প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে কলকাতার রেড রোডে দ্বাদশ আন্তর্জাতিক যোগ দিবস যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে পালিত হলো!
বাংলার জনরব ডেস্ক : দ্বাদশ আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালিত হলো কলকাতার রেড রোডে। এখানে স্বয়ং দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী উপস্থিত ছিলেন এবং তার সঙ্গে ছিলেন পশ্চিমবাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রধানমন্ত্রী নিজে যোগ অভ্যাস করেছেন। একাধিক আসনের অনুশীলনে তাঁকে যোগ দিতে দেখা গিয়েছে। পরে তিনি যোগ-স্থানে ঘুরে ঘুরে বাকিদের অনুশীলন দেখেন। কারও কারও ভঙ্গি শুধরেও দেন স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে।
শনিবারই দু’দিনের রাজ্য সফরে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী। পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে হুগলির তারকেশ্বরের অনুষ্ঠানে তিনি যোগ দিয়েছিলেন শনিবার বিকেলে। রাতে থেকেছেন লোকভবনে। তার পর রবিবার ভোরেই পৌঁছে গিয়েছেন রেড রোডে। আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে সেখানেই যোগব্যায়াম করেন তিনি। নিজের আসনে বসে এবং দাঁড়িয়ে কিছু অনুশীলন করার পর চত্বরে ঘুরে বেড়ান একা একাই।
যোগাভ্যাস অনুশীলন শুরুর আগে মুখ্যমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত জনগণের সামনে ভাষণ দিয়েছেন। যোগের উপকারিতা, বার্ধক্যে যোগব্যায়ামের প্রয়োজনীয়তা এবং আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের এই প্রাচীন ঐতিহ্যের ব্যাপ্তি বর্ণনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
মোদী বলেন, ‘‘এ বছরের আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের থিম ‘যোগা ফর হেল্দি এজিং’। অর্থাৎ, বার্ধক্যকেও সুন্দর, স্বাস্থ্যবান করে তুলতে পারে যোগ। ৪০ বছরেও যোগ ২০ বছরের সতেজতা এনে দিনে পারে।’’ বিশ্বের দরবারে যোগের প্রচারের জন্য স্বামী বিবেকানন্দ, ঋষি অরবিন্দদের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মনে করতেন, মানুষের পরিচয় আশপাশের মানুষের সঙ্গে জুড়ে থাকায়। এই জুড়ে থাকার কথাই বলে যোগ। মহর্ষি অরবিন্দ বলতেন, আমাদের পুরো জীবনটাই যোগ। তাই বলি, যোগ কেবল শারীরিক আসন নয়।’’
মোদী আরও বলেন, ‘‘যোগ কোনও এক আয়ুবর্ষে তা সীমিতও নয়। যোগ মানব জীবনের চেতনার প্রকাশ।’’ যোগ ব্যায়ামকে আন্তর্জাতিক স্তরে পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন শুভেন্দু। তিনি জানান, ১২ বছর আগে থেকে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালন শুরু হলেও পশ্চিমবঙ্গে এর আগে সরকারি উদ্যোগে কখনও যোগ দিবস পালিত হয়নি। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর এই প্রথম উদ্যাপন তাই গুরুত্বপূর্ণ।
কলকাতার পাশাপাশি রাজ্যের নানা প্রান্তেই রবিবার সকাল থেকে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালিত হয়েছে। হুগলির ইমামবাড়া, চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের পুলিশ লাইনসের মাঠে, চুঁচুড়ার বঙ্কিম নিবাসের বন্দেমাতরম ভবনে যোগ দিবস পালিত হয়েছে। চন্দননগর স্ট্যান্ডে কয়েক হাজার মানুষ যোগাভ্যাসের জন্য সমাবেত হয়েছিলেন। ছিলেন এভারেস্টজয়ী পর্বতারোহী পিয়ালী বসাকও।
রেড রোডের অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে সমাজমাধ্যমে মোদী লেখেন, ‘‘কলকাতার রেড রোডে রবিবার যোগ দিবসের এক অভূতপূর্ব অনুষ্ঠান হল। সমাজের সকল স্তরের মানুষ তাতে যোগ দিয়েছিলেন। প্রত্যেকের জীবনে যোগার গুরুত্ব সম্পর্কে এটা বিশেষ বার্তা দেয়। এ বারের থিম ছিল ‘স্বাস্থ্যকর বার্ধক্যের জন্য যোগা’। বার্ধক্যেও সুস্থসবল থাকতে যোগা প্রয়োজন।’’
আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালন করা হয়েছে গঙ্গাসাগরে কপিল মুনির আশ্রম প্রাঙ্গণেও। যোগাভ্যাসে শামিল হয়েছিলেন প্রায় তিন হাজার মানুষ। তাঁদের মধ্যে মহিলা, শিশু, বয়স্কেরাও ছিলেন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক অভিষেক তিওয়ারি-সহ প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকেরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
সারা দেশেই রবিবার যোগ দিবস পালিত হচ্ছে। জম্মু ও কাশ্মীর থেকে শুরু করে গুজরাত, তামিলনাড়ু, যোগাভ্যাসে মেতেছেন দেশবাসী।
আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে দেশের নানা প্রান্তে যোগাভ্যাসে শামিল হয়েছিলেন কেন্দ্রীয় নেতামন্ত্রীরা। অসমের গুয়াহাটিতে ছিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। এ ছাড়া, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ যোগ দিবস পালন করেন অহমদাবাদে।
রাজস্থানের বিকানেরে যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। এ ছাড়া, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর দিল্লিতে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ মেঘালয়ে যোগ দিবস পালন করেছেন।

