কলকাতা 

তারাতলা বিপর্যয়ে গুদামের মালিক শম্ভুনাথ বেহরাকে গ্রেফতার করল পুলিশ

শেয়ার করুন

তারাতলা বিপর্যয়ে গুদামের মালিক শম্ভুনাথ বেহরাকে গ্রেফতার করল পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, বুধবার মধ্যরাতে তারাতলা এলাকারই একটি আবাসন থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে পুলিশ শম্ভুনাথের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা রুজু করেছে। রাতেই গুদামের সুপারভাইজ়ার-সহ প্রায় ন’জনকে আটক করে তারাতলা থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করছিল পুলিশ। তার পর শম্ভু-সহ মোট পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতেরা হলেন পেশায় স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার কমল সামন্ত, সুপারভাইজ়ার সৈয়দ মহম্মদ গুলজ়ার, গুদামে কর্মী জোগান দেওয়া (লেবার সাপ্লায়ার) দিবাকর ভান্ডারী এবং পুরসভায় গুদামের কাঠামোর নকশা (বিল্ডিং প্ল্যান) পাশ করাতে সাহায্য করা (ব্রোকার) আবদুল হামিদ।

বৃহস্পতিবার সকালেও তারাতলায় উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন জাতীয় এবং রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যেরা। ভিতরে এখনও বেশ কয়েক জন আটকে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। হাইড্রোলিক ক্রেন দিয়ে গুদামের ভেঙে পড়া কাঠামোকে টেনে ধরে রাখা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ঘটনাস্থল থেকে মোট ২৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ন’জনের মৃত্যু হয়েছে। বাকিরা জখম অবস্থায় এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মৃতেরা হলেন কৃষ্ণ চৌধুরী, রোহিত চৌধুরী, চন্দ্রমা চৌধুরী, রাহুল চৌধুরী, পাপ্পুকুমার রজক, ঘি কুমার, আসগর হুসেন এবং সাহিল সর্দার।

তারাতলাকাণ্ডের তদন্তে ইতিমধ্যেই বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করেছে পুলিশ। তদন্তকারী দলের মধ্যে রয়েছেন কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার পদমর্যাদার এক আধিকারিক, হোমিসাইড শাখার ওসি-সহ গোয়েন্দা বিভাগের চার জন ও তারাতলা পুলিশ স্টেশনের দু’জন সাব-ইন্সপেক্টর। তদন্ত প্রক্রিয়ার তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্বে থাকছেন গোয়েন্দা বিভাগের ডেপুটি কমিশনার।

বুধবার বেলা ১২টা ৭ মিনিটে তারাতলায় আচমকাই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে নির্মীয়মাণ ওই গুদামের ছাদ। লোহার কাঠামো, কংক্রিটের স্তূপের নীচে চাপা পড়ে যান অন্তত ৪০ জন শ্রমিক। পুলিশ, দমকলের সঙ্গে রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যেরা উদ্ধারকাজে হাত লাগিয়েছিলেন। পরে রাজ্য সরকারের অনুরোধে ভারতীয় সেনা এবং জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী তাতে যোগ দেয়। একাধিক ক্রেন নিয়ে যাওয়া হয়েছিল ঘটনাস্থলে। হাইড্রোলিক ক্রেন দিয়ে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ শুরু হয়। ভারী ভারী লোহার বিম ওই ক্রেনের সাহায্যে তুলে নীচে আটকে থাকা ব্যক্তিদের বার করার চেষ্টা চলে। এ ছাড়া, বিভিন্ন দিক থেকে গ্যাস কাটার দিয়ে লোহা কেটে ফাঁকা অংশ তৈরি করে উদ্ধারের চেষ্টা করা হয়। কাউকে কাউকে সেখান দিয়ে বার করা সম্ভব হয়। লোহার বিমের গায়ে লেগে ছিল রক্ত ও মাংসপিণ্ড।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ