২০১৫ পর প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য আলাদা করে ব্রিজ কোর্স করানো হয়নি বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাসে রিপোর্ট দিয়ে জানালো প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ, কয়েক হাজার শিক্ষকের চাকরি অনিশ্চয়তার মুখে!
বাংলার জনরব ডেস্ক : ২০১৫ সালের পর থেকে রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য আলাদা করে ব্রিজ কোর্স করানো হচ্ছে না বলে কলকাতা হাইকোর্টে মঙ্গলবার রিপোর্ট দিল প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ। আর এই রিপোর্টের পর রাজ্যের প্রায় ১৬ হাজার ৫০০ জন প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে চলেছে। যারা ২০২০ সালে নিয়োগ হয়েছিল এদের মধ্যে প্রায় পাঁচ হাজার প্রাথমিক শিক্ষক রয়েছেন যাদের ডিএলএড বা ডিএড প্রশিক্ষণ নেই।
আর এদের চাকরি বাতিলের দাবিতে কলকাতা হাইকোর্টে কয়েকজন মামলা করেছিলেন সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতেই বিএড প্রশিক্ষণ রয়েছে যাদের সেই সব শিক্ষকদের আলাদা কোন ব্রিজ কোর্স করানো হয়েছে কিনা তা নিয়ে রিপোর্ট তলব করেছিলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। সেই রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতে আজ মঙ্গলবার প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ জানিয়ে দিল ২০১৫ সালের পর রাজ্য প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ কোনোভাবেই ব্রিজ কোর্স করায়নি।
পর্ষদের ডেপুটি সেক্রেটারি রিপোর্ট দিয়ে আদালতে জানিয়েছেন, ২০১৫ সালে শেষ বার চাকরিরত বিএড ডিগ্রিধারী প্রাথমিকের শিক্ষকদের ছ’মাসের ‘ব্রিজ কোর্স’ করানো হয়েছিল। তার পর থেকে এই কোর্স আর করানো হয়নি। যদিও প্রাথমিকের শিক্ষকের জন্য প্রশিক্ষণ কোর্স করা বাধ্যতামূলক। প্রাথমিকের শিক্ষকের জন্য ডিএড বা ডিএলএড কোর্স করতে হয়। আগের নিয়ম অনুযায়ী, বিএড প্রশিক্ষিতরাও প্রাথমিকের শিক্ষক পদে চাকরি পাবেন। তবে তাঁদের চাকরি পাওয়ার এক বছরের মধ্যে একটি ছ’মাসের ব্রিজ কোর্স করতে হয়। কারণ, বিএড প্রশিক্ষণ উচ্চ প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষকতার জন্য।
হাই কোর্টে সাত জন চাকরিপ্রার্থী মামলা করে দাবি করেছিলেন, ২০২০ সালে প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কয়েক হাজার বিএড ডিগ্রিধারী শিক্ষক ব্রিজ কোর্স সম্পূর্ণ করেননি। ওই কোর্স না করেই এখনও চাকরি করেছেন। এই চাকরি স্থায়ী হতে পারে না। কারণ, জাতীয় শিক্ষক শিক্ষণ পর্ষদ (এনসিটিই)-এর নিয়ম মানা হয়নি। আদালতে মামলাকারীদের আর্জি, নতুন করে প্যানেল তৈরি করে শিক্ষক নিয়োগ করা হোক। প্রসঙ্গত, গত ৭ অগস্ট এই মামলার শুনানিতে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় প্রশ্ন তুলেছিলেন, নিয়মমাফিক প্রশিক্ষণ ছাড়াই কী ভাবে প্রাথমিকের স্কুলে চাকরি করছেন কয়েক হাজার শিক্ষক? এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের রিপোর্ট তলব করেছিলেন তিনি।
আজ মঙ্গলবার প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের এই রিপোর্ট বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাসে জমা পড়ার পর মামলার রায় কোন দিকে যায় সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে এই রাজ্যে প্রাথমিক শিক্ষক পদে কর্মরত বিএড প্রশিক্ষণধারী কয়েক হাজার শিক্ষক।

