বিনোদন, সংস্কৃতি ও সাহিত্য 

শারদীয় উৎসব উপলক্ষে বাংলার জনরব এর বিশেষ সাহিত্যের ডালি /২

শেয়ার করুন

দুই বাংলায় শারদীয়া উৎসব খুবই জনপ্রিয়। আর এই উৎসব উপলক্ষে দুই বাংলা জুড়ে প্রকাশিত হয় অসংখ্য সাহিত্য পত্র পত্রিকা। এইসব পত্রিকাতে দুই বাংলার বিশিষ্ট কবি লেখক গল্পকারদের সেরা লেখা প্রকাশিত হয়। @বাংলার জনরব বেশ কয়েক বছর ধরে উৎসব সংখ্যা প্রকাশ করছিল। কিন্তু সম্প্রতি লকডাউনের পর থেকে তা প্রকাশ করা হচ্ছে না। তাই বিন্দুতে সিন্ধু দর্শনের লক্ষ্যে আমরা মহালয়ার দিন থেকে প্রকাশ করছি আমাদের সাহিত্য সংখ্যা অনলাইনে। আশা করি আপনাদের সকলের ভালো লাগবে। সবাইকে আগাম শারদীয়া উৎসবের প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানাই। সম্পাদক।

আবির : কি খেলা রে?

অমিয়া বন্দ্যোপাধ্যায়

সায়ন্তন : দুর্গা মাকে বরণ করার জন্য প্রকৃতি কত জিনিসের যোগান দেয় ।১০৮ টা পদ্মফুল দিয়ে মা কে পুজো করতে হয় ।নীল অপরাজিতা মা দুর্গার প্রিয় ফুল ।দেবী আসবেন ব’ লে কাশফুলগুলি হাওয়ায় দুলছে । শিউলি গাছগুলি গাছের তলায় শিউলি ফুলের বিছানা পেতে দেয় । চলনা । আমরা ঐসব উপকরণগুলি সংগ্রহ করি । আমরা মায়ের আগমন বন্দনা করি ।

Advertisement

অনন্ত : ঠিক বলেছিস । নতুন খেলা । রবি কবি তো বলেছেন , ‘ শরতে শেফালী কুড়োতে কী মজা লেখে কি তা অভিধানে? ‘ চল আমরা মজার খেলা খেলি । তাহলে?

সায়ন্তন, আমি কিন্তু শেফালী ।আমি তো চুবড়িতে শিউলি ফুল কুড়িয়ে চুবড়ি ভর্তি ফুল পড়ার ঘরে রেখে দিয়েছি ।

মানস : আমি অপরাজিতা । আমাদের বাড়ির বাউন্ডারি ওয়ালে নীল অপরাজিতার গাছ আছে ।গাছভর্তি ফুল ফুটছে । আমি রোজদিন লীল ফুল সংগ্রহ করে ঠাকুমাকে দেখাই । তারপর ফুলগুলি পলিথিন পেপারে ভ’রে কলঘরে রেখে দিই তাজা থাকবে ব’লে ।

আবির : আমি তাহলে কাশফুল ।চল তোরা আমার সংগে । আমি নিজের হাতে সংগ্রহ করবো ।

 

সায়ন্তন : আমি নেব পদ্মফুল । ঐ যে সবুজ মাঠের ওপারে যে গ্রাম । ওটা রুদ্রপুর গ্রাম । ধান জমির জোতের শেষে রুদ্রপুর যাবার যে রাস্তা দেখা যাচ্ছে, ঐ রাস্তার উপর একটা সাঁকো আছে, সেখান থেকে একটু এগোনোর পর পাওয়া যাবে পদ্মপুকুর ।দুটো বড়ো বড়ো জলাশয় । বড়ো পোদো আর ছোটো পোদো । ছোটো পোদোটা ভালো করে কাটিয়ে গভীর করা হয়েছে । ওখানে মাছ চাষ করা হচ্ছে ।বড়ো পোদো মজা অবস্থায় প’ড়ে আছে । তাতে প্রচুর পদ্মফুল ফোটে । আমি ঐ পদ্মফুল তুলে আনবো । আমরা মায়ের প্রিয় ফুল দিয়ে মাকে আবাহন করবো ।

সবাই একমত । চল, চল । ঐ দেখ, খালপাড়ে কতো কাশফুল ফুটে রয়েছে। সবাই আবীরের সংগে যাই ।

‌দৌড় দৌড় । আলরাস্তা ধরে দৌড়চ্ছে ওরা সবাই ।মাঠের ধানগাছগুলি ঘন সবুজ বর্ণ । যেদিকে তাকানো যাক শুধুই সবুজ ।

খালপাড় থেকে ওরা অনেক কাশফুল তুলল । আবিরের হাতে তুলে দিয়ে অন্যরা বলল, ‘ এই কাশের গুচ্ছ শুধুই তোর জন্যে আবির ।’

সায়ন্তন : এবার আমার কমল তোলার পালা । চল সবাই । আবার শুরু হলো দৌড় । আলরাস্তা ধরে বিরাট একটা সবুজ রঙের জোত পেরিয়ে রুদ্রপুর যাবার রাস্তায় উঠলো ওরা সবাই । তারপর বাগগোড়ের শাঁকো পার হয়ে ওরা পৌঁছল বড়ো পোদো র ধারে । রাস্তার বাঁদিকে আদিবাসী পাড়া ।ওখান থেকে ঝুমরু কে ডাকল।ওর কাছ থেকে একটা আঁকশি যোগাড় করে নিল সায়ন্তন ।

তারপর আঁকশি দিয়ে অনেক গুলি পদ্মফুল তুললো ওরা ।ঝুমরু কে কয়েকটা ফুল উপহার দিল ।

এবার সবাই বাড়ীর দিকে হাঁটা দিল ।

সায়ন্তন বলল, অনন্ত, মানস তোরা তোদের শেফালী আর নীল অপরাজিতা ফুল নিয়ে আমার বাড়ীতে চলে আয় ।

চারজনে চার রকম ফুল নিয়ে সায়ন্তনের পড়ার ঘরে প্রবেশ করল । সায়ন্তন মা দুর্গার পটখানা নীচে নামিয়ে পটের সামনে তিনজন বসলো । চার রকম ফুল দিয়ে মা দুর্গার ছবি সাজালো ।তারপর তারা চারজন হাত ধরাধরি করে দাঁড়ালো । প্রার্থনা জানালো, “হে মা দুর্গা! আমাদের চারজনের বন্ধুত্ত্ব যেন চিরকাল অটুট থাকে ।আমরা চিরকাল যেন একসাথে তোমায় আবাহন করতে পারি, মাগো! ”

—————————————————————————————–

শরৎ কাঁদে

আসাদ আলী

 

এবার শরৎ কেঁদে ভাসাচ্ছে বুক

মনে নাই তার সুখ

আকাশও তাই আছে করে মুখ ভার

কাশ অবশ্য ভোলেনি দ্বায়িত্ব তার।

ফুটেছে যেখানে তুলতে পেরেছে মাথা

হাওয়ায় দুলছে, বুঝি তার আবিলতা

আকাশে দেখছি জমেছে লড়াই খুব

শারদে আসবে বৃষ্টি নাকি রোদ

মানুষ মারছে প্রকৃতিরে, তাই

প্রকৃতি তুলছে শোধ।

তবুও চেতনা জাগছেনা মানুষের

তাপমাত্রা বেড়ে যায় প্রতি ক্ষনে

গলে যায় মরুহিমবাহ যত আছে

পৃথিবীর মরন আসছে ততই কাছে।

পৃথিবী মরলে আমরা কি বেঁচে থাকি?

সময় থাকতে এসো সবাই কে ডাকি

এসো হে সবুজ বুনি, সাধারণ ও গুণী

হাতে হাত রেখে হাটি, ভালো রাখি মা-মাটি।

—————————————-

পাখি তুই যারে উড়ে

সামসুজ জামান

 

পাখি তুই যারে, যারে, উড়ে যা।

আকাশের নেই কোন সীমানা।

দিগন্ত তোকে ডাকে দুহাতে,

মেলে দে মেলে দে না ও ডানা।।

সূর্য সাথী হয়ে জ্বালবে আলো।

বাতাসের ছোঁয়া তোর লাগবে ভালো।

আরো কত সাথী মিলে গানের সুরে,

ডেকে নেবে খুশি হয়ে অনেক দূরে।

পাখি তোর উড়ে যেতে নেইকো মানা।।

যদি স্মৃতি জুড়ে আসে দুখের ছবি,

ছোট ঠোঁটে তুলে নিস সুখের চাবি।

সেই চাবি খুঁজে দেবে প্রাণেতে আশা।

দু চোখেতে ভরে দেবে ভালোবাসা।

খুজে পাবি নতুন সে এক ঠিকানা।।

ছড়িয়ে দে শুধু ভালো মুক্ত মনে।

আলো এনে ভরে দে অন্ধ কোণে।

বিবর্ণ জীবনে রং ঢাল আরো আরো।

যেন কালো থাকে নাকো মনে কারো।

আর স্বর্গের ছবি কারো থাকে না অজানা।।

—————————————-

সম্পর্কের ছায়াপথে-থাকুক সংযোগ

আঞ্জু মনোয়ারা আনসারী

সম্পর্কের সুতোয় বাঁধা

বেমানান কিছু বাসি ফুল

হড়কা সোহাগ বানে

ঘর বেঁধেছে, অবিচ্ছেদ্য

অন্যকোথাও, অন্যকোনোখানে।

স্মৃতির চিলেকোঠায় শালবনীর

অলম্বিত ধারাবিবরণী…

কস্তূরী গন্ধবিলাপ নাভিমূলে।

রাতের উপশিরায়

ফিসফিস বৃষ্টি, পাগল প্রেমিক

জলরং এর তুলিতে শব্দ সাজাই

সম্পর্কের ছিন্নবীনায়,,,

সুর বেঁধো ‘সংযোগের’……

—————————–

সরলতা ও স্বচ্ছতা মনের দর্পণ

অমর কুমার দাস,কাকদ্বীপ

খুব খুবই সুন্দর

তোমার বুদ্ধির তারিফ করতে হয়

তুমি কী ভেবেছো

সরলতার অর্থ বোকামো

ভাবা ভালো

তবে

জানো না বোধ হয়

সরলতার আর এক নাম

স্বচ্ছ মনের দর্পণ

সেখানে পৃথিবীর যতো অন্ধকার

শৃঙ্খলিত

তুমি আমি তো কোন ছার

ভগবান শ্রীকৃষ্ণের

কল্যাণকর মানুসিকতাই

তাঁর সাফল্যের চাবিকাঠি

তাঁর মায়া শক্তির উৎস প্রেম

তাই

তিনি নিজে নিজের হাতেই

অপরাধ এবং অপরাধীকে

দমন করতেন

তার মনের দর্পণে

ভূত ভবিষ্যতের কথা ধরা পড়ত

প্রত্যেকের মনের খবর

জানতে পারতেন তিনি

তোমার দেখা

সরল মানুষটির কথাই ভাবনা

তুমি তার প্রতি যতো অন্যায় করো

সে কী কখনো প্রতিশোধ ন্যায়

ন্যায় না তো ক্ষমা করে

সে কিন্তু কোনো ঘটনা ঘটার আগেই

বুঝতে পারে

এটাই সরলতার বৈশিষ্ট্য

প্রতিটি মানুষের সরলতা ও স্বচ্ছতা

এক অপার স্বাধীন সত্তা

সরলতা স্বচ্ছতার বৈশিষ্ট্য

অনন্ত কালের ভবিষ্যত দ্রষ্টা

সুতরাং সাবধান

তোমার চপলতা সে জানে

তাইতো তার ভালোবাসা

আন্তরিকতায় ঋদ্ধ

ভেদাভেদহীন মহাজাগতিক শক্তি

তার সঙ্গে সঙ্গ করতে

সকলেই ভালোবাসে

তুমিও তাকে চেনো নিশ্চয়ই

—————————-

শেষের সাথী

নুরুল ইসলাম লস্কর

 

অনেক কিছু বলার ছিল,

শোনার যে কেউ নেই;

অনেক কিছু দেবার ছিল,

নেবার যে কেউ নেই।

যখন ফুলে মধু ছিল,

নজর কাড়ি নি সেথা;

সে ভুল আমার কুরে কুরে

হয়েছে বুকের ব্যথা।

বাড়ি করলাম মনের মত,

হল না সেথায় থাকা;

রঙ কিনলাম রকম রকম,

ছবি হল না আঁকা।

ক্যামেরাটা পড়ে রইল,

তোলা হল না ছবি;

কবিতার খাতা শূন্য রইল,

হতে পারলাম না কবি।

বইগুলো মোর তাকিয়ে থাকে

ধূলোর প্রলেপ তলে;

রঙীন মাছের গুচ্ছ দল

মৃত একুয়ারিয়ামের জলে।

রান্নার বই রেসেপি বুক

কিনেছিলাম গাদা গাদা;

রান্নাঘরে যাওয়াই হল না

আমি যে বিছানায় বাঁধা।

মিষ্টি কেক আর শখের খাবার,

পড়ে রইল সব দূরে;

টেবলেট আর পথ্য পাথি

দুপুর সন্ধ্যা ভোরে।

ওয়াকের জন্য কিনেছিলাম

স্পোর্টস শু আর মোজা;

হাওয়াই চপ্পল সাথী এখন

ও গুলো সব বোঝা।

খিড়কি ছিল পূর্ব পানে

দেখব সূর্য উঠা;

চোখ আমার জবাব দিয়েছে

ছানি পড়েছে মোটা।

ডজন ডজন ফুলের টব,

জল কেমনে দেই?

বালতি করে জল উঠাব,

ডাক্তারের অনুমতি নেই।

চওড়া স্ক্রীনের টিভি সেট

হোম সিনেমার জন্য;

লম্বা সময় বসতে মানা

চিন্তা এখন অন্য।

ব্যাঙ্কে আছে টাকা কিছু,

উঠাতে পারি না;

দস্তখতে হস্ত কাঁপে,

চেক আর ধরি না।

গাড়ি খানা ঢাকাই আছে,

চেহারা দেখি না;

ডিটিও বলে তোমার বয়সের

লাইসেন্স আমরা লেখি না।

টেবিল ঘড়ি শেষের সাথী,

চলছে আমার সাথে;

কিন্তু ও ব্যাটাও বলেনা যে –

কতটা সময় আর হাতে।

—————————

নিশির স্বপ্ন

নাসিরুদ্দিন আহমেদ

মধ্যরাতের অন্ধকারে

চিন্তা ও সমস্যা চেপে ধরে আমায়

জানলা দিয়ে দূর আকাশের তারা গুনি

দিনের অভিনয় করা হাসি মাখা

চোখ দুটি জলে ভাসে

অনেক কিছু দেবার ছিল

কাউকে অন্ন-বস্ত্র কিংবা আশ্রয়

যোগ বিয়োগের খাতা ঘুমাতে দেয় না কিছুতেই

যে চোখে ছিল শুধু স্বপ্নে ভরা

কখনো ছবি কখনো হাসি কখনো গান

কখনো প্রেমের প্রবল টান

প্রেয়সীর সান্নিধ্য পাওয়ার স্বপ্ন

কিন্তু আজ স্বপ্ন ভাঙার রাত জাগা

ঘুণে ধরা ভাঙা জানালা দিয়ে

কখনো চাঁদের আলো

কখনো বৃষ্টি কখনো ঝড়

কখনো লু হাওয়া

চলে যাই গঙ্গার তীরে

আনমনে পথ চলি

চাঁদের আলোয় ঢেউ গুণি

আমি অর্থ চাইনা যশও চাই না

যে অর্থ দু চোখের ঘুম কেড়ে নেয়

সেই অর্থ আমি চাইনা

আমি চাই আমার দু’চোখে নামুক শান্তির ছায়া।

নতুন নতুন স্বপ্ন দেখব আবার

স্বপ্নের জাল বুনবো বার বার।।

———————————

তুমি আমার ধ্রুবতারা

মোঃ নজরুল ইসলাম (বাংলাদেশ)

 

তুমি আমার সাঁঝ আকাশের ধ্রুবতারা

মিট মিট করে জ্বলবে রাতি সারা

উষার আলোয় আলোকিত হয়ে হবে সুপ্রভাত

রবিরশ্মি বিলিয়ে তুমি করবে বাজিমাত ।।

সৃষ্টিকর্তা ‌আল্লাহর খেলা এই নশ্বর ধরাধামে

চন্দ্র সূর্য গ্রহ তারা সবই তাঁর রহমে

তোমায় আমায় করেছেন সৃষ্টি তিনি মেহেরবান

জন্মালেই মৃত্যু নিশ্চিত এটাই তাঁর ফরমান।।

তবু নশ্বর পৃথিবীতে আমি বেঁচে থাকব ক্ষণকাল

জীবন প্রদীপ জ্বালিয়ে তুমি রাখবে চিরকাল

তুমি আমার ধ্যান ধারণার অনল প্রতিনিধি

তুমি আমার ভালোবাসার সকল গতিবিধি ।।

—————————————–

এসো মা

সাবিত্রী দাশ

এসো মা শরৎ রাণী

দূর্গা সরস্বতী লক্ষী

এসো শিব কার্তিক গনেশ

চড়ে ময়ূর পক্ষী ।

সুনীল আকাশে মেঘের খেলা

দিকে দিকে রূপালী আলো

বিপদনাশিনী মুখ দেখে মা

ঘোচাবো মনের কালো।

চরণ চিহ্ন রেখে যাও মাগো

হাসি উল্লাস ভরে,

কেটে যাবে মা একটি বছর

তোমার আশীষ ঘিরে।

———————-

 

— ধনী —

শংকর কুমার ঘোষ

 

আমি অগাধ সম্পদের মালিক হ‘তে চাই না ।

আরও অর্থের নেশায় মত্ত হ‘য়ে

শান্তির ঘুম বিনষ্ট করতে চাই না ।

মখমলে গদির নরম বিছানার উপর শুয়ে

জেগে জেগে এপাশ ওপাশ ক‘রে

রাত কাটানোর বদলে

ইঁটের মত শক্ত বালিশে মাথা রেখে

নিশ্চিন্তে এক ঘুমেই রাত ফুরোতে চাই ।

মালিকানা পেতে চাই

একটা সুস্থ শরীরের ।

আমি এমনিতেই দিব্যি আছি ।

সারাদিনের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসলে

প্রাপ্ত মোটা ভাত কাপড়ের দৌলতে

আমার পরিবার ভুক্ত সকলের হাসি মুখের

অমূল্য ধনে আমি ধনবান হতে চাই ।

আমি কুবের হতে চাই–

ওদের শান্তির সাজানো সৌধের

প্রাপ্ত অট্টালিকার আতিশয্যে ।

স্বর্গীয় সুখের সুধামাখানো

সুগন্ধি পারিজাতের আঘ্রাণে

আমার নিকানো উঠোন মহানন্দে

যাতে মৌ মৌ ক‘রে ওঠে

সেই কামনায় আমি উদগ্রীব ।

হীরে-চূনী-পান্না আমার নিষ্প্রয়োজন ।

ওদের আঁকড়াতে গিয়ে

আমি আমার সরল সত্তাকে

হারাতে চাই না ।

আমি সেই বাতাবরণ চাই

যেখানে প্রশান্তির বিশুদ্ধ

নিশ্বাস – প্রশ্বাস

আমার আত্মাকে পরিতৃপ্ত করবে ।

আমাকে উজ্জীবনের মন্ত্র দেবে

অনাবিল আনন্দের প্রাণখোলা হাসি ।

অতিরিক্ত পাবার প্রলুব্ধ মোহে

যাতে বিকারগ্রস্ত না হই

তার জন্য সতত সচেতন থাকি ।

অগাধ সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণের তাগিদে

অমূল্য সম্ভারের

উপচানো নৈবিদ্যের ডালিকে

কোনোমতেই অবজ্ঞা করতে চাই না ।

এই সুখ আর শান্তির

একচ্ছত্র মালিক হতে চাই ।

প্রভূত্ব বিস্তার করতে চাই

তার সীমারেখা বাড়িয়ে বাড়িয়ে ।

————————————————————

সতর্ক বার্তা

মাহফুজুর রহমান আখন্দ (বাংলাদেশ)

বেদনার জলে সূর্য ডোবে যে আজো

জলের গানেই কান হয়ে যায় পর

ময়লা পানিতে খাবার বাসন মাজো

বুকের খাঁচায় ভাংছো সুখের ঘর

দুহাতে এখনো চেতনার দাঁড় বাচ্ছো

কণ্ঠে তুলেছো চিরচেনা লোকো সুর

বোলের আড়ালে নোংরা হারাম খাচ্ছো

জীবনের সীমা জানো কিগো কতদূর?

পাড়া মহল্লায় কষ্টের ধুঁয়া উড়ছে

বুকের ভেতরে গুমোট কান্না ক্ষোভ

ভূমিকম্পে আগাছার খড় পুড়ছে

থামাও তোমার আকাশচুম্বি লোভ

ভাদ্র আশ্বিনে নদীতে জাগবে চর!

পোড়া মানুষেরা বাঁধবে নতুন ঘর।

…………………………………

   জীবন

    তুহিনা সুলতানা

 

প্রতিশোধের আগুন বুকে জ্বালিয়ে রেখে

চিতার আগুনে চায়না হতে ভষ্ম,

ঝর্ণার তীরে পাথরে পা রেখে স্বপ্ন দেখি

ছোঁ মেরে ছুঁয়ে আসবো আকাশ।

মহারাজ তুমি পিঠে মেরেছো ছুরি

নির্ভিক ভাবে সামনে ছিলাম দাঁড়িয়ে

প্রতিহিংসা আর প্রতিপত্তির আড়ম্বরে

তুমি ছুটেছো মহাশূন্যের দিকে।

পৃথিবীর উপবনে পা রেখে

চুরি করিনা স্বর্গে যাওয়ার সিঁড়ি

রাজমহলে তাচ্ছিল্যের রাজভোগে নয়

আমরা পান্থশালার পান্তা ভাতেই সন্তুষ্ট।

দু ফোঁটা বৃষ্টির জলে গলা ভেজানোর অপেক্ষায়

প্রখর রোদে দাঁড়িয়েই কাটিয়ে দিই জীবন,

কোনো এক সময় বঞ্চিতদের ভিড়ের আগে দাঁড়িয়ে

পৌষের এক হিমেল সন্ধ্যায় তুমি থাকবে একা

একেবারেই একা,এরই নাম জীবন।

———————————————————————

 

 

 

 


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ