। শেষে হাসানপুর এবং রাজবপুর থানা থেকে থেকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নির্যাতিতাকে উদ্ধার করে। গ্রেফতার করা হয় চার অভিযুক্তকেই। ওই দুই পুলিশকর্মী এবং দুই আধাসেনা জওয়ানের বিরুদ্ধে অপহরণ, প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ এবং গণধর্ষণের অভিযোগ এফআইআর রুজু করা হয়েছে। আমরোহার পুলিশ সুপার লক্ষ্মণ সিংহ যাদব জানান, চার জনেই বর্তমানে জেল হেফাজতে রয়েছে।
পুলিশ সুপার আরও জানান, অভিযুক্ত পুলিশকর্মীদের মধ্যে একজনকে ইতিমধ্যে নিলম্বিত করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। দুই আধাসেনা জওয়ানের বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপের জন্য সিআরপিএফ-এর কাছে সুপারিশ করা হয়েছে।

